Monday, May 23, 2011

সিরাজদিখানে ধর্ষিত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী অন্তসত্ত্বা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের সন্তোষপাড়া গ্রামের ধর্ষিত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী লক্ষী রানী এখন ৭ মাসের অন্তসত্ত্বা। কিন্তু ধর্ষকদের আত্মীয়-স্বজনদের অব্যাহত হুমকিতে কিশোরীর পরিবারটি এখন আতঙ্কে রয়েছে। ধর্ষণ ঘটনায় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে লিটন নামের এক ধর্ষকের মৃত্যুতে পাল্টাপাল্টি মামলা হওয়ায় পরিস্থিতি ঘোলাটে রূপ ধারণ করেছে। ফলে ওই কিশোরীর ন্যায় বিচার পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, সিরাজদিখান উপজেলার সন্তোষপাড়া গ্রামের কমল চন্দ্র দাসের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী লক্ষী রানী দাসকে প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমির হোসেন ও লিটন নামের ২ লম্পট একাধিকবার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে সে গর্ভবতী হয়ে পড়লে গত ২৭ ফেরুয়ারি বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়। এতে গ্রামবাসী ধর্ষকদের আটক করার পর স্বীকারোক্তি পেয়ে গণপিটুনি দিলে ধর্ষক লিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় ২টি মামলা দাযের করা হয়। একটি লক্ষীর মা শ্রী কমল পাটনী বাদী হয়ে অভিযুক্ত দু’জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের এবং অপরটি মৃত লিটনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। তবে গ্রামবাসী মনে করেন, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও সুহারা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

লক্ষী রানীর পিতা কমল চন্দ্র দাস জানান, বর্তমানে লিটন ও আমীরের আত্মীয়-স্বজনরা মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এতে ভয়ে বাড়িতেই জিম্মি অবস্থায় রয়েছি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তার কুমারী মেয়ে বাচ্চা নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?। সমাজ এটাকে কিভাবে গ্রহণ করবে? এ ঘটনার কি কোনো বিচার পাব না?

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান জানান, দায়ের হওয়া মামলা দু’টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ধর্ষণ মামলার অপর আসামি আমীর হোসেনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। লিটন হত্যা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্দোষ কাউকে এই মামলায় জড়ানো হবে না। ঘটনার সাথে জড়িতরাই কেবল চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হবে।