স্কুলে পড়ার সময় শিবলী মহম্মদের কাছে নাচের ওপর তালিম নিয়েছিলেন শায়না। পুরো নাম তাঁর শায়না আমিন।
নাচটা পুরোপুরি শেখা হয়নি তাঁর। টিভিসেটের সামনে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র দেখে শায়নার খুব ইচ্ছে হতো বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করার। কিন্তু কীভাবে সম্ভব?
একদিন ফটোশেসন করতে শায়না গেলেন ইকবাল আহমেদের কাছে।
ছবি তোলার পর ইকবাল আহমেদ শায়নাকে বললেন, ‘তোমার মুখটা ছবিতে খুব সুন্দর আসে। তুমি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে তোমার ছবি দিয়ে রাখতে পারো।’
কিন্তু শায়না যে কাউকে চেনেন না।
ইকবাল আহমেদ ঠিকানা দিয়ে দিলেন তাঁকে।
শায়না একাধিক বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে ছবি পাঠিয়ে দিলেন।
তারপর একে একে শায়নার ডাক এল। পরিচয় হলো নির্মাতাদের সঙ্গে।
ছবিয়ালের ভাইবেরাদারের রাজীব আহমেদের সঙ্গে পরিচয় হয় শায়নার।
মেহেরজান চলচ্চিত্রের জন্য রুবাইয়াৎ তখন নায়িকা খুঁজছেন। রাজীব রুবাইয়াৎকে শায়নার সন্ধান দিলেন।
তারপর দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে গেল।
মেহেরজান মুক্তির পর শায়না সবার দৃষ্টি কেড়ে নিলেন। ছবিটি মাত্র এক সপ্তাহ প্রদর্শিত হলেও শায়না তাঁর আলো ঠিকই ছড়িয়ে দিলেন।
শায়না এর পরে আরও দুটি চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের মাসুদ আখন্দ পরিচালিত পিতা এবং নার্গিস আক্তার পরিচালিত পুত্র এখন পয়সাওয়ালা ছবি দুটির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন শায়না।
সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
শায়না বলেন, ‘মেহেরজান ছিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালের একটি ছবি। সেখানকার আবহ ছিল একরকম, পিতা অন্য রকম গল্পের একটি চলচ্চিত্র। এ সিনেমার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ। একটি ভালো চলচ্চিত্র হিসেবেই এটি সবার কাছে বিবেচিত হবে। আমাকে অনেকেই বলেন, তুমি এবার বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করো। আমি সে হিসেবেই নার্গিস আপার ছবিটি হাতে নিলাম। এখানে অনেক মজা করে কাজ করছি আমরা। ভালো লাগছে কাজ করে।’
শায়না কি চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করবেন?
শুধু বাহবা অথবা পর্দায় উপস্থিতির জন্য শায়না কাজ করতে চান না। ‘যে ছবির গল্পে ভালো অভিনয়ের সুযোগ থাকবে, সেখানেই আমি কাজ করব। শুধু সিনেমায় দু-চারটি গান আর কয়েকটি দৃশ্যের নামসর্বস্ব নায়িকা হতে চাই না।’ শায়না বললেন।
শায়না এখন যেসব ছবিতে অভিনয় করছেন, তার পাশাপাশি কি বাণিজ্যিক ছবিতেও অভিনয় করবেন?
শায়না এখানেও একটু কৌশলী। তিনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনোটিই বলেননি। বললেন, ‘যদি গল্প পছন্দ হয়, যদি পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগে, তবে কাজ করব। আসলে আমি এখন ভালো অভিনয়ের সুযোগ খুঁজছি। অভিনয়শিল্পী হওয়ার চেষ্টা করছি।’
বড় পর্দার পাশাপাশি শায়না ছোট পর্দায়ও কাজ করছেন। আসছে ঈদে তিনি বিশেষ নাটকে কাজ করার কথাও চূড়ান্ত করেছেন। ‘আমার কাছে ছোট বা বড় পর্দা কোনো ব্যাপার না। আসল কথা হচ্ছে, অভিনয়টা ভালোভাবে করার সুযোগ পাচ্ছি কি না।’
অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত মীন জাতিকার শায়না পড়াশোনা এখনো শেষ করেননি। লালমাটিয়া মহিলা কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জানালেন, অভিনয়, মডেলিং যা-ই করুন না কেন, পড়াশোনাটা ঠিকমতোই শেষ করতে চান তিনি।
প্রথম আলো