Thursday, May 19, 2011

অদক্ষতার জন্যও বিচারকদের অভিশংসন চান মাহবুবে

অসদাচরণের পাশাপাশি অদক্ষতার অভিযোগেও বিচারকদের অভিশংসন করার বিধান তৈরির পক্ষে মত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অভিশংসনের এই ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে দেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

বুধবার নব নিযুক্ত প্রধান বিচারপতি মো. মোজম্মেল হোসেনের সবংর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মত প্রকাশ করেন।

সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, অভিশংসনের কাজটি সংসদ করবে- না কি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল, তা জানার জন্য সবাই অপেক্ষায় আছেন।

"যদি সংসদের হাতে (বিচারকদের) অভিশংসনের ক্ষমতা থাকে, সেক্ষেত্রে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া গেলে ওই বিচারপতি বহাল তবিয়তে অবস্থান করবেন এবং বিচার বিভাগের ক্ষতি করতে থাকবেন।"

আর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে এই ক্ষমতা দেওয়া হলে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাহবুবে আলম বলেন, "সংসদ সদস্য ও আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই, শুধু অসদাচরণ নয়, এর সঙ্গে অদক্ষতাও যুক্ত হোক।"

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষায়, "যিনি মানসম্মত রায় লিখতে পারবেন না, যিনি যুক্তিসঙ্গত সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন না, একটি সাংবিধানিক পদ আঁকড়ে থাকার কি অধিকার থাকবে তার ?"

এর আগে প্রধান বিচারপতি হিসাবে দায়িত্বের শেষ দিনে এবিএম খায়রুল হক মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিচারপতিদের অভিশংসন নিয়ে সংসদ চাইলে যে কোনো আইন করতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংসদের।

গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে নেওয়ার পক্ষে মত দেন। সেদিন তিনি বলেন, সংসদ রাষ্ট্রপতিকে ইম্পিচ করতে পারে। আর বিচারপতিদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি, তাহলে বিচারপতিদের ইম্পিচ করা যাবে না কেন?

বিচারকদের জবাবদিহিতা

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাহবুবে আলম বলেন, "অনেক বিচারপতি বলেন, তারা দায়বদ্ধ থাকেন বিবেকের কাছে। আমার মনে হয়, এটি একটি বায়বীয় উক্তি।"

নব নিযুক্ত প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "একজন বিচারপতি একক বেঞ্চে বসে মাসে কয়টি মামলার নিষ্পত্তি করলেন, এই প্রতিষ্ঠানকি (সুপ্রিম কোর্ট) তা দেখতে পারে না? এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি হিসাবে আপনি কি ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন না। একটি ডিভিশন বেঞ্চ মাসে কয়টি মামলার নিষ্পত্তি করল, বা সে রায় মানসম্মত হল কি না, এটি না দেখে আপনি কি নিশ্চুপ থাকবেন?"

দুর্নীতি তদন্তের আহ্বান
প্রধান বিচারপতি হিসাবে বিচারপতি তাফাজ্জল ইসলামকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তিনি আদালতের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। এরপর একটি কমিটি হয়েছিল, তদন্ত প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আর কিছুই হয়নি।

বিচারপতি মোজম্মেল হোসেনের উদ্দেশে তিনি বলেন, "এ ব্যাপারে একজন প্রধান বিচারপতির ভূমিকাকে আমি সমর্থন করতে পারছি না। আমি আশা করি, আপনি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন।"

'আপোষ নয়'

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ইদানিং হাইকোর্টের 'কতিপয়' বিচারপতি আপিল বিভাগের বিচারপতিদের কাজ সম্পর্কে তাচ্ছিল্যপূর্ণ উক্তি করেন। বিশেষ করে আগাম জামিন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় হাইকোর্টের অনেক বেঞ্চ সঠিকভাবে অনুসরণ করছেন না।

"আমি বিশ্বাস করি, এ বিষয়ে আপনি কোনোভাবেই আপোষমূলক মনোভাব দেখাবেন না," বলেন মাহবুবে।

তার মতে, আইনজীবীরা যেভাবে আদালতের শৃঙ্খলায় আবদ্ধ থাকতে বাধ্য, তেমনি হাইকোর্টের বিচারকরাও আপিল বিভাগের প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য।

'অর্থই অনথর্'
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অর্থই সকল অনর্থের মূল- এ প্রবচনটি এখন আর কেউ মনে রাখেন না। অধিকাংশ আইনজীবী অর্থ উপার্জনকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।

"আইন অঙ্গনের সমস্ত অরাজকতার মূল কারণ হলো- সমস্ত ন্যায় নীতি বিসর্জন দিয়ে অর্থের পিছনে ছোটা।"