Saturday, September 01, 2012

আন্দোলন নেই, আছে গ্রুপিং-মুন্সীগঞ্জ বিএনপি

মোজাম্মেল হোসেন সজল: আন্দোলনে নেই মুন্সীগঞ্জ বিএনপি। আছে জেলা থেকে তৃনমূল পর্যায়ে গ্রুপিং। হচ্ছে একের পর এক পকেট কমিটি। বাদ পড়ছে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা। শীর্ষ কতিপয় নেতারা জড়িত সরকারি দলের নেতাদের সঙ্গে বালুমহালসহ একাধিক ব্যবসায়। হরতালেও শহর সংলগ্ন পঞ্চসার ইউনিয়ন এলাকায় বিএনপি নেতাদের কারেন্টজাল, সুতার মিলসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকে সচল।

শহরের আংশিক এলাকা ও বিএনপি অধ্যুষিত মুক্তারপুর এলাকার দোকানপাট ছাড়া জেলার কোন উপজেলায় হরতালসহ বিরোধী কোন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না। উপজেলার শীর্ষ নেতারা ঢাকায় হাত গুটিয়ে বসে থাকেন। সহযোগী সংগঠনগুলোর কোন কর্মকাণ্ড নেই। নেই জেলার শীর্ষ নেতার সঙ্গে সমন্বয়ও। অথচ-বিরোধী আন্দোলনে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি নেই রাজপথে-এমন মন্তব্য মুন্সীগঞ্জ বিএনপি’র তৃনমূলের কর্মী-সমর্থকদের। তবে-শহরে জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবদুল হাই দলীয় কর্মসূচিগুলো পালনের যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার উপস্থিতিতে বিরোধী আন্দোলনগুলোতে কর্মী-সমর্থকদের ঢল নামে। এক্ষেত্রে শহরের বাইরে চরকেওয়ারসহ চরাঞ্চল ও আবদুল হাইয়ের নিজ এলাকা পঞ্চসার থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের এনে মিছিল-সমাবেশ করতে দেখা যায়। তার অনুপস্থিতিতে নেতাকর্মীর অভাবে অধিকাংশ কর্মসূচিই পালিত হচ্ছে না।

এদিকে হরতাল এলে জেলা বিএনপি’র কোষাধ্যক্ষ ও পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানসহ অনেকেরই কারেন্টজাল, সুতার মিলসহ-শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল থাকে বলে দলীয় কর্মীদের অভিযোগ। এছাড়া শ্রীনগরে মাঝে মধ্যে দলীয় কর্মসূচি পালন করা হলেও জেলার সিরাজদিখান, লৌহজং, টঙ্গীবাড়ি, গজারিয়া ও মিরকাদিম পৌর এলাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের ৩ বছর ৮ মাসে বিরোধী আন্দোলনে নেতাদের রাজপথে দেখা মেলেনি। জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর রিপন মল্লিককে মাঝে মধ্যে জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবদুল হাইয়ের সঙ্গে শহরের মিছিল-সমাবেশে দেখা গেলেও তার নিজ এলাকা টঙ্গীবাড়ি উপজেলা এলাকায় বিরোধী কর্মসূচি পালন হচ্ছে না। টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং উপজেলা মিলে মুন্সীগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকা।

এ এলাকা থেকে দলীয় নমিনেশন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক স্থাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা। এখানে পার্টির অবস্থান শক্ত থাকার কথা থাকলেও দুর্বল নেতৃত্বের কারণে এখানে দলীয় কর্মসূচি পালন করা যাচ্ছে না বলে দলীয় কর্মীদের অভিযোগ। এছাড়া শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-গ্রুপিংয়ের ফলে জেলা বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে বিরোধী শিবির এ পর্যন্ত ৫টি সহযোগী সংগঠন কেন্দ্র থেকে অনুমোদন করে নিয়ে আসে। জেলা যুবদল, জিয়া পরিষদ, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাস ও মহিলা দল-এই ৫টি সহযোগী সংগঠন কেন্দ্র থেকে অনুমোদন পায়। এদের মধ্যে জেলা যুবদলের সভাপতিতে শহর ভিত্তিক কর্মসূচিতে দেখা গেলেও সাধারণ সম্পাদকের দেখা মিলে না।

বাকি ৪টি সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতার কাউকে জেলা বিএনপি’র কোন কর্মসূচি পালনে দেখা মিলে না। মাঠ কাঁপানো ছাত্রদলও মাঠে নেই। এদিকে, শীর্ষ নেতাদের দ্বন্দ্বের প্রভাব তৃনমূল নেতাদের মধ্যেও পড়েছে। এতে করে দুই গ্রুপকে এক সঙ্গে মাঠে দেখা মিলে না। গত ৩১ শে জুলাই শহরের দলীয় কার্যালয়ে জরুরি সাধারণ সভা করে জেলা বিএনপি সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবদুল কুদ্দুস ধীরন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আব্দুল্লাহকে দলের সব সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বিএনপি গত ২৩শে আগস্ট তাদের বহিষ্কারকে অবৈধ ঘোষণা করে জেলা বিএনপিকে চিঠি দেয়।

কেন্দ্রের এ আদেশে অসন্তুষ্ট হন মিজানুর রহমান সিনহা। তিনি এ বিষয়ে অচিরেই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন বলে দলীয় এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন। শ্রীনগর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা ঐকবদ্ধভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর রিপন মল্লিক মানবজমিনকে বলেন, বড় দলে লবিং-গ্রুপিং থাকতেই পারে। আমরা কোন পকেট কমিটি গঠন করিনি। কেন্দ্রের কর্মসূচি পালনও করছি।

মানবজমিন