তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে বর্তমান প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আ. মজিদ মিয়াকে ধরাশায়ী করেন। দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে বিএনপি নেতা আ. মজিদ মিয়া পেয়েছেন ৩৭০১ ভোট। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থক এই সানজিদা আক্তার জোৎস্নার প্রাপ্ত ভোট ৩৯৬৩। ভোটের আগে যেভাবে চষে বেড়িয়েছেন। এখন চেয়ারম্যান বিজয়ী হওয়ার পর ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চলেছেন। তাঁর সাথে দল বেঁধে যাচ্ছে নারী কর্মীরাও। গৃহিনী সানজিদা আক্তার জোৎস্না জানান, শুধু নারীর অধিকার নয়, সকল ইউনিয়নবাসী অধিকার সুপ্রতিষ্ঠি এবং চেয়ারম্যান হিসাবে যেসব দায়িত্ব রয়েছে তা যথাযথভাবে পালনে নিজেকে আত্ম নিয়োগ করবেন। তিনি বলেন, “এখন দায়িত্ববোধ বেড়ে গেলো। কে কাকে ভোট দিয়েছেন, কে কোন দলের তা নয় সকল এলাকার এবং সকল ইউনিয়নবাসীর জন্য কাজ করবো।” ধলেশ্বরী তীরের ঐতিহ্যবাহী মালখানগরে রয়েছে বুদ্ধ দেব বসু ও মানিক বন্দোপধ্যায়ের স্মৃতি। ঐতিহ্য সুরক্ষা এবং সুবজের মিলন মেলা এই জনপদটির জন্য আমি কিছু করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবো।
পার্শ্ববর্তী টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আউটশাহী গ্রামের সন্তান সানজিদা আক্তার জোৎস্না। স্বামীর বাড়ি মালাখানগরের কাজীরবাগ গ্রামই এখন নিজের গ্রাম। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী তিনি। একমাত্র কন্যা সিনথিয়া মহিউদ্দিন বাধঁন ব্যবস্থাপনায় অনার্স শ্রেণীতে পড়ছে। বড় ছেলে আনিসুর রহমান রিয়াদ স্পেনের বার্সিলোনায় ‘এ’ লেভেলে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। ছোট ছেলে ছাতোয়ান আহম্মেদ রিফাত অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র। তাঁর স্বামী মহিউদ্দিন আহম্মেদ সিরাজদিখান উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান।
এই ইউনিয়নটিতে বিগত নির্বাচনে প্রভাব ও জোর জুলম হলেও এবার ছিল একবারেই উল্টো। প্রভাবমুক্ত এবং উৎসব মুখরভাবে নারী পুরুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। এবার এখানে এক রকম ভোট উৎসব হয়েছে। এতে সাধারণ ভোটার বেজায় খুশি। মালখানগরের মো. বাহাউদ্দিন বলেন, এবারে নির্বাচন এই অঞ্চলের জন্য মডেল হয়ে থাকবে। নারী ভোটার মাসুদা আক্তার বলেন, “সব সময়তো পুরুষরাই নেতৃত্ব দেন, এবার নারী চেয়ারম্যান হওয়ায় আমি অনেক খুশি।” এই নির্বাচন নিয়ে কোন প্রার্থীরও অভিযোগ নেই। জনগণের রায় মেনে নিয়ে সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
মুন্সিগঞ্জ নিউজ