মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী দফতরের বিশেষ বরাদ্দের আশ্রায়ন প্রকল্পের কাজের টাকা লুটপাট হয়েছে। এর ফলে এ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি মুখ থুবরে পড়েছে। এছাড়া এখানে আরো তেরটি প্রকল্পের কাজেও অনুরুপ দশা বিরাজ করছে। কাজ শুরুর আগেই প্রকল্প চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে প্রথম কিস্তির টাকা কর্তৃপক্ষ হাতিয়ে নেয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
টাকা লুটপাটের ঘটনার কারণে প্রকল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা প্রকল্পের মাষ্টার রোল দাখিল করতে পারেনি। জানা যায়, গত জুন ফাইনালকে সামনে রেখে চলতি অর্থ বছরে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে ১৩টি প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়। এর মধ্যে টঙ্গীবাড়ীর ধীপুর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর এর আশ্রয়ান প্রকল্পের ২৩৪ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়েছে।
এর বিপরীতে এর বাজার মূল্য রয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। কাজ শুরুর আগেই এ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির প্রায় আড়াই লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিব উল্লাহ তোলা হিসেবে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে টি আর প্রকল্পের আওতাধীন টঙ্গীবাড়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। নোয়াদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য ৯০ হাজার টাকা, উত্তর বেতকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত করার জন্য ৯০ হাজার টাকা, পাইকপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এর রাস্তা মেরামত করা বাবদ ৯০ হাজার টাকা, বালিগাঁও আমজাদ আলী কলেজ ভবন সংস্কার করার জন্য ৯০ হাজার টাকা, মটুকুপুর পাইক বাড়ী মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণের জন্য ৯০ হাজার টাকা, সাতুল্লা মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ বাবদ ৯০ টাকা, বিয়ানী বাজার পূর্ব পাশে পাকা ঘটলা নির্মাণ করার জন্য ৯০ হাজার টাকা, বড়াইল জামে মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ বাবদ ৯০ হাজার টাকা, বিক্রমপুর প্যাটিয়টর সোসাইটির ভবন সংস্কার বাবদ ৯০ হাজার টাকা, ও মুলচর কিন্ডার গার্টেন এর মাঠ ভরাট করা বাবদ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। প্রথম কিস্তি হিসেবে এরা সবাই ৪৫ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ টাকা তাদের কাছ থেকে উৎকোচ হিসেবে নিয়ে গেছেন। বেশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার বাবদ ১ লাখ টাকা ও হাসাইল প্রগতি সংঘের ঘর মেরামত করা বাবদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। তারাও প্রথম কিস্তি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে পান। তাদের টাকা অনুরূপ কায়দায় নিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে এসব প্রকল্পের কোন কাজ হয়নি। টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
মুন্সীগঞ্জ নিউজ