মা, মাগো, মা-আমায় বাঁচাও। ওরা আমাকে মেরে ফেলল। আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরো। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এক গৃহবধূর এমন আর্তচিৎকারে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছিল। ওই গৃহবধূর নাম রূপালী বেগম (১৮)। যৌতুকের জন্য নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। পাষ- স্বামী সোহেল তালুকদার রূপালী (২৫) যৌতুকের জন্য রূপালীর বাম হাতে ধারালো বেস্নড দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তার বাম হাতেই রয়েছে নির্যাতনের ২০-২২টি ক্ষত। এছাড়া কপালে রয়েছে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।
রূপালীর মা আকলিমা বেগম জানান, তার মেয়ে নিজের পছন্দে জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা গ্রামের মিলন তালুকদারের ছেলে সোহেলকে তালুকদারকে বিয়ে করে। তার ৪ মাসের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। মেয়ে সন্তান জন্মের পর পরই স্বামী সোহেল ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। ভালোবেসে বিয়ে করায় রূপালী বাবা-মায়ের কাছে যৌতুকের টাকা চাইতে পারছিল না। গত ৭ জুলাই রাতে স্বামীর বাড়িতে চলে অকথ্য নির্যাতন। রূপালীর বাম হাতে বেস্নড দিয়ে পোঁচ দেয়া হয়। কপালে ছুরিকাঘাত করে নির্যাতন চালায় পাষ- স্বামী। নির্যাতনে অচেতন হয়ে পড়লে ঘটনার পরদিন ৮ জুলাই সকালে স্থানীয়রা রূপালীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। রূপালীর বাবা মঞ্জিল মোল্লা দীর্ঘ দিন ধরেই প্রবাসে থাকেন। নির্যাতনের সংবাদ শুনে গত বৃহস্পতিবার ভোরে সৌদী আরব থেকে দেশে ফিরে এসেছেন তিনি। একই দিন সকালে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি থানায় রূপালীর মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এখন পর্যন্ত মামলা রুজু করেননি। এ ব্যাপারে শনিবার টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি (তদন্ত) আলিমুল জানান, এক নির্দয় স্বামীর কা- এটি। কতটা নিষ্ঠুর হলে স্ত্রীকে এভাবে বেস্নড দিয়ে পুঁচিয়ে, ছুরি দিয়ে কপালে আঘাত করে ও বুকের উপর দাঁড়িয়ে উল্লাস করতে পারে। তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।
রূপালীর বাবা মঞ্জিল মোল্লা মেয়ের পাষবিক নির্যাতনের সঠিক বিচার চান। এ ব্যাপারে পুলিশের সঠিক ভূমিকা আশা করেন তিনি।
যায় যায় দিন