মুন্সীগঞ্জ টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ১২ ইউনিয়নে প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। নির্বাচনে প্রতিটি ইউনিয়নেই বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে। আগামী ১৩ জুন এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কেন্দ্র করে উপজেলার সর্বত্র এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচন কেন্দ্র করে কোনো কোনো এলাকায় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। মোটরসাইকেলে শোডাউন নিষিদ্ধ হলেও অনেক প্রার্থীকে তা করতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, দলীয় নির্বাচন না হলেও দলীয় সমর্থিত প্রার্থী থাকায় উপজেলার সব ইউনিয়নেই লড়াই হবে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে। তবে দলীয় সমর্থন ছাড়াও ব্যক্তিগত ইমেজ ও নির্বাচনী প্রচারের ফলে ভোটের অঙ্কে দু'এক প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ উপজেলায় চলছে টাকার খেলা। প্রত্যেক ইউনিয়নের ধনাঢ্য প্রার্থীরাই নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছেন। টাকা উড়াচ্ছেন দেদারসে। প্রতিদিন প্রতিটি সমর্থককে দেয়া হচ্ছে ২০০-৫০০ টাকা। নির্বাচন উপলক্ষ্যে মহিলাদের ফি একটু বেশি, মহিলা ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়ার জন্য তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সকাল থেকে রাত অবধি ভোট চেয়ে তারা পান ৫০০-৬০০ টাকা। সরজমিন উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নে গিয়ে জানা যায়, এ ইউনিয়নের উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতির সমর্থিত প্রার্থী জলিল শিকদার ভোটারদের বাড়ীতে যাওয়ার জন্য সংযোগ সড়ক তৈরি, জামা কাপড় প্রদান করছেন। ধীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী করবস্থান, মসজিদ নির্মান করে দিচ্ছেন ভোট দেওয়ার ওয়াদা করিয়ে। এছারা হাসাইল বানারী, পাঁচগাও, আড়িয়ল বালিগাও, আউটশাহী, বেতকা, কে-শিমুলিয়া, যশলং, দিঘিরপাড় সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জানা যায়, প্রার্থীরা ভোটারদের খাওয়ানো, মসজিদ মন্দিরে ফ্যান সহ নগদ টাকা প্রদান করপ্রন। বিভিন্ন প্রার্থী বিভিন্ন পন্থায় ভোটার ও কর্মীদের নিজের সমর্থনে রাখছেন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিভিন্ন চেয়ারম্যানদের কর্মীরা জানান- নির্বাচনে এবার প্রতিটি ভোট কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি হবে। স্থানীয় ভোটদের ধারনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এ উপজেলায় টাকার লড়াই হবে।
জাহাঙ্গীর আলম