Monday, June 20, 2011

শ্রীনগরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন : শতাধিক বাড়ি বাজার, জমি নদীগর্ভে

বর্ষার শুরুতেই ফুঁসে উঠেছে প্রমত্ত পদ্মা। শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক বাড়ি ও ভাগ্যকুল বাজারের মাছবাজারসহ প্রায় ৩০টি দোকানঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।

ষাটোর্ধ্ব নুরুল ইসলামের স্ত্রী মেহেরজান বেগম ভাঙনের কবল থেকে ঘরদোর সরিয়ে নিতে নিতে বলেন, ‘চারিটা ঘরো গেলগা গেছো রাইতে। গাঙে আমাগো ফকির বানাইয়া হালাইলো, এহন কি সরকার আমাগো জায়গা দিব।’ ভাগ্যকুল বাজারের তেল ব্যবসায়ী খালেক জানান, ‘রাতের ভাঙনে দোকান গেছে। এখন রাস্তায় বসেছেন। রাস্তাও ভাঙতে শুরু করেছে।’ ভাগ্যকুল গ্রামের জলিল বেপারি জানান, ‘থাকার জায়গা নেই। নদীর পারে একটা ঘর ভাইঙা থুইছি, বাকিডাও ভাঙতে অইবো।’ তার বোন মর্জিনা বেগম জানান, ‘ভাঙনের ডরে ঘরডা ভাইঙা রাস্তায় রাখছি।’

ভাগ্যকুল বাজারের ২১টি দোকানঘরসহ পাশের ৮ কিলোমিটারের বসতভিটা ভয়াবহ পদ্মার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে মাওয়া-ভাগ্যকুল সড়ক, ঢাকা-দোহার সড়কের কামারগাঁও বাজারের অংশ ও একাধিক স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ নদী তীরবর্তী সহস্রাধিক বাড়িঘর। সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার ভাগ্যকুল ও বাঘড়া ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী কবুত চারিপাড়া, মান্দ্রা, ভাগ্যকুল, কামারগাঁও, কেদারপুর, নয়াবাড়ী, রখোলা, মাগঢাল ও বাঘড়া এলাকায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রাচীন জনপদসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। একই রাতে বিলীন হয়ে গেছে ভাগ্যকুল বাজারের আবু সিদ্দিকের মুদি দোকান, দেলোয়ারের চালের আড়ত্, আজিজুল আকনের মুদি দোকান, মঙ্গল ঘোষের চালের আড়ত্, রমিজের চালের দোকান, শুকুর আলীর চায়ের দোকান, বাসার সারেংয়ের মুদি দোকান, পরিমল ঠাকুরের মুদি দোকান, আনোয়ারের স’মিল, দুধপট্টি ও মাছ বাজারের দোকানপাটসহ ২১টি দোকান। একই সঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে এ দুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বহু বসতভিটা।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, গত ৪ বছর ধরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে ৫ হাজার একর আবাদি জমিসহ প্রায় ৫ শতাধিক বসতভিটা বিলীন হলেও সরকারিভাবে ভাঙনরোধে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে ভাঙন দেখতে মন্ত্রী-এমপিসহ বহু সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এসেছেন এবং বহু আশার বাণী শুনিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙন রোধে গত বছর ভরা মৌসুমে এ এলাকায় ৪২.৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। কিন্তু নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না

শফিকুল ইসলাম শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ)