Friday, November 14, 2014

শ্রীনগরে আড়াইশ বছরের পুরনো মন্দিরের জমি আত্মসাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে আড়াইশ বছরের পুরনো মন্দিরের জমি ভূমিদস্যুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য হিন্দু ধর্মের প্রায় দুই হাজার নারী পুরুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শুক্রবার বেলা এগারটার দিকে উপজেলার বাঘড়া বজার এলাকায় তারা মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মন্দির প্রঙ্গনে এসে সমাবেশ করে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা জানান, প্রায় আড়াইশ বছর আগে ঐ এলাকার ১১৮ শতক জমির উপর বাসুদেব জিও বিগ্রহের মন্দির স্থাপিত হয় । বাঘড়া এলাকার প্রায় পাঁচশ হিন্দু পরিবার সহ অন্যান্য এলাকার হাজার হাজার হিন্দু ধম্বাবলীরা এখানে তাদের ধর্মীয় কাজ করে থাকে। কিন্তু ঐ এলাকার পূজা উদযাপন কমিটির নেতা রাধ্যেশ্যাম ঘোষ মন্দিরের সেবায়েত সেজে মন্দিরের জায়গা নিজের নামে নামজারী করে নেয়। সম্প্রতি সাধারণ লোকজন মন্দির সংলগ্ন জমিতে শ্মশান ঘাট নির্মানের উদ্যোগ নিলে রাধ্যেশ্যাম ঘোষ তাতে বাধা দেন।

পরে খোজ নিয়ে দেখা যায় রাধ্যে শ্যাম ঘোষ জমিটি গ্রাস করার তিনি জমিটি স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে সাধারণ হিন্দুরা ফুসে উঠে। আশি বছরের বৃদ্ধা সুখি রানী জানান, মন্দিরে বাসুদেবের পূজা হয়। আর এই মন্দির থেকে যে ঠাকুরকে বিতারিত করতে চায় সে অমানুষ। গোবিন্দ চন্দ্র সাহা ( ৮৫) বলেন, সেবায়েত হতে হলে প্রতিদিন মন্দিরে ঠাকুরের সেবা করতে হয়। রাধ্যেশ্যাম ঘোষ ঢাকায় থাকেন। উনি কিভাবে সেবায়েত হন?

পরেশ মন্ডল জানান, এই এলাকায় আরো একটি বাসুদেব মন্দির ছিল। ঐ মন্দিরের জমি রাধ্যেশ্যামের বাবা সচি নন্দন ঘোষ সেবায়েত সেজে প্রায় এক একর পরিমান জমি রৌদ্রপাড়া এলাকার স্বরল খার কারে বিক্রি করে দেয়। বাঘড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, মন্দিরের সম্পত্তি সকল হিন্দুদের। এই সম্পত্তি কেউ একক মালিক সেজে গ্রাস করতে চাইলে তা অন্যায়।

===========

শ্রীনগরে মন্দিরের জমি আত্মসাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ: মানববন্ধন

শ্রীনগর উপজেলার বাঘরা ইউনিয়নে সেবায়েত কর্তৃক বাসুদেব মন্দীরের জমি আত্মসাতের ঘটনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গ্রামবাসী। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০ টা থেকে সাড়ে ১১ পর্যন্ত বাঘড়া বাজার সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন করে। এরপর সড়ক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বাসুদেব মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

স্থানীয় গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, আড়াইশত বছর পূরনো এই বাসুদেব মন্দিটিতে এলাকার লোকজন পূজা-আর্চনা করে আসছিল।

কিন্তু বাসুদেব জিউর মন্দির কমিটির সভাপতি রাধেশাম ঘোষ রামুন্সিগঞ্জ৩জু গোপনে মন্দিরের জায়গা আত্মসাৎ করার পরিকল্পনায় ২দাগে ৮৩ শতাংশ ও ২৩ শতাংশ জায়গা ১৮/৮/২০১৪ সনে নামজারি করে নেয়।

স্থানীয়রা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তখন আর কি করার। সরকারি আইনে আছে কোন দেবত্ব(মন্দির) সম্পত্তি কোন ব্যক্তি মালিকানা করা যায় না তাহলে কি করে নামজারি হলো। এ জেলার প্রশাসন নিশ্চুপ।

সূত্র জানায়, বৃটিশ শাসন আমলে বাসুদেব মন্দিরের ৪১১ শতাংশ সম্পত্তি ছিল। এর পর বিভিন্ন সময়ে কিছু সম্পত্তি ব্যহত হয়ে যায়। এবং বতর্মান সেবায়েত রাধেশাম ঘোষ রাজুর পিতাপূর্বে সেবায়েত থাকা কালে একশত শতাংশের উপরে সম্পত্তি বিক্রি করে।

এর পরমুন্সিগঞ্জ২ মন্দিরসহ ১১৮ শতাংশ সম্পত্তির মধ্যে রাজু ১০৬ শতাংশ সম্পত্তি নামজারি করে। এদিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শহরে অবস্থিত “জগধাত্রী মন্দির ও গোপাল আখড়া” সহ জেলার বিভিন্ন স্থানের মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে সেবায়ের ও রক্ষক চক্রের একটি মহল।

এটিএন টাইমস