তার মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার শিল্পী-সাহিত্যিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঢাকা থেকে কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-বন্ধুরাও ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জের ৪১ গলাচিপা কলেজ রোডের বাসায়।
শিল্পী মাহাবুব কামরানের মরদেহ সকাল ১১টায় শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। সেখানে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউট, জেলা বিএনপি সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান, পৌরসভার সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভিসহ বাংলাদেশর কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, জেলা ছাত্রলীগ, জেলা বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পাটি, জেলা উদীচীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
পরে শহরের গলাচিপা জামে মসজিদে জানাজা শেষে মাসদইর পৌর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
শিল্পী মাহাবুব কামরানের বন্ধু প্রকাশরঞ্জন বিশ্বাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চিত্রশিল্পী, কবি, অনুবাদক ও সম্পাদক মাহাবুব কামরান ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। সত্তরের দশকে তিনি কলকাতা থাকাকালে বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান। বাংলাদেশে ফিরেও বেশ কিছুকাল তিনি একই ধারার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
তিনি আরো জানান, মাহাবুব কামরান 'ছাপ' নামে একটি ছোট কাগজ সম্পদনা করতেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত ছোট কাগজ 'এক্ষণ' এর বেশ কয়েকটি প্রচ্ছদ করেন এই শিল্পী। এছাড়াও তার সম্পাদনায় চে গুয়েভারা রচনাসমগ্র ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াস স্মারক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠক অমল আকাশ জানান, চিত্রশিল্পী ও সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি পেলেও মাহবুব কামরান কাজ করেছেন চলচ্চিত্র ও নাটক নিয়ে। নির্মাণ করেন 'দেয়াল' নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এছাড়া ঋত্বিক ঘটকের 'তিতাস একটি নদীর নাম' চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কয়েক হাজার বইয়ের প্রচ্ছদ করেন। মুক্তধারার সেরা প্রচ্ছদশিল্পী পুরস্কার পান তিনবার। শিশু সাহিত্যের প্রচ্ছদ ডিজাইনের জন্য নাইজেরিয়ান বেস্ট এওয়ার্ড লাভ করেন। বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান প্রকাশনা সংস্থা অটোমান-এর শতাধিক বইয়ের প্রচ্ছদ করেন মাহাবুব কামরান। পোস্টার ডিজাইনের জন্য ডানলপ (ভারত) পুরস্কার পান।
Facebook Group
বিডি নিউজ 24