সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের ছাত্র সংঘাতের বিষয়ে বক্তব্য না দিলে ফখরুদ্দীন আহমদ ও মইন উ আহমদে দায়ী করেই প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সংসদীয় উপকমিটি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠিত ওই উপকমিটির প্রধান রাশেদ খান মেনন রোববার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ দিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক গোলাম আহমেদসহ সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাক্ষ্য নেয় কমিটি।
২০০৭ সালের ওই সংঘাতের জন্য তারা ওই সময়ে সরকারের কর্ণধারদেরই দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানান মেনন।
সংসদীয় উপকমিটি কয়েকবার ডাকলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ কমিটিতে হাজির হয়নি।
মেনন জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দুজনই ইমেইলে পাঠানো বার্তায় ওই সময়ের ঘটনায় তাদের দায় অস্বীকার করেছেন।
"তবে আজ তৎকালীন ডিজিএফআই কর্মকর্তারা বলেছেন, শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশেই তখনকার ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য বিষয়টি খোলসা হতে তাদের (ফখরুদ্দীন-মইন) বক্তব্য শোনা দরকার। তারা যদি এরপরও তাদের বক্তব্য না জানায়, তবে তাদের দায়ী করেই আমরা সংসদে প্রতিবেদন দেবো", বলেন তিনি।
২০০৭ সালের ২০ অগাস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেনা সদস্য ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘষ বাঁধে। এরপর তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকসহ অসংখ্য শিক্ষার্থীকে। জারি করা হয় কারফিউ।
ওই সময়ের ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সংসদীয় কমিটি এ উপকমিটি করে। তখনকার ছাত্রনেতারা কমিটিতে সাক্ষ্যে বলেছেন, উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে ওই সংঘাত বাঁধানো হয়।