নেত্রী হবেন-এমন ভেবেছিলেন কখনো?
কই, না তো! আমার ভেতরে ওসব কোনো গুণই নেই!
তাহলে 'বদলে যাও বদলে দাও'?
চট করেই একগাল হেসে ফেললেন রোমানা। তড়িৎগতিতে বললেন, "ও, মমতা দি? ওটা তো পর্দায়। কী যে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হতে গিয়েই তো খাওয়া, ঘুম বন্ধ। এই তো সেদিন গুলশানের একটি শপিং মলে কেনাকাটা করছিলাম। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম মাঝবয়সী দুজন লোক আমাকে দেখে ফিসফিস করছেন। একজন আরেকজনকে বলছেন, 'দেখ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়িয়ে।' অন্যজন বলছেন, 'কই, ও তো রোমানা, অভিনয় করে।' তখন প্রথম জন বললেন, 'একটু সংবাদপত্র-টত্র পড়ো। রোমানা এবার পশ্চিমবঙ্গের মমতাদির চরিত্রে অভিনয় করছেন।' আমি তাঁদের দিকে ফিরে তাকাতেই তাঁরা দুজন বেশ লজ্জা পেলেন।"
আজকাল এফডিসিতেও রোমানাকে নিয়ে এমন মন্তব্য চলছে। বিশেষ করে ডাবিং থিয়েটারে তো হরহামেশা। সেদিন এফ আই মানিক তাঁর 'স্বামীভাগ্য' ছবির ডাবিংয়ে রোমানার অভিনয় দেখে বলেই ফেললেন, 'সত্যিই পি এ কাজল ভুল করেনি। রোমানা পারবে মমতার মতো চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে।' রোমানাও আবেগে আপ্লুত। আর্দ্রকণ্ঠে দোয়া চাইলেন এফ আই মানিকের কাছে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সবাই একসময় সুরে সুর মিলিয়ে বলতেন, 'ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় এসে কেউ জায়গা করে নিতে পারে না, ছোট পর্দা আর বড় পর্দার পার্থক্য অনেক।' রোমানা চলচ্চিত্রে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আগে পর্যন্ত এ রকম গলাবাজি চলেছে বেশ জোরেশোরেই। কিন্তু 'এক টাকার বউ' ছবি মুক্তি পাওয়ার পর সেসব উচ্চস্বর স্তব্ধ হয়ে গেছে। শাবনূর-শাকিবের পাশাপাশি রোমানার অভিনয় ছবিতে এনে দিয়েছিল অন্য রকম সমৃদ্ধি। ঈদে মুক্তি পাওয়া অন্যান্য ছবির মধ্যে সে বছর তো 'এক টাকার বউ'-ই সবচেয়ে ব্যবসাসফল হয়েছিল। অবশ্য এরপর যে আর কোনো চড়াই-উতরাই পার হতে হয়নি রোমানার, তা কিন্তু নয়! এই তো দুই মাস আগেও শাহাদাৎ হোসেন লিটনের 'তোমাকে ভুলব না' ছাড়া আর কোনো ছবির কাজ ছিল না; তাই বলে এভাবে বসে থাকার পাত্রী তিনি নন। বাধ্য হয়ে শুরু করলেন একটি ধারাবাহিকের কাজ। সঙ্গে একটি এক ঘণ্টার নাটকও। কিন্তু এরই মধ্যে ডাক এল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অমি-বনি কথাচিত্র থেকে। একসঙ্গেই দুটি ছবির শিডিউল চাইলেন তাঁরা। চুক্তিও করে ফেলতে চাইলেন, কিন্তু বরাবরের মতো চুপচাপ রোমানা। কোনো উৎসাহ দেখলেন না। বললেন, 'শিডিউল তো আছে, তবে আমি পাণ্ডুলিপিটা আগে দেখতে চাই। যদি অভিনয়ের জায়গা না থাকে, তাহলে আমি কাজ করব না।' বাধ্য হয়ে তাঁরা রোমানাকে গল্প শুনিয়ে তারপর চুক্তিবদ্ধ করলেন।
পাণ্ডুলিপি পড়ে ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার প্রবণতাটা বরাবরই রোমানার ছিল। আর এ কারণে সমালোচিতও হয়েছেন তিনি। অনেক ছবি থেকে স্বেচ্ছায়ও সরে গেছেন। তাই বলে কোনো আফসোস নেই। বললেন, "যদি বেছে বেছে কাজ না করে হরহামেশা কাজ করতাম, তাহলে কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো চরিত্রে কাজল দা আমাকে বেছে নিতেন না। তা ছাড়া কয়জন অভিনেত্রী আছেন, যাঁরা নিজেদের অভিনীত ছবিগুলো নিয়ে গর্ব করতে পারেন? কিন্তু আমি সেই 'এক টাকার বউ' থেকে শুরু করে 'মা আমার চোখের মণি' পর্যন্ত বলতে পারি, প্রতিটি ছবি দেখে দর্শক আমাকে নতুন করে চিনতে পেরেছেন।'
গত ৮ জুলাই রোমানার 'গরিবের ভাই' ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হরতাল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা আর মুক্তি পায়নি। তবে খুশির কথা হলো, প্রযোজক এবারের ঈদে ছবিটি মুক্তি দিতে চাইছেন। আর তাই যদি হয়, তাহলে তো রোমানাকে ঠেকায় কে! এখন যে তাঁর সুখের সময়! কারণ এখন পর্যন্ত তাঁর অভিনীত সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রই নাকি এই ছবিতে, যার প্রতিটি দৃশ্যেই দর্শকরা খুঁজে পাবেন নতুন রোমানাকে।
কালের কন্ঠ