রবি আবাদ নিয়ে শঙ্কামীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল: কোন প্রকার নিয়মনীতি না মেনে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রাখায় চলতি রবি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের দুইটি উপজেলায় এবার রবি ফসল আবাদ ব্যাহত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০ হাজার হেক্টর জমি থেকে পানি সরে না যাওয়ায় কৃষকরা এবার তাদের জমিতে রবি ফসলের চাষাবাদ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে এ মৌসুমে দেশের প্রধান আলু উৎপাদনকারী এলাকা মুন্সীগঞ্জে আলুর চাষাবাদ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নতমানের বীজ সঙ্কট আলু চাষাবাদে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ অঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে লৌহজং ও সিরাজদিখান এলাকার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমি জলাবদ্ধ হয়ে পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফলে সময়মতো পানি সরে না যাওয়ায় এ দুইটি উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর কৃষি জমিতে এবার রবিশস্য চাষাবাদ ব্যাহত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় এখনও এসব জমি থেকে পানি সরানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে ধরনা দিলেও পানি নিষ্কাশনে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না তারা।
জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করে খাল-বিল, নদী-নালা ভরাট করাকেই মূলত দায়ী করছেন কৃষক।
রবি মৌসুম শুরু হলেও এবার সময়মতো রবিশস্য চাষ করতে না পারায় মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের এ অঞ্চলের কৃষকের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল আলু রোপণের মৌসুম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের কাজিরগাঁও, খলাপাড়া, খেতেরপাড়া, বাসুদিয়া, পিংরোনালি, রসুলপুর, রামদি, শুভরিয়া, ফুলকুচি, মালনি, মিঠুসার, রসকাঠি, নরসিংহপুর, কলাবাগান, নয়াবাড়ি, খিদিরপাড়া, বংখিরা গ্রাম এবং গাঁওদিয়া ইউনিয়নের হারিদিয়া, রানাদিয়া, আপর, বনসেমন্ত, বুড়দিয়া, গোলতলী, ঢুলুগাঁও গ্রাম, কলমা ইউনিয়নের বাসিরা, বিইল, ডহরী, কলমা গ্রাম, বৌলতলী ইউনিয়নের পয়সা, মাইজগাঁও, নওপাড়া, শুরপাড়া, আটিগাঁও, দারারহাট গ্রাম, কনকসারের নাগেরহাট, সিংহেরহাটি, মসদগাঁওসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় এক-তৃতীয়ংশ কৃষি জমি জলাবদ্ধতার কারণে এখনও আবাদযোগ্য হয়ে ওঠেনি। নাগেরহাটের আলু চাষী মোঃ ফিরোজ জানান, বর্তমান সময়টা রবি চাষাবাদের মৌসুম হলেও বেশিরভাগ কৃষি জমি জলাবদ্ধ থাকায় চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে হতাশা দেখা দিয়েছে আলু, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন প্রকার ডালের চাষাবাদ নিয়ে। নাগেরহাটের আরেক আলু চাষী সুনিল সরকার জানান, তিনি প্রতি বছর প্রায় ৪ একর জমিতে আলু চাষ করেন। এ বছর ভাল আলুর বীজের অভাবে তাঁর আলু চাষাবাদ ব্যাহত হতে চলেছে। ডিলারের কাছে গিয়েও আলুর বীজ সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি।
জনকন্ঠ