মোজাম্মেল হোসেন সজল: মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের পদ্মাপাড়ে বয়স্কভাতা, বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষন, ক্ষুদ্র ঋণ আর এলাকার লোকদের জ্ঞান চর্চার জন্য খোলা হয়েছে লাইব্রেরি। এ থেকে এলাকার দু:স্থ মহিলারা প্রদশিক্ষন শেষে সেলাই মেশিনও ফ্রি পাচ্ছেন। এতে করে তারা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বি হয়ে উঠছেন। লাইব্রেরির মাধ্যমে এলাকার ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত ও জ্ঞান আরোহনের জন্য বই-পুস্তক বাড়িতে নিয়েও পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পড়া শেষে আবার লাইব্রেরিতে রেখে যাচ্ছেন। এসব বইয়ের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, সাধারণ জ্ঞানের বইসহ নানা ধরণের বই।মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের পূর্বরাখি গ্রামের উত্তরণ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ও উত্তরণ মহিলা সমবায় সমিতি নামে দু’টি সংগঠনের মাধ্যমে এ মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ২০০০ সাল থেকে। আর এ এনজিও দু’টি পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন পূর্ব রাখি গ্রামের প্রয়াত আব্দুল গণি বেপারীর মেয়ে ফ্রান্স প্রবাসী মমতাজ আলো। ধীরে ধীরে এ এনজিও দু’টির মাধ্যমে এলাকার অসহায়-দুস্থরা স্বাবলম্বি হয়ে উঠছেন। আর এর অর্থের যোগান ও দেশে ছুটিতে এসে তদারকি করছেন মমতাজ আলো নিজেই। তার অনুপস্থিতিতে এনজিও দু’টির পরিচালনা করছেন শিলইয়ের ৯৩ নং পূর্বরাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দিদার হোসেন। সমবায় অধিদপ্তরের আওতাধীন উত্তরণ মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর গভ: রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৯৬৭ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন উত্তরণ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার গভ: রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ০২৫১।
পরিচালক মো. দিদার হোসেন জানান, ২০০০ সালে এনজিও দু’টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর অর্থের যোগান দিয়ে আসছেন এলাকার ফ্রান্স প্রবাসী মমতাজ আলো। তিনি মাঝে মধ্যে দেশে ফিরে এর তদারকি করছেন। উত্তরণ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে বর্তমানে পূর্বরাখি ও পাশ্ববর্তী মুলচর এলাকার ৫০ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে জনপ্রতি মাসে ১৫০টাকা করে দেয়া হচ্ছে। মহিলাদের ৩-৬ মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহের ৩ দিন ( রোব, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার) সকাল ও বিকালে দুই শিফটে ১৫ জন করে ৩০ জনকে প্রদক্ষিন দেয়া হচ্ছে। যাদের প্রশিক্ষন ৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায় তাদেরকে একটি করে সেলাই মেশিন ফ্রি দেয়া হয়। আবার অনেকের কোর্স শেষ হতে ৬ মাসও লেগে যায়। কোর্স শেষ হওয়ার পরই সেলাই মেশিন ফ্রি দেয়া হয়। তাদের একবারই ভর্তি ফি (সদস্য ফি) ৩০ টাকা নেয়া হয়। এ পর্যন্ত ৩৭টি সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণার্থীদের দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মো. দিদার হোসেন জানান, পাঠাগার সদস্য ফ্রি একবার নেয়া হয়। এর ফি ৫০টাকা। এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৯৫ জন। এরা লাইব্রেরিতে বসে আবার লাইব্রেরির রেজিষ্ট্রেশন খাতায় বইয়ের নাম এন্ট্রি করে বাড়িতে নিয়ে পড়ার সুযোগ পায়। বাড়িতে নিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ১৫-৩০দিনের মধ্যে লাইব্রেরিতে বই ফেরত দিতে হয়।
অন্যদিকে, উত্তরণ মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর মাধ্যমে এলাকার সমিতির সদস্যদের ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হয়। হাঁস-মুরগী ও গরু-ছাগল পালনের জন্য ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত এ ঋণ দেয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জ বার্তা