Saturday, May 21, 2011

মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল রেজিস্ট্রি

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের জৈনসার পশ্চিম পাড়ার আবুল হোসেন শেখ, মৃত নরেন্দ্র লাল দাসকে জীবিত দেখিয়ে ২০০৫ সালে ৪৯২ নং দাগের, ৩২ শতাংশ জমির ৮ শতাংশ জাল দলিল করে নিজ নামে রেজিস্ট্রি ও নামজারী করেছেন । জানাযায়, নরেন্দ্র লাল দাস ১৯৬৯ সালে মারা যাওয়ার পর, তার পুত্র জীবন লাল দাস গাজীপুরের শ্রীপুর থানার বরমীতে বসবাস করেন এবং পিতার মৃত্যুর ৪ বছর পর ১৯৭২ সালে তিনিও মারা যান, জীবন লাল দাস মার যাওয়ার পর, ছেলে বাদল দাস ওরফে ওয়ারিশ সূত্রে সম্পত্তির মালিক হন। নরেন্দ্র লাল দাস ও তার ভাইদের নিকট হতে ১৯৬২ সালে নূরুল ইসলাম শিকদার ৪৯২ দাগের ৩২ শতক হতে সারে ২০ শতক জমিন খরিদ সূত্রে মালিক হন এবং বসবাস করেন।

৮ শতক জমিন আবুল হোসেন শেখ জালিয়াতি করে ২০০৫ সালে মৃত নরেন্দ্র লাল দাসকে জীবিত দেখিয়ে, জৈনসার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান আলী আলমাস মোল্লা পরিচয় পত্র নেয়, যার নং-৫৬২ তারিখ-১৪/০৯/২০০৫ ইং, যে দলিলটি বানিয়েছে সেটির নং-২৬৮০ তারিখ-২৭/০৯/২০০৫ ইং। যাকে নরেন্দ্র লাল দাস দেখানো হয়, তার ছবি দেখে এলাকাবাসী কেউ চিনে না। স্থাণীয় বয়স্ক লোকজন জানায়, আমরা যখন ছোট তখন নরেন্দ্র লালের ছেলে জীবন লাল আমাদের বড়, নরেন্দ্র লালের নাতি বাদল দাস এখন ৬০ এর কোঠায়। আবুল হোসেন শেখ জোর পূর্বক নূরুল ইসলাম শিকদারের কিছু জায়গা দখল করে নিলে, নূরুল ইসলাম শিকদার জাল দলিলের বিরুদ্ধে মামলা করে, মামলা নং-১০২/০৭। নূরুল ইসলাম শিকদার জানান, নরেন্দ্র লাল দাস কে নারায়নগঞ্জের এনায়েত নগর ইউনিয়ন বাসিন্দা দেখিয়ে আবুল হোসেন, ১৪০২ নং যে পরিচয় পত্র এনেছিলেন, নূরুল ইসলাম এনায়েত নগর ইউপিতে খোজ করে জানেন, নরেন্দ্র লাল নামে সেখানে কেউ নেই এবং কখনো ছিল কিনা তাদের জানা নেই। তখন নূরুল ইসলাম এনায়েত নগর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম এ মান্নান এর নিকট হতে ১২/০৭/০৭ ইং প্রত্যায়ন পত্র নেন সেখানে উল্লেখ রয়েছে, নরেন্দ্র লাল দাস নামে এনায়েত নগর ইউনিয়নে জানামতে কেউ নেই।

জৈনসার ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দুদু ১২/০৬/১৯৯৩ ইং ওয়ারিশ সনদ দেন নরেন্দ্র লাল দাসের নাতি বাদল দাসকে, সেখানে উল্লেখ রয়েছে বাদল দাসের পিতা মৃত জীবন লাল দাস তার পিতা মৃত নরেন্দ্র লাল দাস। এছাড়া ২০০১ থেকে ভোটার তালিকায় নরেন্দ্র লাল দাসের কোন নাম নাই। স্থাণীয় বয়োবৃদ্ধ অনেকেই জানান ৩৮-৪২ বছর হবে নরেন্দ্র লাল মারা গেছে। নরেন্দ্র লালের ৩/৪ বছর পর ছেলে জীবন লাল দাস মারা যায়। এ ব্যপারে পশ্চিম পাড়া গ্রামের জামাল নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন ২০০৫/৬ সালে সে নরেন্দ্র লালকে দেখেছে। পশ্চিম পাড়ার হানিফ শেখ বলেন তিনি ২০০৫ সালে দেখেছেন, নরেন্দ্র লাল বর্তমানে নারায়নগঞ্জে থাকে জৈনসার ইউপি চেয়ারম্যান আলী আলমাস মোল্লা নিকট নরেন্দ্র লালের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নামে এখানে কেউ নেই,তবে অনেক আগে ছিল শুনেছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাকে দেখি নাই। ২০০৫ সালে নরেন্দ্র লালকে জীবিত দেখিয়ে আপনি সনদ দিয়েছেন, এর উত্তরে আলমাস মোল্লা বলেন, আমি বেশি ব্যস্ত থাকায়, মাঝে মাঝে কিছু সনদে করে কাউন্সিলে রেখে যাই ,হয়তো সেক্রেটারী দিয়ে থাকতে পারে। এ ব্যপারে আবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায় নাই।

বিডি রিপোর্ট ২৪