মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের আড়িয়লবিলের দু’টি দিঘীতে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ বিনষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার ভোরে উপজেলার প্রাকৃতিক মাছের অভয়াশ্রম আড়িয়ল বিল এলাকার আলমপুরে এঘটনা ঘটে। এতে দিঘী দুটির মালিক নুরে আলম উজ্জ্বল ও তার চাচাতো ভাই নবু মাঝির পথে বসার উপক্রম হয়েছে।সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ছয় বিঘা আয়তনের দিঘী দুটিতে পুটি, টেংরা, মেনি, বাইম, রুই, কাতল, শোল-গজার, কৈ, শিং মাছসহ নানা প্রজাতির অসংখ্য মাছ মরে পানির উপড়ে ভেসে রয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, জাল টেনে দেখা গেছে অনেক বড় বড় মাছ মরে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মৎস চাষী উজ্জ্বল জানান, বর্ষায় পানি উঠার সাথে সাথে প্রকৃতিক ভাবে আড়িয়ল বিলে অনেক মাছ আসে। বছরের এসময়ে পানি নেমে গেলে মাছ গুলো এধরনের অগভীর দিঘীতে আশ্রয় নেয়ায় তা মাছের ভান্ডারে পরিনত হয়।
এবছর তিনি ও তার চাচাত ভাই জমি বন্ধক রেখে ৭ লাখ টাকায় এক বছরের জন্য দিঘী দুটি লিজ নেন। সারা বর্ষা যতœ করে মাছের বাতান হিসাবে তৈরি করতে তাদের আরো ৩ লাখ টাকা খরচ হয়। মৌসুমের শুরুতেই দিঘীতে বিষ প্রয়োগের ফলে মাছগুলো মরে যাওয়ায় এখন তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তিনি আরো জানান, আলমপুর জেলে সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম ও ধীরেণ সমিতির নামে দিঘী দুটি ও তাদের আরো একটি খাল লিজ নিতে না পেরে অনেকদিন ধরে শত্রুতা করে আসছে।
এনিয়ে আদালতে তাদের সাথে একাধিক মামলা চলে আসছে। রবিবার সারা রাত পাহাড়া দিয়ে উজ্জল বাড়িতে ফিরেন। পরে ভোরে তার চাচাতো ভাই দিঘীর পারে গিয়ে তাকে ফোন করে জানান দিঘীর মাছ মরে ভেসে উঠছে। উজ্জল দাবী করেন নজরুল ছাড়া একাজ আর কেউ করেনি। হাসাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান হাবীব জানান, নজরুল ও তার সঙ্গীরা বর্ষার শুরুতে উজ্জলদের ভোগ দখলকৃত খালে মাছ ধরার চেষ্টা করলে উভয়ের কাগজ পত্র দেখে তা উজ্জ্বলদের ভোগ দখল করতে বলা হয়।
এছাড়া তাদের বিরোধ দীর্ঘ দিনের। শ্রীনগর থানায় ওসি শেখ মাহবুবুর রহমান জানান, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে নজরুল ইসলামের বলেন, ‘উজ্জ্বলদের সাথে বিরোধ রয়েছে বৈকি। তবে কে বা কারা পুকুরে বিষ দিয়েছে তা আমি জানি না।”
মুন্সিগঞ্জেরকাগজ