Thursday, July 07, 2011

শীতলক্ষ্যায় ডুবে যাওয়া লঞ্চসহ ৯ লাশ উদ্ধার: তদন্ত কমিটি গঠন

মুন্সিগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে আল মদিনার আলো নামের ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ২টায় উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ডুবন্ত লঞ্চ আল মদিনাকে উদ্ধার করে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে আরও এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট লাশের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯টিতে।

সকালে মুন্সিগঞ্জের চর মোক্তারপুরের শাহ সিমেন্ট কারখানার কাছে নদীতে ওই নারীর লাশ ভেসে উঠলে পুলিশ তা উদ্ধার করে।

লাশ ময়না তদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

এদিকে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুণ অর রশিদ বাংলানিউজকে জানান, উদ্ধারকৃত ৮ লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। লাশগুলো মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

তারা হলো মতলবের কালীপুরা গ্রামের মনোয়ার বেগম (৪৫), মতলব উত্তর ষাটনল এলাকার সুরুজ মিয়া (৪০) ও তার ছেলে শাকিল (১২), মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুর এলাকার দুর্গতি রাণী বর্মণ (২৮), মতলবের বুলবুল লালপুর গ্রামের রিপা (১৮), মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলম পাটোয়ারী (৩৫)।

এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখনো কেউ নিখোঁজ রয়েছে কী না তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি ওসি হারুণ অর রশিদ।

তিনি জানান, ঘটনাটি মূলত মুন্সিগঞ্জ সদর থানা এলাকায়। মুন্সিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনা ও লাশের তদারকি করছে। তবে কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীতে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু লোকজন তল্লাশী চালাচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত কোন অভিযান চলছে না।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জের উপ পরিচালক আহসান কবির বাংলানিউজকে জানান, লঞ্চ ডুবির পর বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনীর লোকজন শীতলক্ষ্যা নদীতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। লঞ্চটি ডুবির পর একজন ও পরে লঞ্চ থেকে আরো ৭ জনের লাশ উদ্ধার করে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের ঊর্ধ্বতন উপ পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, লঞ্চ ডুবির ঘটনায় অধিদপ্তরের নিরীক্ষা বিভাগের প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, যাত্রীবাহী লঞ্চটিকে ধাক্কা দেওয়া জ্বালানি তেল বহনকারী জাহাজ ওটি শীতলক্ষ্যা (শীতলক্ষ্যা ফ্লোটিং পাম্প) ও এর তিন কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় লঞ্চ ডুবির পর বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নেভি সদস্যরা নদীতে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশী শুরু করে। একই সময়ে তারা লঞ্চটি শনাক্ত করার চেষ্টা করে।

রাত সাড়ে ১০টায় লঞ্চটি শনাক্ত করার পর প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত ২টায় উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ডুবন্ত লঞ্চ আল মদিনাকে উদ্ধার করে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নিতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন যাত্রী পরিবহন সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জোনের সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বাংলানিউজকে জানান, বিকেল সাড়ে তিনটায় যাত্রীবাহী লঞ্চ মদিনার আলো চাঁদপুর জেলার মতলব মাছুয়া বাজারঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সন্ধ্যা ৭টায় চর মোক্তারপুর ও মদনগঞ্জ শান্তিনগরের মাঝামাঝি মেট্রোসেম সিমেন্ট কারখানার কাছে জ্বালানি তেলবহনকারী ট্যাঙ্কার ওটি শীতলক্ষ্যা ওই লঞ্চটিকে ধাক্কা দিলে তা ডুবে যায়।

তিনি জানান, লঞ্চটিতে ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিল।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
------------------

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চ ডুবি, আরো ১ লাশ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জের চর মুক্তারপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় করবুলেরনেছা (৬৫) নামের আরো এক মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ধলেশ্বরী নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে উদ্ধারকৃত লাশের সংখ্যা দাড়ালো ৯। এছাড়া আরো লাশ ভেসে উঠার পর তা উদ্ধারের লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর ও বন্দর থানা পুলিশের ৩টি টিম শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদী চষে বেড়াচ্ছে। এখনো ৭ থেকে ৮ জন নিঁখোজ রয়েছে।

অন্যদিকে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ এম ভি মদিনার আলো থেকে উদ্ধার হওয়া ৮ জনের লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে নিহত ইব্রাহিম পাটোয়ারী, সুরজ, রিপা, মনোয়ারা বেগম, মনু মিয়া, শাকিল ও নববধু দ্রুপ্রীতি রানীর লাশ পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় স্বজনদের আহজারিতে পুরো হাসপাতাল এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এদিকে বুধবার রাত দেড়টায় উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম গভীর পানির নিচ থেকে লঞ্চটিকে পাড়ে উঠাতে সক্ষম হয়। পরে রাত ২টায় উদ্ধার কাজ সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ঘটনার তদন্তে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বুধবার রাতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর ও আজ বৃহস্পতিবার বিআইডবিস্নউটিএ অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বিআইডবিস্নউটিএ'র চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মিয়া জানান, ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। এছাড়া বিআইডবিস্নউটিএ'র পক্ষ থেকে অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে বিআইডবিস্নউটিএ ঘাট থেকে পুলিশ এ দুর্ঘটনার সাথে জড়িত ট্যাংকার এমভি শীতলক্ষ্যার সুকানি মিজানুর রহমান ও মাস্টার ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।

শীর্ষ নিউজ
------------------