মুন্সীগঞ্জের চর মুক্তারপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার ধলেশ্বরী নদী থেকে করবুলেরনেছা (৬৫) নামের আরো এক মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনো ১০ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ থাকা যাত্রীদের স্বজনরা নিজ উদ্যোগে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। লঞ্চডুবির কারণে ঘটানাস্থলে শোকের মাতম চলছে। এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দিনভর স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ এম ভি মদিনার আলো থেকে উদ্ধার হওয়া ৮ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে নিহত ইব্রাহিম পাটোয়ারী, সুরজ, রিপা, মনোয়ারা বেগম, মনু মিয়া, শাকিল ও নববধু দ্রুপ্রীতি রানীর লাশ পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় স্বজনদের আহজারিতে পুরো হাসপাতাল এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এদিকে বুধবার রাত দেড়টায় উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম গভীর পানির নিচ থেকে লঞ্চটিকে পাড়ে উঠাতে সক্ষম হয়। পরে রাত ২টায় উদ্ধার কাজ সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ঘটনার তদন্তে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বুধবার রাতে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর ও আজ বৃহস্পতিবার বিআইডব্লিউটিএ অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মিয়া জানান, ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ'র পক্ষ থেকে অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে মুন্সীগঞ্জ সদর ও বন্দর থানা পুলিশের ৩টি টিম শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীতে সকাল থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরো জানান, লঞ্চ ডুবির ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এরপরই তেলবাহী জাহাজের সুকানী মিজানুর রহমান ও মাস্টার ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় মতলব থেকে নারায়ণগঞ্জগামী 'এম ভি মদিনার আলো' নামের লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের চরমুক্তারপুরের শীতলক্ষ্যা নদীতে তেলবাহী জাহাজের ধাক্কায় নদীতে ডুবে যায়। রাত ২টায় উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম লঞ্চটি উদ্ধার করে।