এসএসসিতে মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩৩৮ শিক্ষাথর্ীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী অডিটরিয়ামে জাঁকমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ মমতাজ বেগম এমপি। প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন ক্যামব্রিয়ান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লায়ন এমকে বাশার। আয়োজক সংগঠন আফসার পারম্নল ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও প্রেসক্লাব সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক দৈনিক যুগানত্মরের সিনিয়র সাব এডিটর আশরাফুল আলম পিন্টু, পিপিআই রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মেজর ইয়ার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম খান, প্রফেসর আনোয়ারম্নল হক, অধ্যক্ষ কামরম্নজ্জামান, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ও হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ। প্রধান অতিথি বর্তমান সরকারের বাসত্মবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিসত্মারিত তুলে ধরে বলেন, মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি সম্ভব। সভার শুরম্নতেই গান ও নাচ দিয়ে মেধাবীদের বরণ করে নেয়া হয়।
জনকন্ঠ
-----------------------------
মুন্সীগঞ্জে যুগান্তর-ক্যামব্রিয়ান কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সাড়ে ১০টা। জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ। জেলার ৩২৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক তাদের নির্দিষ্ট আসনে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। ইতিমধ্যে মিলনায়তনটি শিক্ষর্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এক এক করে আসতে শুরু করেছেন অতিথিরা। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। শিশুশিল্পী অথৈ ও অংকিতার নৃত্য মুগ্ধ করে সবাইকে। এরপর ডিজিটাল ক্যামব্রিয়ান থিম সং পরিবেশন করেন ক্যামব্রিয়ান কলেজের সাবেক ছাত্র সাহস মোস্তাফিজ।
যুগান্তরের সিনিয়র সহ-সম্পাদক তরিক রহমানের ডিজিটাল ক্যাম্পাস শিক্ষায় আইটি ব্যবহার এবং ল্যাপটপে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা প্রদানের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ মমতাজ বেগম। প্রধান আলোচক ছিলেন বিএসবি ফাউন্ডেশন ও ক্যামব্রিয়ান কলেজের চেয়ারম্যান লায়ন এমকে বাশার। নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল ইসলাম খান, প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মেজর ইয়ার মোঃ মোর্শেদ আলম, কিংস কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আনোয়ারুল হক, মেট্রোপলিটন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ কামরুজ্জামান, যুগান্তরের সিনিয়র সাব-এডিটর আশরাফুল আলম পিনটু ও মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আলহাজ মমতাজ বেগম বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার হলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশ দরিদ্র, এ দরিদ্র দেশে রাতারাতি সবকিছু শরা সম্ভব নয়। আমার নেত্রী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছেন তা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে। আমাদের ভিশন ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করব, আর এজন্য আজকের এ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে। প্রধান আলোচক লায়ন এমকে বাশার তার দীর্ঘ আলোচনায় ডিজিটাল শিক্ষা কি?
ল্যাপটপে কিভাবে শিক্ষা নেয়া যায় এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা স্কুল পেরিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছ, নদীর আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে সমুদ্রে যাবে তাই তোমাদের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা যে স্বপ্ন দেখছি বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করব তা বাস্তবায়ন করতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ল্যাপটপের মাধ্যমে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছি তাতে করে বিশাল ওজনের বই কাঁধে নিয়ে আসতে হবে না। লায়ন এমকে বাশার বলেন, দিন দিন ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে আমরা সুন্দর ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে পারি না। তিনি বলেন, চার দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষকদের ছেড়ে দিয়ে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা সফল যাবে, তার চেয়ে কয়েক লাখ টাকায় ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করে ভালোভাবে শ্রেণী কার্যক্রম চালানো যায় কিন্তু সরকার তা করবে না। কারণ তখন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া যাবে না।
মেজর ইয়ার মোঃ মোর্শেদ আলম বলেন, যারা এ প্লাস পেয়েছ তাদের এটা যেন শেষ এ প্লাস না হয়। এজন্য ভালো কলেজে ভর্তি হতে হবে। আমরা যা করতে পারিনি ক্যামব্রিয়ান কলেজ ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করে তা প্রশংসার দাবি রাখে। আশরাফুল আলম পিনটু মেধাবী শিক্ষার্থীদের যুগান্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি ও নির্বাহী সম্পাদক সাইফুল আলমের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, যুগান্তর শুধু একটি পত্রিকাই নয় যে পাঠকদের সংবাদ পরিবেশন করবে। এর পাশাপাশি মেধা বিকাশে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অগ্রণী ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। তানভীর হাসান বলেন, যুগান্তর ইতিমধ্যে পাঠকদের কাছে সমাদৃত হয়েছে, তারা ডিজিটাল ক্যাম্পাস বা শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। পরে অতিথিরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পদক পরিয়ে দেন এবং ক্যামব্রিয়ান কলেজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করেন।
যুগান্তর