মাত্র বারো বছর বয়সে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লবী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা বিপ্লবী দীনেশচন্দ্র গুপ্তের সহযোগী ছিলেন। ১৯৪০ সালে তিনি ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাকে ঢাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতায় পালিয়ে যান। কলকাতার 'আয়রন স্টিল কন্ট্রোলে' অনেক দিন চাকরি করেন।
১৯৪৬ সালে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন। তার প্রথম অভিনীত ছবির নাম 'জাগরণ'। জাগরণে তিনি দুর্ভিক্ষপীড়িত এক চরিত্রে রূপদান করেন। তার অভিনীত দ্বিতীয় ছবির নাম 'নতুন ইহুদী'। এখান থেকেই তার খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। নাট্যমঞ্চের শিল্পী হিসেবেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি পেশাদারি রঙ্গমঞ্চে আসেন। তিনি প্রায় তিনশ' ছবিতে অভিনয় করেন।
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ঢাকার গাড়োয়ানদের কাছ থেকে কৌতুক অভিনয়ের প্রাথমিক প্রেরণা পেয়েছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কলকাতায় কাটালেও ঢাকার ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি গর্ববোধ করতেন। ব্যক্তিগত আচার-আচরণে এবং অভিনয়ে তিনি পূর্ববঙ্গের কথ্য ভাষা ব্যবহার করেছেন। শুধু কৌতুকাভিনেতা নয়, চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও তিনি ছিলেন উঁচু দরের শিল্পী। 'নির্ধারিত শিল্পীর অনুপস্থিতিতে', 'টাকা আনা পাই', 'দর্পচূর্ণ' প্রভৃতি ছবিতে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে তার নামে দুটি ছবিও হয়েছে। ছবি দুটির নাম 'ভানু পেল লটারী' এবং 'ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিসটেন্ট'।
জীবনের শেষ দিকে এসে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় যাত্রাদলের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। তিনি একটি দলও পরিচালনা করতেন। ১৯৫৫ সালে লেখা তার রসরচনার বই 'চাটনী' বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ মার্চ কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।