সাপ্তাহিক : বাসভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। সরকার বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না বলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছে।
নূহ-উল-আলম লেনিন : সরকার তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করছে। বাসভাড়া যেটা নির্ধারিত হয়েছে সেটা যাতে কার্যকর হয় সেজন্য মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। একইভাবে সেটা যাতে বাস মালিকরা মানে সেজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতও করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সবক্ষেত্রে যে তা মানছে তা নয়। জনগণের মধ্যে অসন্তোষ আছে। সেই অসন্তোষ যতটা না সরকারের ওপর তার চেয়ে বেশি হচ্ছে বাড়তি ভাড়া আদায়কারীর ওপর। নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে তারা বেশি ভাড়া আদায় করছে।
মালিকরা যখন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় যায় তারা বলে তারা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে না। পক্ষান্তরে সাধারণ মানুষ দেখছে যে বাস মালিকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট তারা মানে না, বাসে টানায়ও না।
সরকার চেষ্টা করছে পরিবহন ক্ষেত্রে কোনো সঙ্কট তৈরি না করে যাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। যাতে ধর্মঘট কিংবা ভাঙ্চুরের মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়। তাহলে আরো বেশি ক্ষতি হবে। এজন্য রাজনৈতিকভাবে আলাপ-আলোচনা ও প্রশাসনিকভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাপ্তাহিক : সরকারের সেই চেষ্টার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে মালিক সংগঠনের কারো চাপের মুখে সরকার বাস ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারেনি। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ভাড়া বৃদ্ধি করতে সরকারকে বাধ্য করা হয়েছে...
নূ. আ. লেনিন : সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে সেটাও বাস মালিকরা এখনো মানছে না। কাজেই আরো কম করলে তো উল্টো ফল হতো। মানুষ চাচ্ছে যে, ভাড়া যেটা বেড়েছে সেটাই যেন বাস মালিকরা মানে। কিন্তু তারা মানছে না। এখানে সরকারের আন্তরিকতার আর কি আছে? আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন জায়গায় তেলের দাম বেড়েছে। সেটার কারণে এখানে তেলের দাম বেড়েছে। ভারতে দেখলাম এক বছরে নয় দফায় তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এক বছরের মধ্যে সেখানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। আমাদের এখানে সে রকম কিছু হয়নি। তারপরেও আমাদের বাড়াতে হয়েছে। বাসভাড়া নির্ধারিত হয়েছে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে। বাস মালিকদের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের সঙ্গে তাদের যে সমঝোতা হয়েছে সেটা মেনে চলা। কারো প্রতি কোনো শৈথিল্য দেখানোর দিকে আমরা যাচ্ছি না।
সাপ্তাহিক : সাধারণ যাত্রীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বাসে ওঠেন না। তারা নিজস্ব গাড়িতে চলাচল করেন। যে কারণে তারা মানুষের দুর্দশা ও ভোগান্তির চিত্র দেখতে পারেন না। বুঝতে পারেন না। আপনার কি মনে হয়?
নূ. আ. লেনিন : এগুলো চটকদার অভিযোগ। রাজনীতিবিদদের সবার যদি গাড়ি থাকত তাহলে গাড়ির সংখ্যা কয়েক হাজার হতো। আমার নিজেরও গাড়ি নেই। অফিসের গাড়িতে চলাফেরা করি। কখনো বাসে চড়ি। আমার ছেলেমেয়েরাও বাসে চড়ে। এরকম অনেকেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম পর্যায়ে আছেন যাদের গাড়ি নেই। মানুষের সঙ্কট বোঝার জন্য বাসে উঠতে হবে সেটা ঠিক নয়। কর্মীদের কাছ থেকেও আমরা অনেক কিছু জানি। মানুষের পাল্স তো বোঝা যায়।
সাপ্তাহিক : এবার দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে আসি। এ বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি সরকার কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছে বলে আপনি মনে করেন?
নূ. আ. লেনিন : এটা আমাদের একটা প্রধান ইস্যু। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমাদের যে অঙ্গীকারগুলো ছিল তার মধ্যে দ্রব্যমূল্যকে সহনীয় পর্যায়ে রাখা আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে ছিল। আমরা সরকার গঠন করার পরে চাল ও তেলের দাম একটা পর্যায়ে নামিয়ে এনেছিলাম। প্রতি কেজি চালের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা করে কমিয়ে আনা হয়েছিল। কাজেই প্রাথমিকভাবে আমরা সফল হলেও পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাজারে চালের দাম বেড়ে যায়। আমরা তো ঘাটতির দেশ, বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা চাল কিনি। ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। ভিয়েতনাম হঠাৎ করে চাল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। রাশিয়া গম বিক্রি করত সেটা বন্ধ হয়। বিশ্ববাজারে যখন হঠাৎ করেই খাদ্যের দাম দফায় দফায় বাড়তে থাকে তার প্রভাব আমাদের দেশের ওপর পড়েছে। সেই প্রভাবের কারণে আমাদের এখানে খাদ্যমূল্য আবার বাড়ে। তবে এটা ঠিক যে, মানুষের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী খাদ্যমূল্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে পেরেছি এটা আমরা দাবি করব না। আমাদের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার যে অভিজ্ঞতা ছিল সেই সময়ে আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিলাম। মূল্যস্ফীতি আমরা এক দশমিক ৪৯ শতাংশে নামিয়েও আনতে পেরেছিলাম। সেই সময়কার বিশ্ববাজার, আমাদের নিজস্ব অর্থনীতির অবস্থা আমাদের অনুকূলে ছিল।
সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।
সেজন্য কতকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। ওএমএসের মাধ্যমে খোলাবাজারে ৪২ টাকার চাল আমরা এখানে ২৪ টাকায় বিক্রি করছি। দ্বিতীয়ত একথা মানতে হবে, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় যায় তখন মঙ্গা হয় না। ২০০১ সাল পর্যন্ত যেমন মঙ্গা হয়নি তেমনি ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করার পরেও মঙ্গা হয়নি।
গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের অভাবতাড়িত এলাকাগুলোতে ভিজিআর, ভিজিএফসহ বিভিন্ন উপায়ে সেখানে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে হতদরিদ্র মানুষ না খেয়ে নেই।
আমরা দেশের অভ্যন্তরে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গুরুত্ব দিয়েছি। বিশ্ব বাজারের ওপরে আমরা যখন নির্ভরশীল থাকব তখন জিনিসপত্রের দাম আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে না। অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৃষিতে বিদ্যুৎ-সার-কীটনাশক-বীজের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। সময়মতো সেগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা নাগরিক জীবনে বিদ্যুৎ নিয়ে কষ্ট করলেও সেচের ব্যাপারে বিদ্যুতের জন্য কোনো কষ্ট করতে হয়নি কৃষকদের। সেই সঙ্গে কৃষককে সহজে ঋণ দেবার জন্য কার্ড চালু করা হয়েছে। মাত্র ১০ টাকায় কৃষক সহজ শর্তে ঋণ পাচ্ছে। এটার ফলে বাম্পার ফলন হচ্ছে। এই বাম্পার ফলনের ভেতর দিয়ে দেশে চালের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। তেমনি এখানে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো পরিবেশ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
চালের দাম খুব বেশি কমানো বেশ কঠিন। কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে যতই ভর্তুকি দেই না কেন কৃষক উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। যেমনটা আলুর ক্ষেত্রে ঘটেছে। পর্যাপ্ত আলু হয়েছে। আমি ভোক্তা হিসেবে মনে করি যে অপেক্ষাকৃত সস্তায় পেলাম কিন্তু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারলে পরবর্তী সময়ে আমাদের আবার সেই ঘাটতিতে পড়তে হবে। উৎপাদনের ঘাটতি দেখা দেবে। সেই দিকটা আমাদের বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
সাপ্তাহিক : বাজার সিন্ডিকেটের কারণে কি এমনটা হচ্ছে?
নূ. আ. লেনিন : আমরা একটা কথা শুনতাম যে, আমদানিকারকদের সিন্ডিকেট আছে। আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করি না। তারপরও আমার ধারণা, আমদানিকারকদের এক ধরনের কথিত ও অকথিত সিন্ডিকেট হয়ে যায়। কোনো সময় পলিটিক্যাল সিন্ডিকেট হয় সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য। এছাড়াও সিন্ডিকেট হয়, এটা পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির নিয়ম। আমি সরকারের বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে একথা জানতে পেরেছি যে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আমদানিকারকদের বাজার নিয়ন্ত্রণের যে ক্ষমতা ছিল সেটা গত সাত থেকে আট বছরে এখন শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের সময়কালে আমরা তাদের সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। এখন তাদের আর্থিক ক্ষমতা, ম্যানিপুলেট করার ক্ষমতা এত বেড়েছে যে, সেটা আমাদেরও কল্পনার বাইরে। আমরা ক্ষমতায় আসার আগেও ভাবতে পারি নাই যে, বাংলাদেশে এখন এরকম সর্বগ্রাসী একটা কথিত বা অকথিত যাই বলি না কেন, আমদানিকারকরা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মতো গড়ে উঠছে। যারা ইচ্ছে করলেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
সাপ্তাহিক : আমাদের সংসদে ব্যবসায়ীদের বড় একটা অংশ আছে। এর কোনো প্রভাব কি থাকছে?
নূ. আ. লেনিন : আমরা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আলোচনা করছি। ব্যবসায়ীদের গালি দিয়ে তো আর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। যেটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা হয়েছিল। আমরা সমঝোতার পথে যাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে করে দ্রব্যমূল্য একটা জায়গায় নামিয়ে এনে সেটা স্থিতিশীল রাখা যায়।
যারা খাদ্য আমদানি করে তাদের কত শতাংশ সংসদে আছে সেটা মাথায় রাখতে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেমন সখ্যতা আছে, তেমনি বিরোধও আছে। কোনো সময় তারা একত্র হয়ে যায়। আবার কোনো কোনো সময় তারা প্রতিযোগিতা করে। এখানে চিরায়ত অর্থনীতির একটা কথা আছে যে, প্রতিযোগিতা যত বেশি হবে তত ভোক্তার সুবিধা হবে। সেটা হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনীতির ক্ষেত্রে। দু’ ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট তাদের পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার জন্য অপেক্ষাকৃত কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারে। কিন্তু আমদানিকারকরা সেটা করে না। কোনো পণ্যের অভাব হলে আমদানিকারকরা প্রতিযোগিতা করে না। তখন তারা সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। বুর্জোয়া অর্থনীতিতে দু’টোই আছে। ব্যবসায়ী পুঁজির কাছে দেশপ্রেমের চাইতেও বড় হচ্ছে মুনাফা। এই জায়গায় শিল্প পুঁজির সঙ্গে ব্যবসায়ী পুঁজির পার্থক্য আছে। শিল্প মালিকরা রাতারাতি শিল্প গুটিয়ে নিতে পারে না বলে তাদের অনেক দায়বদ্ধতা থাকে।
সাপ্তাহিক : সাধারণ মানুষ এসব বোঝে না। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে তারা সরকারকে দোষারোপ করে। এ অবস্থায় ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পালন করতে না পারলে আওয়ামী লীগের ভোটের রাজনীতিতে সেটা প্রভাব ফেলবে কিনা?
নূ. আ. লেনিন : ক্ষতি হওয়া না হওয়াটা ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে। তবে আমরা নিশ্চয়ই এটা নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হব। এখানে যদি অন্য কেউ এসে গালভরা কিছু প্রতিশ্রুতি দেয় তাকেও এটার জন্য মূল্য দিতে হবে। যতদিন পর্যন্ত একটা দেশ খাদ্যের মতো স্পর্শকাতর একটা জায়গায় পরনির্ভরশীল থাকবে ততদিন পর্যন্ত এই বিপদটা থাকবে। পৃথিবীর বড় বড় (সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা জাপান হোক) এমন কোনো দেশ নেই যে, খাদ্যে ভর্তুকি দেয় না। আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। কিন্তু এই ভর্তুকি দেবার ক্ষমতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপানের মতো আমাদের নেই। কাজেই আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। যাতে আমরা ভর্তুকি কমাতে পারি। একই সঙ্গে ভর্তুকি দেয়ার সামর্থ্য বাড়াতে হবে।
সাপ্তাহিক : পুঁজিবাজারের যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেখানে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
নূ. আ. লেনিন : পুঁজিবাজারের ঘটনা নিয়ে আমাদের দিক থেকে আমরা উদ্বিগ্ন। এটার একটা স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারের সঙ্কটের কারণ খুঁজতে ইব্রাহিম খালেদ সাহেবের নেতৃত্বে যে তদন্ত করেছি সেই রিপোর্ট প্রকাশ করেছি। অতীতে কোনো তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি। আমরা ২ মাসের মাথায় হুবহু প্রকাশ করেছি। সেজন্য ওই বেচারার নামে যাদের নাম এসেছে তাদের কেউ কেউ মানহানির মামলা করছেন। তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকার আইনগত পদক্ষেপের দিকে যাবার আগে অপরাধের বিষয়ে আরো খোঁজখবর করবে। যাতে নিরপরাধ কেউ হেনস্তার শিকার না হয়। পুঁজিবাজারের সঙ্গে জড়িত যারা তারা অনেক শিল্প কারখানার সঙ্গে যুক্ত। তাদের লোকের ভাগ্য এর সঙ্গে জড়িত। এই ধরনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরো তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই প্রতিবেদনেই সুপারিশ করা হয়েছে। সেই তদন্ত শেষ হলে সরকার নিঃসন্দেহে ব্যবস্থা নেবে।
সামগ্রিকভাবে দেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে যেসব সমস্যা আছে সেগুলোকে নিয়ে আমরা খেলতে দিতে পারি না। এখানে দেশের স্বার্থ জড়িত। আমাদের ভোটের রাজনীতির প্রশ্ন আছে। আবার এটার জন্য নিরপরাধ কেউ শাস্তি পাক সেটাও আমরা চাই না। ইতোমধ্যে এসইসি পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একজন সদস্যও নিয়োগ হয়েছে। বাকিটা হওয়ার পথে। সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে ভুল স্বীকার করেছে অন্য কোনো সরকার তো তা করে না। আমরা বলছি না যে আমরা ধোয়া তুলসি পাতা। কিন্তু আমরা আত্মঘাতী নই। ভুল হলেও সেটা শুধরে নিয়ে ভালো কাজ করা যায়। আওয়ামী লীগ আত্মঘাতী হতে পারে না।
সাপ্তাহিক : দায়িত্ব পালন করতে ভুল হলে বা না পারলে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগের দাবি করছে।
নূ. আ. লেনিন : পদত্যাগ করার কথাটা একটা চমকপ্রদ কথা। পদত্যাগ করলেই কি কোনো বিষয়ের সমাধান হয়ে যায়? ঘরের দরজা খুলে এবং খালি রেখে চলে গিয়ে বললে হবে না যে, চুরি হবে না।
সাপ্তাহিক : দলীয় বিষয়ে আসি। দল এবং সরকারের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে মনে করে...
নূ. আ. লেনিন : আওয়ামী লীগ বলেন আর বিএনপি বলেন, সরকারের আসলে এসব বড় দলের নীতি নির্ধারকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন। তারা জানান রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা আগের মতো শীর্ষ নেতাদের সময় না পেয়ে হতাশ হয়। এটা ঠিক না। যেমন বিএনপি এখন বিরোধী দলে আছে। তাদের বড় নেতাদের হাতেও অফুরন্ত সময়। আন্দোলন, প্রেস ব্রিফিং এসবই হচ্ছে তাদের মূল কাজ। আর এসব কাজে সব পর্যায়ের নেতারাই অংশগ্রহণ করে। আমাদের অফিসে নাকি বাতি জ্বালানোর কেউ নেই। এটাও সংবাদপত্রে খবর হয়। এগুলো না বুঝে করা। যেমন আমাদের নির্ধারিত সময়ে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হচ্ছে। জেলা সফর হচ্ছে। মহানগরে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু সেসব কার্যক্রমে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা অংশগ্রহণ করায় অনেকের চোখে পড়ে না। তারা ভাবে এসব জায়গায় শেখ হাসিনা যাবেন। এগুলো তো বুঝতে হবে। অন্য টায়ারের নেতারাও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে তারা সেটা বুঝতে পারে না।
সাপ্তাহিক : এর জন্য কি কোনো বিকল্প চিন্তা করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?
নূ. আ. লেনিন : যারা মন্ত্রী হন তারাই মিডিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বনে যান। এটাই স্বাভাবিক কিন্তু মন্ত্রী দলে যে পদে থাকেন সেই একই পদের অন্য নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। কারণ তিনি মন্ত্রী হতে পারেননি।
সাপ্তাহিক : কিন্তু মিডিয়ায় তো গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের চাওয়া হবেই। যেমন আপনাদের সাধারণ সম্পাদক। স্বাভাবিক ভাবে তো তিনিই দলের মুখপাত্র, তাই না?
নূ. আ. লেনিন : আমাদের সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ থাকার কারণে সম্প্রতি মিডিয়াতে কম আসছেন। আর তিনি ঘন ঘন মিডিয়াতে কথাও বলেন না। কারণ, বেশি বিষয় নিয়ে কথা বললে মানুষ বলে সরকার কাজের চেয়ে কথা বলে বেশি। কিন্তু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যু তিনি তার সঠিক এবং সময়ানুগ ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে হানিফ সাহেব ও দীপু মনিও তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।
সাপ্তাহিক : গত কাউন্সিল প্রস্তুতি না নিয়ে করায় কাউন্সিলের পরই দেশব্যাপী সাংগঠনিক কমিটিগুলো করার কথা ছিল। কিন্তু এখনো অনেক জায়গায় ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে দল চলছে।
নূ. আ. লেনিন : এটা নতুন কোনো বিষয় না। আমরা ইতোমধ্যে কিছু বিষয় এগিয়েছি। এর মধ্যে পৌর নির্বাচন গেল। এখন ইউপি নির্বাচন চলছে। আশা করছি চলমান ইউপি নির্বাচনের পর পরই আমরা কমিটি গঠনের কাজে হাত দিতে পারব।
ছবি তুলেছেন মাহমুদা তুলি