তবে এখন বুঝি চুক্তিকেন্দ্রিক সেই অভিজ্ঞতার দরকার ছিল। একাধিক সুরকারের সুরে গড়া তাড়াহুড়ার ফসল ‘ভালোবাসার অধর’ থেকে শিক্ষা নিয়ে গেল দেড় বছর ধরে ন্যান্সি পরিকল্পনা করছিলেন তার দ্বিতীয় এককের। এর মধ্যে আরফীন রুমীর সুর-সংগীত-কণ্ঠে একটি দ্বৈত অ্যালবামের কাজও শুরু করে থামিয়ে দিয়েছেন পথিমধ্যে। অপেক্ষায় ছিলেন সংগীতে তার অলিখিত অভিভাবক হাবিবের সবুজ সংকেতের। কারণ, প্রথম অ্যালবামের ওই তাড়াহুড়া ভাব আর ব্যর্থতা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে হাবিব নিজেও মুখ ভার করেছিলেন ন্যান্সির ওপর। নতুন একক ‘আহ্বান’-এর কাজ শেষে নতুন এসাইনমেন্ট হিসেবে হাবিব হাতে নিয়েছেন ন্যান্সির একক অ্যালবামের পুরো দায়িত্ব। যে বাজারে হাবিবের একক সুর-সংগীতায়োজনের জন্য একক শিল্পী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালকরা মুখিয়ে থাকেন, সেখানে ন্যান্সি আবারও প্রমাণ করলেন তিনি আসলেই ভাগ্যবতী।
ন্যান্সি জানান, গেল ২৭শে মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যালবামটির কাজ শুরু করেছেন দু’জনে। টার্গেট আসন্ন ঈদ। তবে এ নিয়ে দু’জনার মধ্যে তেমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই, নেই কোন চুক্তিকেন্দ্রিক তাগাদা। রোজার ঈদের আগে শেষ না হলে কোরবানির ঈদে প্রকাশ পাবে। এমনটাই অভিমত ন্যান্সির। অ্যালবাম পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, আমি হাবিবুল (হাবিব) ভাইয়ের সঙ্গে এ নিয়ে অনেকবার বসেছি। আমার ইচ্ছা এবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে অডিও বাজারে নিজের কণ্ঠটাকে প্রেজেন্ট করবো। আমাদের পরিকল্পনা আছে এবার কিছু রিদমিক-ফাস্ট বিটের গান করার। যে ধরনের গান এর আগে আমার কণ্ঠে কেউ শোনেনি। লক্ষ্য করবেন আমার গাওয়া সব গানই স্লো এবং স্যাড ঘরানার। তাই এবার অডিও অ্যালবামে তার উল্টো স্বাদের মাত করা কিছু গান নিয়ে হাজির হতে চাই। এদিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম ব্যস্ত ও চাহিদাসম্পন্ন শিল্পী-সংগীত পরিচালক হাবিব এবারই প্রথম নিজের বাইরে অন্যের জন্য এককভাবে সুর-সংগীতায়োজন করছেন।
এর আগে লন্ডন প্রবাসী কায়া, হেলাল ও শিরীনের অ্যালবামে এককভাবে সংগীতায়োজন করলেও সেগুলো ছিল রিমেক গান। এদিকে আগামী রোজা পর্যন্ত একক অ্যালবামের কাজ নিয়ে হাবিব-ন্যান্সির বেশির ভাগ সময় পার হওয়ার কথা থাকলেও এর মধ্যে চলবে চলচ্চিত্র এবং জিঙ্গেলের কাজও। অন্যদিকে হাবিবের নতুন এককে যেমন ন্যান্সির কণ্ঠ ঠাঁই পেয়েছে, তেমনি ন্যান্সির এককেও হাবিবের কণ্ঠ পাওয়া যাবে বলে ইঙ্গিত করেছেন ন্যান্সি। দ্বিতীয় একক প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, সত্যি বলতে এ অ্যালবামটি আমার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। হাবিবুল (হাবিব) ভাইও একইভাবে নিয়েছেন। আশা করি ভাল কিছু দাঁড়াবে। চলচ্চিত্রের গানে হাবিব আর ন্যান্সি এখন একে- অপরের পরিপূরক হয়েই দাঁড়িয়েছে। দু’জনেই অন্যদের কণ্ঠ অথবা সুরে গাইলেও ঠিক যেন শতভাগ বেজে ওঠে না সেই গানটি, যতটা বাজে হাবিব-ন্যান্সির যৌথ রসায়নে গড়া প্রায় সব গান। ফলে প্লে-ব্যাকের পাশাপাশি দ্বিতীয় একক দিয়ে সংগীত ক্যারিয়ারের সমতায় ফিরবেন ন্যান্সি- এটাই এখন প্রত্যাশা।
মাহমুদ মানজুর