গত ২৩ মে রাত ৩টায় পৃথিবী ছেড়ে চলে যান সত্তর দশকের জনপ্রিয় পপসংগীতশিল্পী পিলু মুমতাজ। তাঁর সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁরই বন্ধু শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ
পিলু মুমতাজের সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৭৩ সালে, প্রয়াত ফিরোজ সাঁইর একটি টিভি অনুষ্ঠানে। এরপর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের 'সপ্তবর্ণা' অনুষ্ঠান থেকে দুজনের মধ্যে হৃদ্যতা বাড়তে থাকে। আমার গান খুব পছন্দ করত সে। আমিও তার গান ভালোবাসতাম। আমরা একে অন্যকে তুই বলে সম্বোধন করতাম। দুজনের সম্পর্কটা ছিল শতভাগ বন্ধুত্বের।
মুমতাজ আলী খানের মেয়ে বলে গানটা হয়তো তাঁর রক্তে ছিল। গানের পাশাপাশি তাঁর সামাজিকতা, সহশিল্পীদের প্রতি আন্তরিকতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমাকে বেশ টানত। পিলুর সঙ্গে আমার সবচেয়ে স্মরণীয় কনসার্টটি ছিল রংপুরে, ১৯৭৭ সালে। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন হানিফ সংকেত। সেদিন আমরা একে অন্যের গান ভীষণ উপভোগ করেছি। তার বিয়ের পরও আমাদের যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। টিভিতে কোনো অনুষ্ঠান থাকলে বলত, 'দোস্ত, তুই যাচ্ছিস তো? তা না হলে কিন্তু আমি যাব না।' আমি, আজম, পিলু ও ফকিরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে গাওয়ার ক্ষেত্রে পিলুর উদ্যোগই থাকত বেশি।
নাজমা জামানের পর সে-ই ছিল স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের পপসংগীতের আলোচিত গায়িকা। তার 'একদিন তো চলে যাব' গানটি আমার ভীষণ প্রিয়। আজ গানটির কথা বারবার মনে পড়ছে। পারিবারিকভাবে সে ছিল আমার বোনের খালা শাশুড়ি। তাই মাঝেমধ্যে তাকে আমি দুষ্টুমি করে 'মাউই' ডাকতাম।
এ মানুষটির সঙ্গে আমার সর্বশেষ দেখা গত বছরের ৩ ডিসেম্বর, লালবাগ কেল্লায় 'সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড' অনুষ্ঠানে। ওই অনুষ্ঠানে পিলু-আমি-ফকির একসঙ্গে গান করি। অনুষ্ঠানের পর তার সঙ্গে আমার শেষ কথা ছিল_'ভালো থাকিস, আবার দেখা হবে'।
কয়েক দিন আগে কথা হয়েছিল মুঠোফোনে। কী রে, গান-বাজনা কি ছেড়ে দিলি নাকি? বলতেই বড় আফসোস করে বলছিল, 'যেখানে শিল্পীদের কোনো সম্মানই নেই, সেখানে গান করে কী হবে?'
প্রিয় এই মানুষটি এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, ভাবতেও পারিনি। আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।