১/১১-এর ধাক্কায় বিধ্বস্ত শ্রীনগর বিএনপি এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পারিবারিক দাওয়াত, মিলাদ মাহফিল আর জানাজায় অংশগ্রহণ ছাড়া নেতাকর্মীদের একত্রিত হওয়া যেন দুরূহ ব্যাপার। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর আমলে ধানের শীষের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত উপজেলায় বিএনপি এখনও ব্যাপকভাবে জনসমর্থনপুষ্ট দল। কিন্তু গা বাঁচানো নেতৃত্ব আর প্রতিপক্ষ আ’লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বাবু সুকুমার রঞ্জন ঘোষের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কাছেই মূলত মার খাচ্ছে বিএনপি। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং প্রশ্নবিদ্ধ নতুন মুখের নেতৃত্বের প্রভাবে অনেক প্রবীণ নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
তাছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের সঙ্গেও উপজেলা বিএনপির দূরত্ব দিনদিন বেড়েই চলছে। ফলে তারাও নিজেদের মতো করে ঘর গোছানোতে ব্যস্ত। কিন্তু সেখানেও নানা প্রতিবন্ধকতা আর বহিষ্কারাদেশের ভয়ে ওইসব সহযোগী সংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরই দ্রুত পাল্টে যায় শ্রীনগরের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। গত জোট সরকারের অধীনে এ আসনের উপ-নির্বাচনে বি. চৌধুরীর ছেলে মাহী বি. চৌধুরী বিকল্পধারা থেকে কুলা মার্কায় নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বয়ং তার বাবার কুলা প্রতীক নৌকা ও ধানের শীষের কাছে মারাত্মকভাবে ধরাশায়ী হয়। অথচ ওই নির্বাচনে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও এক সময়ের জাতীয় পার্টির বর্ষীয়ান নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপির টিকিটে প্রায় ১ লাখ ভোট পেয়েছেন। আগামী নির্বাচন কিংবা কেন্দ্র ঘোষিত যে কোনো আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুতে ঐক্যবদ্ধের কোনো বিকল্প নেই বলে একাধিক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের অভিমত।