Showing posts with label পদ্মা সেতু. Show all posts
Showing posts with label পদ্মা সেতু. Show all posts

Monday, July 27, 2009

পদ্মা বহুমুখী সেতুর সঙ্গে রেলের গুরুত্ব

এস.এম গোলাম মুস্তফা
দেশ ও জাতির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু ও সমন্বিত সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা, কিন্তু পদ্মা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রাজধানীসহ মূল ভূখণ্ড হতে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ফলে এ অঞ্চলে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ আধুনিক যোগাযোগের আশানুরূপ উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি, যেমন রেললাইনসহ উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। অথচ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর (মংলা) এবং সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থল বন্দর। তাই এই অঞ্চলের সাথে রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ঢাকা-মাওয়া-খুলনা এবং বরিশাল মহাসড়কের উন্নয়ন যদি ব্যাপকভাবে করা হয় এবং পদ্মা নদীর উপর রেললাইনসহ বহুমুখী সেতু নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকাসহ মূল

Sunday, July 05, 2009

পদ্মা সেতুতে রেলপথ কেন

জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী
পদ্মা সেতুতে, যমুনা সেতুর মতোই, রেললাইনও থাকবে, ঘোষণাটা অনেক দিনের। পদ্মা সেতুর কোনো দিকেই রেললাইন নেই, এবং ভবিষ্যতে রেল যোগাযোগ কতদিন হবে, বা আদৌ হবে কি-না, বিষয়টা একেবারেই অস্পষ্ট। দেশের একজন বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার কিছুদিন আগে একটি তথ্যপূর্ণ লেখায় দেখিয়েছিলেন, বিভিন্ন দেশে যত দীর্ঘ সেতু তৈরি হয়েছে, সেগুলি কত প্রকারের, এবং বলেছিলেন, প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু কী প্রকারের হবে, বা হওয়া উচিত, সেতুতে আদৌ রেললাইন থাকার যৌক্তিকতা আছে কি-না, গভীর বিবেচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি পদ্মা সেতুর ওপর রেললাইনের যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি। সেতুর উভয় দিকে রেললাইন সংযোগ দেওয়া সহজ হবে না, অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে। বরং তাঁর বিবেচনায় পদ্মা সেতুর রেললাইন অংশটি বাদ দিয়ে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, সেটা আরিচা-পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় যে দ্বিতীয় সেতুর প্রস্তাব হয়েছে, সেইদিকে সরিয়ে নেওয়া যায়। দৌলতদিয়ার নিকটবর্তী গোয়ালন্দ পর্যন্ত রেললাইন ত' আছেই, এদিকেও ঢাকা পর্যন্ত রেললাইন টেনে আনা_ সাটুরিয়া থেকেই হোক, আরিচা থেকেই হোক_ তুলনামূলকভাবে অর্থ সাশ্রয়ী হবে।
আমি যেহেতু মাওয়া হয়ে একবার টুঙ্গিবাড়ীর পথে গিয়েছি, এবং আরিচা বা সাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পথে বহুবার চলাচলের অভিজ্ঞতা আমার আছে, আমার কাছে উক্ত বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারের যুক্তিটা গ্রহণযোগ্য, এমনকি অকাট্য মনে হয়েছে। যতদূর জানি, তাঁর লেখাটি ডেইলি স্টারে প্রকাশের পর, কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েছিল। কর্তৃপক্ষ সম্ভবত যমুনা সেতুর ফাটল প্রসঙ্গে উক্ত ইঞ্জিনিয়ার-অধ্যাপকের মন্তব্য উপেক্ষা করতে পারেননি। সেজন্য পদ্মা সেতু বিষয়ে সর্বশেষ সংবাদে দেখতে পাচ্ছি, সেতুটি দ্বিতল হবে। নিচতলায় থাকবে রেললাইন, উপরের তলায় সড়ক_ হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ কোনোমতেই পদ্মা সেতুর পরিকল্পনায়, রেললাইন বাদ দিতে চান না। যেটা জানতে ইচ্ছা হয় অথচ জানতে পারিনি। সেতুর উভয়দিকে রেললাইন টানতে হলে যে ব্যয় হবে সেই অর্থের জোগান কে দেবে, এ বিষয়ে আদৌ কোনো কথাবার্তা হয়েছে কি-না। এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা বা প্রতিশ্রুতি ছাড়া দ্বিতল সেতু, এবং রেললাইনসহ অনেকটা ঘোড়ার আগে গাড়ির মতো শোনায়।
আমি স্বীকার করছি যে, অসম্পূর্ণ সংবাদের ওপর ভিত্তি করে এ লেখা কারও কোনো কাজে দেবে না। আমি যে প্রশ্নগুলি করেছি, তার উত্তর যদি কোনো সূত্র থেকে পাই, আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ হবো। আমার একান্ত নির্ভরতা সংবাদপত্রের ওপর। চার-পাঁচটি সংবাদপত্র আমি যথেষ্ট মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকি। এ পর্যন্ত দু'দিকে রেল-যোগাযোগ বিশিষ্ট পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গে এই প্রয়োজনীয় তথ্যটি কোথাও পড়েছি বলে আমার মনে পড়ে না। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে কর্তৃপক্ষের অনেক চমকপ্রদ চিন্তার সংবাদ আমরা পাচ্ছি। কিন্তু বড়ই অসম্পূর্ণ সংবাদ।
সবচেয়ে হতাশাজনক হলো, রেলওয়ে সংক্রান্ত যে সকল আশাব্যঞ্জক সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে বিগত বছরগুলোতে, বাস্তবে, বাংলাদেশের রেলওয়ে-ব্যবস্থা এক করুণ অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘকাল যাবৎ। সড়কপথের বিস্তৃতি ঘটেছে এবং বিস্তৃতির মাত্রাও ঈর্ষণীয়। একই সঙ্গে, রেলপথের সংকোচন ও অবহেলার দৃশ্যটি দুঃখজনক বললেও যথেষ্ট বলা হয় না। চূড়ান্ত অবহেলা-অব্যবস্থাপনা-দুর্নীতির শিকার হয়েছে রেলপথ। যতগুলি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সবাই রেলপথকে অবহেলা করেছে। কেন রেলগাড়িতে চড়ব নামে একটি লেখা পড়লাম একটি দৈনিকে। কী পরিমাণ দায়িত্বহীনতা ঘিরে আছে আমাদের রেলপথ ব্যবস্থাপনায়, তার এক ভয়াবহ ছবি এঁকেছেন লেখক। খুলনা থেকে দিনাজপুর যাত্রী, তাঁর অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে। এক সময় আমি ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে রেলগাড়িতে যাতায়াত করেছি। সর্বশেষ চট্টগ্রাম-ঢাকা যাত্রা_ রাতের ট্রেনে, খুবই কষ্টকর ও হতাশাজনক_ সর্বশেষ ঢাকা-রাজশাহী যাত্রা, অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এ থেকে যে সিদ্ধান্ত টানা যায়, আমরা চাইলে রেলপথে ভালো সেবা দিতে পারি। তবে যদি না দিই, আমি কর্মচারী, আমাকে দুষবেন না। আসল দায়িত্ব যাঁর, বা যাঁদের, দুষবেন তাঁদেরকে।
আমাদের গার্মেন্ট শিল্প_ যদিও এটা শিল্পপদবাচ্য কি-না, প্রশ্ন রয়েছে, এবং একজন সাবেক অর্থমন্ত্রীর মতে, মোটেও নয়_ দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রার শতকরা পঁচাত্তর ভাগ যদি এই খাত থেকে আসে, তাহলে এর গুরুত্ব কতখানি, যে কেউ বুঝতে পারবে।
আশুলিয়ায় ক'দিন আগে একটি গার্মেন্ট কারখানা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছে একদল শ্রমিক। এই কারখানাটি সম্বন্ধে বলা হয়েছে, এর শ্রমিকরা নিয়মিত বেতন পায়, এর নারী শ্রমিকেরা বলেছে, তাদের শিশু-সন্তানদের জন্য এখানে ভালো ব্যবস্থা আছে, মালিকদের প্রতি তাদের কোনো নালিশ নেই। এটি একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরি, এখানকার শ্রমিকেরা এই অগি্নসংযোগের সঙ্গে জড়িত ছিল না কেউ। বহিরাগত একদল শ্রমিক, এবং ঝুট-ব্যবসায়ী একদল লোক এবং সেই সঙ্গে সব রকম দুষ্কর্মে হাত পাকিয়েছে, এমন কিছু লোক, এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। ওই কারখানার শ্রমিকেরা সাধ্যমতো বাধা দিয়েছে আক্রমণকারী দলকে, কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেনি। সংবাদপত্রে লিখেছে, পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখেছে, বাধা দেয়নি। আরও লিখেছে, যেসব কারখানা থেকে পুলিশ নিয়মিত টাকা পায়, সেগুলি রক্ষার দায়িত্ব তারা ঠিকই পালন করে।
যারা পুলিশকে নিয়মিত বখরা দেয় না, পুলিশ তাদের চেনে না। গুরুতর অভিযোগ।
বিশেষ করে আশুলিয়া এলাকায় এ ধরনের হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে এলাকার গার্মেন্ট-কারখানাগুলি। বলা হচ্ছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এটা করছে ইচ্ছাকৃতভাবে_ এর সঙ্গে শ্রমিকদের চাওয়া-পাওয়াজনিত ক্ষোভের কোনো সম্পর্ক নেই। এই স্বার্থান্বেষী মহল কারা হতে পারে? কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। তবে আশুলিয়া এলাকায় এত বেশি এ ধরনের অগি্নসংযোগ-ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে যে, এ সম্পর্কে একটা গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সরকার বলছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে ভবিষ্যৎ উচ্ছৃঙ্খলা থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং ইতিমধ্যেই তা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের ক্ষোভের বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত হবে না। ক্ষোভ আছে বলেই ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের উত্তেজিত করা সম্ভব হয়েছে। কারখানার মালিকরা সবাই যে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিচ্ছেন, তা হয়তো নয়।
শ্রমিকেরা যেন তাদের নূ্যনতম পাওনা পায়, সে উদ্দেশ্যে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। কিছুটা ফলপ্রসূ হয়েছিল সে উদ্যোগ। তবে মালিকপক্ষের সকলকে নিয়মনীতির পথে আনতে পারেনি বলেই জেনেছি ওই সরকার। এ সরকার, নির্বাচিত ও জনগণের সরকার, যদি এদিকে মনোযোগ দেয়, সেটা প্রশংসনীয় কাজ হবে। নির্বাচিত নতুন সংসদে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য রয়েছে, এ সংসদ সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গত দাবি-দাওয়ার প্রতি কতটা সংবেদনশীল হবে, সেটা সরকারের গৃহীত কার্যক্রমেই স্পষ্ট হবে। শ্রমিকদের অভুক্ত-অসন্তুষ্ট রেখে গার্মেন্ট শিল্প নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনবে, এটা মালিকপক্ষ নিশ্চয়ই চান না।
বাংলাদেশের দরিদ্র-বঞ্চিত নারীদের শ্রম-ঘামে এ দেশের গার্মেন্ট শিল্প তার বর্তমান অবস্থানে এসে পেঁৗছেছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় নারী এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছে। নারীর ক্ষমতায়নে এ শিল্পের বড় ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সেদিক দিয়ে এই শিল্প যাতে টিকে থাকে, আরও বিকশিত হয়, আরও উন্নত হয়, সেটা দেখা সরকারের কর্তব্য। এই শিল্পের সুবাদে বাংলাদেশের নারী আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে। এর সামাজিক মূল্য অপরিসীম।
আশুলিয়া এলাকা সম্বন্ধে আমার ধারণা, এখানে সমাজবিরোধী ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। এখানে অপরাধের চিত্রটি রীতিমতো উদ্বেগজনক। ইপিজেড ছাড়াও এ এলাকায় বেশ কিছু শিল্প গড়ে উঠেছে টঙ্গী-নয়ারহাট, টঙ্গী-আশুলিয়া সড়কগুলি বরাবর। অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ এই এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো দরকার।
হা-মীম গ্রুপের কারখানায় যে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে, সেজন্য ওই গ্রুপের মালিকপক্ষের প্রতি নেত্রীস্থানীয় অনেক ব্যক্তি সহানুভূতি জানিয়েছেন। আমিও জানাচ্ছি আমার সহানুভূতি। সকল ক্ষয়ক্ষতি জয় করে এই গ্রুপ আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। সকলের শুভেচ্ছা মাথায় নিয়ে তাঁরা নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করবেন, সন্ত্রাসের কাছে পরাজয় স্বীকার করবেন না, এ আমার প্রার্থনা, এ আমার বিশ্বাস।
লেখক : শিক্ষাবিদ

Thursday, July 02, 2009

পদ্মা সেতু নির্মাণে পাবলিক শেয়ার ছাড়ছে সরকার

পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ সংগ্রহের জন্য সরকার পাবলিক শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ শেয়ারের মাধ্যমে ৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহকরা হবে। প্রতিটি শেয়ারের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১০০ টাকা। এসব শেয়ারের লভ্যাংশ দেয়া হবে ত্রৈমাসিক হিসাবে। লভাংশের হার হবে সাধারণ ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে কিছু বেশি। শেয়ারবাজারে এসব শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করা যাবে।

সাধারণ শেয়ারের চেয়ে এ শেয়ারের পার্থক্য হলো এটি বন্ডের মতো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বাজারে থাকবে।

উল্লেখ্য, সরকার আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিভিন্ন সেবা ও পরিবহন সেক্টরে সারচার্জ আরোপের মাধ্যমে এ টাকা সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু সরকার এ পদ্ধতি বাতিল করে পাবলিক শেয়ারের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।