Friday, May 20, 2011

নতুন ধান নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী ও মজুদকারীদের অশুভ তৎপরতা

অলিউর রহমান ফিরোজ
দেশে হাওর অঞ্চলে পাহাড়ি ঢল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে এবার ধান পতিত না হওয়ার কারণে তাদের বাম্পার ফলন হয়েছে। অপরদিকের চিত্র আরও ভয়াবহ। হাইব্রিড ধান ঝলক এবার কৃষকদের সর্বস্বান্ত করে ছেড়েছে। তাতে করে জমিতে অনেক টাকা খরচ করে কৃষক জমি থেকে খড়-কুটো আর চিটা ছাড়া তাদের কপালে তেমন কিছু জোটেনি। বোরো মৌসুমকে কেন্দ্র করে কৃষকরা

তাদের সারা বছরের ব্যয় নির্বাহের একটা হিসাব-নিকাশ করে থাকেন। কিন্তু এবার তাদের সে হিসাব শুধু খাতাপত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অনেক কৃষক আছেন এবার ঝলক ধানে মার খাওয়ার পর তাদের কিনে খাওয়ার কোন রকম সঙ্গতি থাকবে না। অবস্থাসম্পন্ন অনেক কৃষক আছেন যারা ধারদেনা করে তারপর জমি চাষ করেছিলেন। এখন তাদের মাথায় হাত পড়েছে। একদিকে তাদের ঋণের বোঝা বইতে হবে অপরদিকে তাদের চরম খাদ্য সংকটে পতিত হতে হবে। ঝলক ধানের বীজ চীন থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারপর বাজারজাত করার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

কৃষি আইনে থাকলেও তা প্রয়োগের অভাবে এভাবেই কৃষককে বার বার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার মতো তাদের কখনো বীজ এবং সার ভেজালের দৌরাত্ম্যে পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। আর এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের ব্যর্থতার কারণে বীজ কোম্পানি কৃষক পর্যায়ে সরাসরি বীজ বাজারজাত করতে পেরেছে। তাদের মাঠপর্যায় দেখভাল করার কথা থাকলেও তারা সেভাবে কৃষকের মাঠ অবজারভেশন করতে যান না। এবার ঝলক ধানের বীজ নিয়ে কৃষকের যা সর্বনাশ হলো তাতে করে আমাদের কৃষি বিভাগ এর কী জবাব দেবেন? একশ্রেণীর কৃষি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই ঝলক ধানের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ রকম নিম্নমানের বীজ বাজারজাত করা সম্ভব হয়েছে। অনেক সময় অনেক কৃষি অফিস সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বীজ বিক্রি বাড়াতে কৌশলে চাষিদের পুরস্কার ঘোষণা করে লোভের ফাঁদে ফেলেন।

আর এ বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের নজরে আনা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিছু কিছু কৃষককে মার্কেটিংয়ের আওতায় ফেলে তাদের জমিতে বীজ গছিয়ে দিয়ে তাদের কোম্পানির পক্ষ থেকেই সে জমির ধান পরিচর্যা করে কিছু ধান ফলিয়ে সে জমিতে ওই বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে অন্যান্য কৃষককে আকর্ষণ করেন। বীজ কোম্পানি তার নিজের তত্ত্বাবধানে বীজ থেকে যে ধান উৎপন্ন করতে পারে তা সাধারণ কৃষকের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

ফলে বীজ কোম্পানিগুলো কৃষি অফিস ম্যানেজ করেই তাদের ব্যবসা প্রসারিত করার কারণে তাদের কোন জবাবদিহিতার প্রয়োজন পড়ে না। এভাবেই আমাদের কৃষককে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দেশের মানুষের জন্য ফসল ফলাতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়। ফলে কৃষক আর ভালো-মন্দ বোঝার কাউকে না পেয়ে বীজ কোম্পানির প্রতারণার ফাঁদে পড়ে এভাবে সর্বস্বান্ত হন। এমনিতেই আমাদের দেশে খাদ্য নিয়ে চলছে ভয়াবহ নৈরাজ্য। উপরন্তু এখন ঝলক বীজের কারণে কৃষক ধানে মার খেয়ে শুধু কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হননি তা দেশের চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যায় ফেলবে বলে অনেক কৃষি বিশেষজ্ঞ মনে করেন। সরকার অতিদ্রুত ঝলক ধানের বীজে যেসব কৃষক ক্ষতির শিকার হয়েছেন তাদের একটা তালিকা প্রস্তুত করে বীজ কোম্পানি থেকে তাদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে।

কারণ সরকারের ব্যর্থতার কারণেই বীজ কোম্পানিগুলো কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেনি। অন্য দেশ থেকে কোন বীজ আনতে হলে তা দেশের কৃষি গবেষণায় যদি উপকার পায় তবেই কেবল তা কৃষক পর্যায়ে সে বীজ ছাড়ার কথা। এ ক্ষেত্রে বীজ কোম্পানি তা অনুসৃত করেনি। তাই সব দায়িত্ব সরকারের ঘাড়েই পড়বে। অপরদিকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে হাওরাঞ্চলে কৃষকের সোনারাঙা ধান কাটার বিশেষ উৎসব।

এবার হাওর এলাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের ধান কাটার পাশাপাশি পুঁজিপতি মজুদদারদের অশুভ তৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে নতুন ধানকে কেন্দ্র করে। তারা এবার ধান মজুদ করার নিমিত্তে পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধান গুদামজাত করার লক্ষ্যে তারা তাদের গুদাম এবং মিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশে নতুন ধান ওঠার পরও কি দেশের সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে তাদের চাল কিনতে পারবে?

এরকম একটা আশঙ্কা কিন্তু রয়েই যাচ্ছে। আড়তদার ও মহাজনী ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরের মতো এবারও যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে তাতে করে মানুষের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে ধান-চাল নিয়ে। সরকার যদি মহাজন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের এখনই প্রতিরোধ করতে না পারে তাহলে অন্যান্য বছরের মতো এবারও সরকারকে খাদ্যশস্য নিয়ে হা-হুতাশ করতে হবে। সরকার শত চেষ্টা করেও দেশের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের ধরাশায়ী করতে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়ার ফলে তারা যেভাবে মজুদদারিব্যবস্থা গড়ে তুলেছে তাতে বলা চলে দেশের মানুষকে মূলত একপ্রকার জিম্মিদশা করে ছেড়েছে। দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাদের বাজার পরিকল্পনায় দূরদর্শিতার অভাবে দেশে খাদ্যশস্যের দাম আকাশ ছুঁয়ে যায়।

১৭ টাকা কেজি চালের দর এক লাফে ৩০-৩৫ টাকায় উঠে যায়। ফলে দেশের নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তদের চাল নিয়ে চরম সংকটে পড়তে দেখা যায়। দেশের খাদ্যমন্ত্রী বার বার চালের সহনীয় পর্যায়ে আশার বাণী শোনালেও তা আর দেশের সাধারণ মানুষ চোখে দেখেনি। তিনি ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন মূলত কয়েকটি কারণে। তার মধ্যে অন্যতম হলো সিন্ডিকেট প্রথা। দেশে নতুন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই মহাজন ও মজুদদাররা ধান তাদের গুদামে ভরে রাখার কারণে তারা সে ধান আর দাম না বাড়া ছাড়া বিক্রি করে না। এতে করে বাজারে দেখা দেয় অস্বাভাবিকতা।

তখন যে দাম বাড়ার কথা তা বেড়ে যায় আরও অনেক বেশি। এ ধান যদি কৃষকের হাতে থাকত তাহলে তাকে বিভিন্ন প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে কিছু কিছু ধান বাজারে ছাড়তে হতো। তার ফলে বাজারে কিছু ধান থাকায় বাজার পরিস্থিতি আর অবনতি হওয়ার মতো পরিস্থিতি বিরাজ করত না বলে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন। চলতি বছর দেশে ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। আর এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ মেট্রিক টন। দেশে মোট চালের চাহিদা রয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন। বাকিটা আমন এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। চাল এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে যাওয়ার কারণে ইচ্ছে করলেই যেকোন চাল রফতানিকারক দেশ থেকে চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চাল সংগ্রহ করতে পারছে না।

বিশ্ববাজারে চাল নিয়ে ভয়াবহ সংকট পরিলক্ষিত হওয়ার দরুন আমাদের অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সরবরাহের অর্ডার পেয়েও চাল দিতে না পাড়ার কারণে পাঁচজন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সরকার জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে। তাদের মোট ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চালের বিপরীতে ২৭ কোটি টাকার জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকার। অপরদিকে ভারত সরকার বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ৫ লাখ টন চাল বিক্রির কথা বললেও সময়মতো সে চাল ভারত সরবরাহ করেনি। তারা সে চাল দেয় দেড় থেকে দুই বছর পর যখন সে চাল বাংলাদেশকে দেয় তখন বাংলাদেশে চালের ভরা মৌসুম। এতে করে ভারত তার দেশের কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করছেন অপরদিকে বাংলাদেশের কৃষক তাতে করে ক্ষতির সম্মুখীন হন।

সরকার চলতি মৌসুমে কয়েকটি রাষ্ট্রের সঙ্গে চাল আমদানি করতে গেলে সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত কোন সাড়া পাননি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাল রফতানি করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে সরকারি পর্যায় থেকে চাল আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারা পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে চাল আনার প্রচেষ্টা চালান কিন্তু ভারত, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ড ছাড়া অন্য কোন দেশ চাল দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু কৃষক অনেক কষ্টে ধান ফলিয়ে তারা তাদের ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। কৃষকের ধান একবার পুঁজিপতি কুমিরের পেটে গেলে সে ধানের চড়া মূল্য না দিয়ে আর বের করা সম্ভব হবে না।

ফলে দেশে খাদ্যশস্যের একটা ঘাটতি থেকেই যায় মহাজন এবং মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের কারণে। ফলে সরকার শত চেষ্টা করেও তা আর গরিব মানুষের ক্রয় ক্ষমতার নাগালে রাখতে পারে না। সরকারের কাজ হবে এখনই কৃষক পর্যায় থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বিশ্বজুড়ে চলছে খাদ্য সংকট। সেখান থেকে ন্যায্যমূল্যে চাল পাওয়াটা সহজ কাজ নয়। তার ওপর রয়েছে প্রকৃতির বিরূপ প্রতিক্রিয়া। আবহাওয়াজনিত কারণে আমাদের দেশের ধান মার খেলে তখন অন্য কোন দেশ থেকে খাদ্য সংগ্রহ করা সহজ হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমাদের দেশে যখন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কৃষক ধানে মার খেয়েছিল তখন অনেক চেষ্টা করেও তারা অন্য দেশ থেকে চাল আমদানি করতে পারেনি।

দেশে দিন দিন কৃষিজমির নীতিমালা না থাকার কারণে আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন গড়ে ২২০ হেক্টর কৃষিজমি কৃষক হারাচ্ছে। এতে করে তা বছরে গিয়ে দাঁড়ায় ৮০ হাজার হেক্টর। তাছাড়া বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের দামও চড়া। সে কথা মাথায় রেখে সরকারকে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের ধান যাতে করে মহাজনদের পেটে না যেতে পারে তা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বিশ্বজুড়ে চলছে খাদ্যের মূল্যে বৃদ্ধি। সরকার থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে মার্চ মাসে ৪ লাখ টন চাল কিনতে সরকারি পর্যায়ে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। থাইল্যান্ড থেকে প্রতি টন ৫৮০ মার্কিন ডলার এবং ভিয়েতনাম থেকে ৫৭৫ মার্কিন ডলারে দেশের জন্য চালের ব্যবস্থা করেছে সরকার।

অতিরিক্ত অর্থ অন্য দেশে না দিয়ে সে টাকা যদি মধ্যস্বত্বভোগী এবং মজুদকারীদের প্রতিরোধ করে কৃষককে সে সুবিধা দেয়া যায় তাহলে একদিকে আমাদের কৃষক তাদের ধানের ন্যায্য দাম পাবে অন্যদিকে কৃষকও ধান চাষের প্রতি ব্যাপক আগ্রহী হবেন। এতে করে সরকারের হাতে ধান থাকার কারণে তাদের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা হবে আর এর সুফল পাবে দেশের সাধারণ মানুষ। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ন্যায্যমূল্যে চাল কিনতে তাদের বড় ধরনের সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতি চরম আকার ধারণ করার কারণে সরকারকে সবচেয়ে বেশি কৃষককে গুরুত্বারোপ করতে হবে। তাদের জন্য কৃষি উপকরণ সহজ করে দিতে হবে। দেশে ২ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যের চাহিদা রয়েছে।

কিন্তু দেশে মাত্র উৎপাদন হচ্ছে ১ কোটি ৯২ লাখ মেট্রিক টন। বাকিটা দেশের আমন এবং আমদানির ওপর সরকারকে নির্ভরশীল হতে হয়। সরকার উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ভর্তুকি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পেঁৗছতে পারছে না। তাই খাদ্য নিয়ে দেশে বড় ধরনের একটা সংশয় রয়েই গেছে। এদিকে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ও কৃষি সংস্থা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বিশ্বে খাদ্য ঘাটতির কারণে। তারা বিশ্বে চরম খাদ্য ঘাটতির কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠী চরম খাদ্য ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছেন। দেশের ভর্তুকির চাল কালো বাজারে বিক্রি হওয়ার কারণে সাধারণ গরিব মানুষ ন্যায্যমূল্যের দোকানে গিয়ে চাল সংগ্রহ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন।

চোরাকারবারিরা ন্যায্য মূল্যের চালে বস্তা পাল্টিয়ে অন্য বস্তায় ভরে ব্যাপক হারে গরিব মানুষের চাল কালোবাজারে পাচার করায় গরিব মানুষ এখন চাল নিয়ে চরম দুর্ভোগে পতিত হচ্ছেন। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার ভর্তুকি এখন কালোবাজারি হওয়ায় সরকার একদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে অপরদিকে দেশের বিপুল পরিমাণ টাকা অপচয় হচ্ছে। মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা চালের জন্য লাইন দিয়েও তাদের চাহিদার চাল পাচ্ছে না। সরকার চালের ব্যাপারে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ধরনের কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের চাল সহজলভ্যতা করে বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসবে আর সরকারের কাছে এটাই প্রত্যাশা।