কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে সংসদীয় কমিটির কাছে এ ই-বার্তা পাঠিয়েছেন ড. ফখরুদ্দীন। সংসদ সচিবালয়ের কমিটি শাখা-৭‘র জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব শাহ মাহমুদ সিদ্দিকীর ই-মেইল অ্যাকাউন্টে তিনি এ বার্তা পাঠান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের একান্ত সচিব নাইমুল আজম খান বাংলানিউজকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ওই ই-বার্তায় ড. ফখরুদ্দীন বলেছেন, ‘বিক্ষোভের পর ছাত্র নির্যাতনের ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ঘটনার পর গ্রেপ্তার, মামলা ও বিচারের বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ বিচার বিভাগের।’
বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় তৎকালীন সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করেনি বলেও বার্তায় দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘ওই ঘটনার পর বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। আমি যে কোনও ধরনের নির্যাতন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার পক্ষে।’
আগামীকাল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৫ নং উপ-কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ম্ঈন উ আহমেদকে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে।
তবে ই-বার্তায় বৈঠকে হাজির হওয়া বিষয়ে কোনও কিছু উল্লেখ করেননি ড. ফখরুদ্দীন।
উল্লেখ্য, ১/১১ প্রধান দুই কুশীলব ড. ফখরুদ্দীন এবং জেনারেল মঈন এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ফখরুদ্দীন মেরিল্যান্ড ও মঈন ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও উপ-কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ খান মেনন বাংলানিউজকে বলেন, ‘ই-বার্তার বিষয়টি আমার একান্ত সচিবের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে জেনারেল মঈনের পক্ষ থেকে এখনও এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয়নি।
এর আগে মঈনের পরিবার থেকে রাশেদ খান মেননকে জানানো হয় অসুস্থার কারণে সাবেক এ সেনাপ্রধান হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৫ নং উপ-কমিটির চতুর্থ বৈঠক হয়।
বৈঠকে বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে খেলার মাঠের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র, শিক্ষক ও সেনা সদস্যের মধ্যে সহিংস ঘটনা তদন্তে ড. ফখরুদ্দীন এবং মঈন ইউ আহমেদকে তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১৮ এপ্রিল উপ-কমিটির ৫ম বৈঠকে তাদের হাজির হতে বলা হলেও দু’জনই কমিটিতে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সেদিনই তাদের দ্বিতীয় দফা হাজির হতে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১৮ এপ্রিলের বৈঠকে আগে এ দু’জনই কমিটির কাছে লিখিত বক্তব্য পাঠান। সে সময় তাদের এ বক্তব্যকে ‘অর্থহীন’ আখ্যা দেয় সংসদীয় কমিটি।
জানা গেছে, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ দু’জন হাজির হতে না পারলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করে সংসদীয় কমিটি।
এ ব্যাপারে রাশেদ খান মেনন জাতীয় সংসদের স্পিকার আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেটের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন।
সংসদ সচিবালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র বাংলানিউজকে জানিয়েছে, স্পিকার ভিডিও কনফারেন্সের ব্যাপারে তার সমর্থন আছে বলে জানিয়েছেন।
আগামীকালের বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে কমিটি সূত্রে জানা গেছে।
গত বছরের ১৯ আগস্ট রাশেদ খান মেননকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এ সংসদীয় উপ-কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- হুইপ মির্জা আজম, বীরেন শিকদার ও শাহ আলম।
কমিটি এরই মধ্যে ওই সংঘর্ষের পরে নির্যাতিত শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতাদের বক্তব্য নিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনায় ফখরুদ্দীন ও মঈনের বিচার দাবি করেছিলেন।
সাজিদুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম