Monday, May 09, 2011

ফখরুদ্দীনকে ২য় দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে

ঢাবিতে সেনা-ছাত্র সংঘর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-সেনা সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৫ নং উপ-কমিটির বৈঠকে হাজির হতে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে দ্বিতীয় দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।

রোববার সংসদ সচিবালয়ের কমিটি শাখা-৭ এর সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ মাহমুদ সিদ্দিক বাংলানিউজকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, আগামী ৫ জুন সংসদীয় উপ-কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

শাহ মাহমুদ সিদ্দিক জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ চিঠি যুক্তরাষ্ট্রে ফখরুদ্দীনের ১০৮৮ ব্রিক ইয়ার্ড, পোটোম্যাক, মেরিল্যান্ড ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের কমিটি শাখা-৭ কে মন্ত্রিপরিষদ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২ মে সংসদ সচিবালয়কে এ তথ্য জানায় মন্ত্রিপরিষদ।

তবে সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের ব্যাপারে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এখনও কিছু জানায়নি বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-সেনা সহিংস ঘটনার তদন্তকারী এ উপ-কমিটি এর আগেও তাদের ৫ম বৈঠকে ফখরুদ্দীন ও মইনকে সাক্ষ্য দিতে ডেকেছিল। কিন্তু ওই বৈঠকে হাজির না হয়ে তারা দু’জনই লিখিত বক্তব্য পাঠান কমিটির কাছে।

গত ১৩ এপ্রিল মইন ও ১৬ এপ্রিল ফখরুদ্দিনের লিখিত বক্তব্য সম্বলিত চিঠি পায় কমিটি। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি কমিটি। তাই কমিটির বৈঠকে তাদের ফের তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ২৬ এপ্রিল তাদের হাজিরা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।

১৮ এপ্রিল বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উল্লেখিত সহিংস ঘটনা প্রসঙ্গে তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের এ দুই প্রধান কুশীলবের পাঠানো লিখিত বক্তব্যকে ‘অর্থহীন’ বলে মনে করছে কমিটি।

এর আগে কমিটির ৫ম বৈঠকে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গত ২৯ মার্চ সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর পৃথক দুটি চিঠি পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, এ উপ-কমিটির ৪র্থ বৈঠকে ফখরুদ্দিন ও মইনকে প্রথমবারের মতো তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর কমিটির আহ্বায়ক জানিয়েছিলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক চিফ অব জেনারেল স্টাফ সিনহা ইবনে জামালী ও তৎকালীন ডিজিএফআই কর্নেল শামস (বর্তমান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) ওরফে ছামসুল আলম খানের দেওয়া সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাদের তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ১৯ আগস্ট এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়। রাশেদ খান মেননকে আহ্বায়ক করে গঠিত ৪ সদস্যের এ উপ-কমিটিতে আরো আছেন শাহ আলম, মির্জা আজম ও বীরেন শিকদার।

এরই মধ্যে ওই সহিংস ঘটনার বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে তদন্ত কমিটি।

এদিকে, কমিটি সূত্রের ধারণা, মূলত উপ-কমিটির ‘জেরা বা জিজ্ঞাসাবাদ’ এড়াতে চাইছেন ড. ফখরুদ্দীন ও জেনারেল মইন।

আগামী ১৯ মে উপ-কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে ওই সহিংস ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রনেতাদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

সাজিদুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম