Thursday, June 30, 2011

নদী ডেজিংয়ের নামে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি

গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নে দুস্থ, ভূমিহীন পরিবারের গৃহনির্মাণের জন্য আবাসন প্রকল্পের মাটিভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। এই আবাসন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয় ৪৪৫ টন চাল। আবাসন প্রকল্পে দুই একর জায়গায় মাটিভরাটের জন্য পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের হোসেন্দি মৌজা, পয়েস্তি হোসেন্দি মৌজা ও নিবিঢ়চর মৌজার ফুলদি শাখা নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রকল্পের লোকজন। নদী তীরবর্তী জমির মালিকরা অভিযোগে জানান, ডেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে কোথায়ও ১০-১৫ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি নদীবক্ষে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও বলেন, প্রকল্পের লোকরা প্রতিদিন লাটিয়াল বাহিনী মোতায়েন করে নদীর পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছে।

কারও কোন কথাই তারা শুনছে না। উল্লেখ্য, জমির মালিকদের হুমকি দিচ্ছে প্রকল্পের লোকেরা। এদিকে টেংগারচর, হোসেন্দি, পয়েস্তি হোসেন্দি গ্রামের ৪০-৫০ জন কৃষক নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে তাদের ফসলি জমি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে এ অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জমির মালিকরা জানান। একাধিক সূত্রে জানা যায়, নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কিংবা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়।

এ ক্ষেত্রে ‘আবাসন প্রকল্প’ নিয়মনীতি ডিঙিয়ে গত ১৫ দিন যাবৎ বালু উত্তোলন করে চলেছে প্রকল্পের লোকেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, প্রজেক্টের লোকেরা নদী থেকে বালু উত্তোলনের নামে ফসলি জমি কেটে নিচ্ছে। দিনের বেলায় নদীর মাঝখানে বালু উত্তোলন করলেও রাতে নদীর তীর ঘেঁষে এলাকার ফসলি জমি কাটছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা বলেন, আবাসন প্রকল্পের মাটিভরাট কাজ দ্রুত শেষ করে সেনাবাহিনীর কাছে জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হবে। সেনাবাহিনী ওই স্থানে ১০০ পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করবে। প্রজেক্টের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান বলেন, সরকারি আবাসন প্রকল্পের কাজে সরকারি যে কোন স্থান থেকে মাটি আনার নিয়ম আছে।

তাই নদী থেকে আমরা মাটি কাটছি। গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, প্রকল্পের কাজ এখনও ২০ ভাগ হয়নি অথচ ১০২ টন চাল উত্তোলন করে নিয়েছে প্রজেক্টের লোকেরা।