বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান দুই কুশীলব ফখরুদ্দীন আহমেদ ও মঈন উ আহমেদকে কমিটির সামনে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য আরও একবার দেওয়ার সুযোগ দেবে সংসদীয় কমিটি। সেইসঙ্গে ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় তাদের দায়ী করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার কাজও শুরু করছে শিক্ষা মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৫ নং উপ কমিটি।
মঙ্গলবার উপ-কমিটির ৮ম বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এ কথা জানান।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিজেদের ৪র্থ বৈঠকে ফখরুদ্দীন ও মইনকে প্রথমবারের মতো তলব করে এই উপ-কমিটি। গত ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ৫ম বৈঠকে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই দুই কুশীলব কমিটিতে হাজির না হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের লিখিত বক্তব্য পাঠান।
কমিটি তাদের ওই বক্তব্য গ্রহণ না করে `অর্থহীন` মন্তব্য করে গত ৫ জুনের ৭ম বৈঠকে তাদের আবারো তলবের সিদ্ধান্ত নেয়।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কমিটি যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে তাতে এটা প্রমাণ হয় ওই ঘটনার জন্য তারাই দায়ী। রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা না গেলেও তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছিলো।’
কমিটির আহ্বায়ক আরো বলেন, ‘তারা কমিটিতে না এসে যে বক্তব্য দিয়েছিলো তা গ্রহণযোগ্য নয়। এখনও সুযোগ আছে। তারা চাইলে আবারো তাদের বক্তব্য দিতে পারে।’
মেনন বলেন, ‘আমরা সবার বক্তব্য শুনেছি। সেইজন্যই আবারো তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’
ফখরুদ্দীন ও মঈন সংসদীয় কমিটির সাথে যোগাযোগ করলে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য নেওয়ার সুযোগদিতে পারে বলেও জানান মেনন।
মেনন আরো বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে আমদের আরো একটি বৈঠক করতে হবে। আগামীকাল থেকে এর কাজ শুরু হবে। প্রতিবেদনের খসড়া প্রথমে মূল কমিটিতে যাবে। পরে এটি সংসদে উত্থাপন করা হবে।’
প্রতিবেদন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এই বাম নেতা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতন্ত্রায়নের মধ্যে দিয়ে এই ধররেণ ঘটনার পুনরাবৃত্তিতা ঠেকানোর ব্যপারে কমিটি সুপারিশ করবে।’
সংঘর্ষ পরবর্তী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণের ব্যপারেও সুপারিশ করা হবে বলে জানান তিনি।
তদন্তকালে কমিটি যেসব বক্তব্য, তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে তা প্রতিবেদনে উল্ল্যেখ থাকবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য ৫জন বিশিষ্ট ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৯ অগাস্ট রাশেদ খান মেননকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়।
তারা হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মলয় কুমাার ভৌমিক, চুয়েটের অধ্যাপক এম শামসুল আলম ও দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান।
আজকের বৈঠকে এই ৫ বিশিষ্ট নাগরিকের পাশাপাশি বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান এ.কে আজাদ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘যাদেরকে আমরা আজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম তারা একটি জায়গায় একমত হয়েছে। সেটা হলো-ভবিষ্যতে যাতে এধরণের ঘটনা না ঘটে সেই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ থাকতে হবে।’
কমিটির বৈঠকের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন ‘একটি দীর্ঘস্থায়ী সেনা শাসন কায়েমের জন্যই ২০০৭ এ এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিলো। কমিটিকে বলেছি, সত্যিকারের দোষীদের বিচারের সম্মুখীন করার ব্যবস্থা করতে।’
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম