Friday, November 07, 2014

মুন্সীগঞ্জের পাটি কারিগররা ঐতিহ্য ধরে রেখেছে

শেখ মো. রতন: হাজার বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে মুন্সীগঞ্জের পাটি প্রস্তুতকারীরা। মুন্সীগঞ্জ পাটি উৎপাদনের জন্য এখনও বিখ্যাত। কল-কারখানায় তৈরি চাদরের যুগেও গ্রামগুলোতে পাটির প্রচলন রয়েছে, আছে কদরও। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে পাটির চাহিদা বাড়ে।

জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাপুর আখড়া বাজারে প্রতি রোববার পাটির হাট বসে। জেলার সবচেয়ে বড় হাট এটি। এখানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা পাটি কিনতে আসেন। এ হাটে পাটির বিক্রি হয় ভোর থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত। প্রতি হাটবারে লক্ষাধিক টাকার পাটি বিক্রি হয়। এখানে বিভিন্ন ধরনের পাটি পাওয়া যায়, যেমন : শীতল পাটি, নকশি পাটি ও সাধারণ পাটি। শীতল পাটি দাম সাধারণ পাটির চেয়ে প্রায় তিন গুণ।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলা ও সিরাজদিখান উপজেলার কয়েকটি গ্রামে এখনও পাটি তৈরি করে কয়েকটি পরিবার। সদর উপজেলার সুয়াপাড়া গ্রামে, টঙ্গীবাড়ির পাইকপাড়া, বাঘিয়া ও কামাড়খাড়া এবং সিরাজদিখান উপজেলার ভাটিমভোগ, বয়রাগাদি, তালতলার পাশের আরমহল গ্রামের কারিগররা এখনও এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। যদিও কালের পরিক্রমায় সুতা তৈরির কল-কারাখানার দাপটে অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।

টঙ্গীবাড়ির আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের পাইট্টাল বাড়ি এ অঞ্চলে সবচেয়ে পাটি উৎপাদনকারী এলাকা। পাইটাল বাড়ির ঐতিহ্য কয়েকশ বছরের। বংশ পরম্পরায় ৪০০ বছর ধরে তারা পাটি উৎপাদন করে আসছে। এখানে বর্তমানে রয়েছে ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার। এরা সকলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের। পাটি তৈরির সঙ্গে জড়িত মানুষের সংখ্যা চার শতাধিক।

সরেজমিনে জানা গেছে, একটি সাধারণ পাটি তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩০০ টাকা। বিক্রি হয় ৪১৫ টাকায়। মূত্রা গাছ থেকে পাটি তৈরি করা হয়। মূত্রা গাছ থেকে পাওয়া যায় বেতি, আতি ও বুকা। বেতি থেকে পাটি তৈরি করা হয়। আর আতি ব্যবহার হয় পানের বিড়াসহ বিভিন্ন ধরনের মুদি সদাই বাধার কাজে। বুকা লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ মূত্রা গাছ আনা হয় বৃহত্তম সিলেট বিভাগের গারালঘাট অঞ্চল থেকে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও এ মূত্রা কিনে থাকেন পাটি প্রস্তুতকারীরা।

পাটি সাধারণত চার মাপের হয়ে থাকে। ৪/৫হাত, সাড়ে ৩/সাড়ে ৪ হাত, ৩/৫ হাত, সাড়ে ৩/আড়াই হাত মাপের পাটি প্রস্তুত করা হয়। আর শীতল পাটি সাধারণত অর্ডার পেলে তারা বানিয়ে দেন। একটি শীতল পাটি তৈরি করতে কমপক্ষে ৮০০ টাকা খরচ হয়। তা বিক্রি করা হয় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। আর বিক্রি হয় ১০০০ টাকা মণ দরে।

রাইজিংবিডি