Thursday, May 19, 2011

পুলিশ প্রহরায় একের ধান অন্যে কেটে নেয়ার অভিযোগ

লৌহজংয়ের পদ্মার চরে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সীগঞ্জ থেকে: মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মার চরে পুলিশ প্রহরায় পাকা ধান কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চরের খাস জমিতে ধান লাগিয়ে চাষীরা এখন পুলিশের কারণে জমির ধান তুলে আনতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং পুলিশ চরের একজন মাদবরের পক্ষ হয়ে এ ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ধান কাটা নিয়ে এখানে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের সম্ভবনা রয়েছে।

গতকাল বুধবার লৌহজংয়ের পদ্মার চরের সাইন হাটি মৌজায় পুলিশ প্রহরায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। চরের হামিদ মাধবরের সাথে প্রশাসনের যোগসাজসে এ ধান কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কৃষকরা। সাইনহাটি মৌজার খাস জমিতে ধান বপনকারী ফরহাদ হোসেন, নিজাম খলিফা, আলমগীর মাঝি , জুয়েল হোসেন মাঝি, কাদির , জব্বর মেম্বার, ছামাদ ভূইয়া , আলসাম ,মিঠু ও সাজুসহ অনেকে জানান , তারা সাইনহাটি মৌজার এসকল জমিতে বিগত কয়েক বছর আগে ডিসিআর কেটে আগাছা পরিস্কার করে ধান চাষ করে আসছিল। এবারও তারা যথা সময়ে এসকল জমিতে ধান চাষ করে। এখন জমির ধান পেকেছে। বুধবার পুলিশ প্রহরায় তাদের চাষকৃত এসকল জমির ধান চরের হামিদ মাদবর ও তার লোকজন কেটে নেয়া শুরু করেছে। পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ করেও তারা তাদের জমিতে ধান কাটা বন্ধ করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন।

এব্যাপরে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ প্রহরায় ধান কাটা হচ্ছে না। এ মৌসুমে চরের জমির ধান কাটা নিয়ে রক্তক্ষতি সংঘর্ষ হয়ে থাকে , তাই পুলিশ সেখানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। তাছাড়া কোর্টের আদেশ অনুযায়ী অমিমাংশিত জমির ফসল পুলিশের জিম্মায় নিতে পুলিশ সেখানে দায়িত্ব পালন করছে। কারো পক্ষ নিয়ে ধান কাটার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, যাদের ধান তারাই কাটছে। কিন্তু কৃষকরা দাবি করেছে এ মৌজায় হামিদ মাদবরের কখনই কোন জমিতে ধান চাষ করেনি। এ ব্যাপারে হামিদ মাদবরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ছেলে ফারুক মাদবর জানিয়েছেন, আমরা অন্যের জমিতে ধান কাটিনি। আমাদের জমির ধান আমরা প্রশাসনকে অবহিত করে কেটেছি। তাও শুধু চার আনি ধান কেটেছি বাকী বারো আনি বর্গাচাষীর ধান আমরা জমিতে রেখে এসেছি কৃষকের জন্য।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জাহেদুল রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চরের খাস জমিতে যদি কেউ ধান বা ফসল চাষ করে থাকে তবে সরকারকে একটি অংশ দিয়ে তা কেটে নেওয়া যাবে। আর একের চাষ করা ধান অপরে কেটে নিয়ে যাচ্ছে এরকম অভিযোগ আমার জানা নেই । যদি কেউ অভিযোগ করে তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এ ধান কাটাকে কেন্দ্র করে চরের দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় এখানে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধান কাটার সুষ্ঠু সমাধান না হলে এখানে মানুষ খুন হবার ঘটনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।