আজ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনী বাংলাদেশের যেসব জায়গায় গণহত্যা চালায় এর মধ্যে গজারিয়া হত্যাযজ্ঞ অন্যতম। এ দিনে পাক হানাদার বাহিনী মুন্সীগঞ্জে প্রবেশের সময় গজারিয়ার ফুলদী নদীর পাড়ে গোসাইচর, নয়ননগর, গজারিয়া, কাজীপুরা, বাঁশগাঁও ও বালুরচর গ্রামের ৩৬০ কৃষককে ব্রাশফায়ারে হত্যা করেছিল।
পাক হানাদাররা এ দেশীয় দোসরদের সহায়তা নিয়ে আগুন দিয়েছিল গ্রামগুলোর অসংখ্য বাড়িঘরে। তাই ৯ মে'র স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এখনো অনেকে শিউরে উঠেন। গণকবরটি গজারিয়া টেলিফোন এক্সচেঞ্জের কাছেই অবস্থিত। অযত্ন আর অবহেলায় ঝোঁপ-জঙ্গলে ঢেকে আছে এ গণকবর। সেখানে এখন গরু-ছাগলের রয়েছে অবাধ যাতায়াত। এটি সংস্কার ও চিহ্নিত করার কোনো উদ্যোগ নেই। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও শহীদদের গণকবরে টানানো হয়নি পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা। এমনকি শহীদদের স্মরণে আজও নির্মিত হয়নি স্মৃতিসৌধ। এদিকে হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া অনেকেই এখন পঙ্গু জীবনযাপন করছেন। সেদিনের সেই ভয়াল স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছে, অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। এমনই একজন একাত্তরে স্বামী হারানো ৭০ বছরের বৃদ্ধা-সাফিয়া বেগম। বিয়ের খুব অল্পদিনের মাথায় পাক বাহিনীর হাতে তার স্বামীকে জীবন দিতে হয়। যৌবনে স্বামী হারা সাফিয়া বেগম আজ বয়সের ভারে অনেকটা অচল। সেদিন নিজ চোখের সামনে স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তার বর্ণনা করে বলেন, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই সেদিন ঘর থেকে বের করে উঠানে নিয়ে চোখের সামনে স্বামীকে গুলি করে হত্যা করে। প্রতিবছর বিজয় আর স্বাধীনতার মাসকে ঘিরে সারাদেশে ব্যাপক আয়োজন হলেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এই পরিবারগুলোর খোঁজ মেলেনা কখনও, আক্ষেপ করে এমনটাই জানালেন বেঁচে যাওয়া পরিবারের সদস্যরা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশ স্বাধীনের ৪০ বছর হলেও কোনো সরকারই তাদের খোঁজ নেয়নি। শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে নেয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। তবে কয়েক বছর ধরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা প্রশাসন দায়সারাভাবে দিনটি পালন করছে বলে তারা জানিয়েছেন।
শীর্ষ নিউজ
--------------------------------------
গজারিয়া গণহত্যা দিবস আজ
'এমন নির্মম মানব হত্যা যারা চালাইছে তাদের কী বিচার হবে না? আর এই বিচারের জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিচ্ছে তাতে বাধা দিচ্ছে কারা? সেই দোসরদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।' এই দাবি শহীদ পরিবারের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ আহমেদের। '৭১-এর ৯ মে' গজারিয়ার গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন সময়ের দাবি।
এইদিন গোসাইরচর গ্রামে ৫৮ জনসহ দেশী দোসরদের সহযোগিতায় একই দিনে আশপাশের গ্রামের নিরীহ ৩৬০ বাঙালীকে হত্যা করে লুটপাটসহ নানা নারকীয় তাণ্ডব চালায় পাক হানাদার বাহিনী। গোসাইরচর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল খালেক আলো জানান, এই গণহত্যার আগে গজারিয়া হাইস্কুলে ৫৪ মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে একটি সভা হয়। এই খবর শুনেই গজারিয়া গ্রামের রাজাকার খোকা চৌধুরী, সাম চৌধুরী, গফুর চৌধুরী এই গণহত্যায় মদদ দিয়ে পাকি বাহিনীকে নিয়ে আসে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘর চিনিয়ে দিয়েছে ফালু নামের এক রাজাকার। আর প্রথমে হামলা হয় তাঁর বাড়িতে। তাঁর ভাই মোয়াজ্জেমসহ পরিবারের ৭ জনকে হত্যা করে পাকবাহিনী। বারবার এই দিন ঘুরে আসে। কিন্তু গজারিয়া এই ১০ গ্রামের নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষগুলোর ওপর হানাদার বাহিনী ইতিহাসের এক জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞের বিচার হয়নি। গোসাইচর নয়ানগর বালুচর বাঁশগাঁও জেলেপাড়া ফুলদি, নাগেরচর কাসার কান্দি, দড়িকান্দি ও গজারিয়া গ্রামের নারী-পুরম্নষ ও শিশুকে নির্বিচারে গুলি ও বেয়োনেট চার্জ করে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার বিচার দাবি করেন এলাকাবাসী।
জনকন্ঠ
------------------------------------------------