নিউ ইয়র্কে সেমিনারে ইমদাদুল হক মিলননন্দিত কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেছেন, 'বাংলাদেশে সৎ সাংবাদিকতা, সাহসী সাংবাদিকতা এবং সরকারকে ধাক্কা দেওয়ার মতো সাংবাদিকতা দেখেছি। কিন্তু আজকের দিনে সেই সাহসী সাংবাদিকতা আর পাই না। কোথায় যেন ভাগ হয়ে গেছে। সর্বত্রই একটা বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। আর এটাই আমাদের সমাজের জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল সাংবাদিকরাই পারেন দেশের চেহারা বদলে দিতে। এ জন্য বিভেদ ভুলে সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা খুবই জরুরি।'
নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় নিউ ইয়র্কে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত 'বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংবাদপত্র' শীর্ষক এক সেমিনারে অতিথির বক্তব্যে কালের কণ্ঠ সম্পাদক এসব কথা বলেন।
ইমদাদুল হক মিলন বলেন, কাউকে খোঁচা দিতে হলে একটি আঙুলের প্রয়োজন পড়ে। আর কাউকে ধরাশায়ী করতে হলে পাঁচটি আঙুল দিয়ে ঘুষি মারতে হয়। এই পাঁচ আঙুলের সঠিক ব্যবহার করতে পারলেই সমাজের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক দুজনেই তাঁদের বিবেক নিয়ে কাজ করেন। সমাজ তথা রাষ্ট্র বিনির্মাণে তাঁরা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে থাকেন। যখন সাংবাদিক ও সাহিত্যিকরা বিভিন্ন দলের হয়ে ভাগ হয়ে যান, তখন ব্যাপারটা ভালো মনে হয় না। বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকাটা জরুরি। সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্য থাকলে সমাজের অনেক ক্ষতি হয়।
জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিক বলেন, একাত্তরে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু যখন দেখি মুক্তিযোদ্ধারা দুভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছেন, তখন ভাবি- এই বুঝি দেশের সর্বনাশ হয়ে গেল। কিংবা যখন দেখি শিক্ষকরা দুভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছেন, তখন ভাবি- দেশে সর্বনাশ হয়ে গেছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এমনটা কখনোই আশা করি না।
তিনি বলেন, 'সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক, তবে এখন তা অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা একটি বিচিত্র সমাজে বসবাস করছি। বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার জন্য আমাদের কিছু সৃজনশীল, কিছু সাহসী মানুষ দরকার। সেই কাজটি করতে পারেন আমাদের সাংবাদিকরা।'
সেমিনারের অন্য অতিথি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, বাংলাদেশের সাহিত্য এবং সাংবাদিকতা দুটি বিষয় গভীরভাবে জড়িত। নানান মত এবং পথ থাকবে কিন্তু দেশের সংবিধানের এবং চেতনার সঙ্গে কোনো বিরোধ থাকবে না।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক নাজমুল আহসান। সেমিনার পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এটিএন বাংলার যুক্তরাষ্ট্র কার্যালয়ের বার্তা সম্পাদক দর্পণ কবীর এবং প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ। অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনকে প্রেসক্লাবের স্মারক কোটপিন পরিয়ে দেন মীর ই ওয়াজিদ শিবলী। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজামকে কোটপিন পরিয়ে দেন রিজু মোহাম্মদ।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের, সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক আহমেদ মূসা, কলামিস্ট বেলাল বেগ, সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের, ঠিকানা পত্রিকার সম্পাদক লাবলু আনসার, এখন সময় পত্রিকার সম্পাদক কাজী শামসুল হক, সাংবাদিক আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু, শরীফ শাহাবুদ্দিন, মুজাহিদ আনসারী, মীর শিবলি, তাওহিদুল ইসলাম, সঞ্জীবন কুমার, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ।
কালের কণ্ঠ