বিক্রমপুরের ইতিহাস শুধু একটি পরগনার ইতিহাস নহে, ইহা বঙ্গেরই ইতিহাস...
Tuesday, July 07, 2009
ফুঁসে উঠেছে কীর্তিনাশা পদ্মা
একই গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব উন্নত নেছা জীবিকার অবলম্বন গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি রক্ষায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, সবই তো গেল এখন অন্যের বাড়িতে ঠিকানা খুঁজতাছি। সমবয়সী ননী গোপাল জানান, জšে§র পর এরকম ভাঙন আর দেখিনি। বাপ-দাদার রেখে যাওয়া চার একর জমি, ২৫ শতাংশের বাড়িÑ সবই কেড়ে নিয়েছে পদ্মা।
উপজেলার ভাঙনকবলিত ভাগ্যকুল ও বাঘড়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী জানান, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে শত শত বসতভিটাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। প্রতি মুহূর্তেই পদ্মার প্রবল ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। এরই মধ্যে পদ্মা কেড়ে নিয়েছে উপজেলার কবুতরখোলা থেকে বাঘড়াবাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকার ৩ হাজার একর বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে নদী তীরবর্তী উত্তর কামারগাঁও, ভাগ্যকুল, পূর্ব বাঘড়া, বাঘড়া, কেদারপুর, মাগডাল, মান্দ্রা, কবুতরখোলা গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে জেলার ঐতিহ্যবাহী ভাগ্যকুল ও বাঘড়া বাজারের ৭ শতাধিক দোকানপাট। হুমকির মুখে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘড়া বাসুদেব মন্দির, স্বরূপ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, কামারগাঁও রাধা গোবিন্দ মন্দির, ৯টি মসজিদ, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঢাকা-দোহার সড়কসহ দুই সহস াধিক বাড়িঘর।
ভাগ্যকুল ও বাঘড়া বাজার রক্ষায় সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গ্রামবাসী নানা পন্থায় বাঁশের বেড়া বেঁধে ভাঙন ঠেকাতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাগ্যকুল ও বাঘড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাবিত ৫০ লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলার পরিবর্তে ১০ লাখ টাকার গজারি প্রোটেকশন প্রকল্প কোন কাজেই আসছে না।
অবিরাম বর্ষণ ও উজান নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার ভাগ্যকুল পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ২ মিটার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীরভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ আমলের দেশের অন্যতম প্রখ্যাত নৌবন্দর ঐতিহ্যবাহী ভাগ্যকুলের মানুষের ভাগ্য এখন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। তাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে রাক্ষুসী পদ্মা।
লৌহজং থেকে যুগান্তর প্রতিনিধি শেখ সাইদুর রহমান টুটুল জানান, পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করার পর এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই পদ্মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে পদ্মা গ্রাস করেছে লৌহজংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। বসতভিটা, ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা ভাঙনের গর্জন নিয়ে পদ্মা ধেয়ে আসছে মাওয়া-কবুতরখোলার দিকে। ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের মানচিত্র। সম্প্রতি মাওয়া-ভাগ্যকুল, কবুতরখোলা, বাগড়া এলাকায় প্রায় ৭ কিমি. এলাকাজুড়ে ভাঙনের খেলা চলছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই মাওয়া-কবুতরখোলা-ভাগ্যকুল প্রকল্প বাঁধ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী মান্দ্রা, কবুতরখোলা, কামারগাঁও, মাঘঢার, মাওয়াকান্দিপাড়া, যশলদিয়া গ্রামের দেড় সহস াধিক পরিবারে চরম আতংক দেখা দেয়। গত ১৫ বছরে লৌহজং উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রাম পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছেÑ ধাইদা, তেউটিয়া, লৌহজং, গাওদিয়া ইউনিয়নের আংশিক ও কনকসার ইউনিয়নের আংশিক, কুমারভোগ ইউনিয়নের আংশিক। এসব ইউনিয়নের ৭টি সম্পূর্ণ এবং সদর ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম চলে গেছে নদীগর্ভে। এসব এলাকার হাজার হাজার পরিবার সহায়-সম্বলহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
গাওদিয়ায় ছাত্তার মিয়া (৭০) সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, পরপর চারবার ভাঙনের পর এবার এসে উঠেছি গাওদিয়া গ্রামে। এই ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।
পদ্মা পাড়ের শত শত বাসিন্দা ভাঙনের কবলে পড়ে সহায়-সম্বলহীন হয়েছে। বর্তমানে কনকসারের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অংশ ইতিমধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। অপর অংশটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। অপরদিকে লৌহজং থানা ভবন, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস হুমকির মুখে রয়েছে। ডহরী, কলমা, সামুরবাড়ি এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নদীভাঙন রোধে এখনও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তীরবর্তী বাসিন্দারা নানা পন্থায় এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পদ্মার ভাগ্যকুল পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি
মুন্সিগঞ্জ ফুটবল লীগে সমাবেশ ক্লাব জয়ী
Monday, July 06, 2009
গ্যাসসহ বিভিন্ন দাবিতে মুন্সীগঞ্জে মানববন্ধন
সকাল ১১ টার দিকে শহরের পুরনো কাছারী এলাকা থেকে প্রেসক্লাব চত্বর পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে এ মানববন্ধনে রাজনীতিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর মুন্সীগঞ্জ শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার বহন করেন।
গ্যাস সংকট নিরসন ছাড়া অন্য দাবিগুলো হল- নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া-মুক্তারপুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ, পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত মিটার ভাড়া বাতিল, শহরের জলবদ্ধতা নিরসন এবং দ্রুত রাস্তা-ঘাট মেরামত।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে থানা প্রাঙ্গণে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন ও মুন্সীগঞ্জ শাখা ক্যাব এর সভাপতি জাহাঙ্গীর সরকার।
++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সঙ্কট
শিল্পকারখানা বìধ : বাসাবাড়িতে রান্না বিঘিíত
আবুসাঈদ সোহান মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে গ্যাসচালিত শিল্পকারখানা বìধ হয়ে গেছে। অনেক বাসাবাড়ির রান্না বিঘিíত হচ্ছে। খড়ি দিয়ে কিছু পরিবার রান্না করলেও অনেকে বাইরে থেকে খাবার এনে জীবনধারণ করছেন। গ্যাস সঙ্কটের ব্যাপারে তিতাস গ্যাস আঞ্চলিক ব্যবস্খাপক অজিত চন্দ্র দেব জানান, মুন্সীগঞ্জ সংযোগ পাইপলাইন সরু থাকায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম হওয়ায় এ অবস্খার সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিগগিরই এর সমাধানে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার ১২ ইঞ্চি প্যারালাল গ্যাস লাইনের কাজ শেষ হবে বলে তিনি জানান।
প্রায় আট হাজার সংযোগ রয়েছে মুন্সীগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায়। এর মধ্যে ৩৭টি শিল্পকারখানা গ্যাসচালিত। প্রায় এক কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২০-২৫ শতাংশ সরবরাহ হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন এবং নারায়ণগঞ্জ হয়ে ধলেশ্বরী নদীর তলদেশ দিয়ে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস আসে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়ায় এবং নারায়ণগঞ্জে চাহিদা অনেক বেশি থাকায় মুন্সীগঞ্জের এ অবস্খা বলে তিনি জানান।
শহরের শ্রীপল্লী বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, কিছু দিন ধরেই গ্যাসের সঙ্কট চলছে। তবে রাতে কিছু গ্যাস পাওয়া যেত। রাতের রান্না করা খাবারে সারা দিন চলত। কিন্তু এখন গ্যাস একবারেই আসছে না। তাই চুলা কিনে এখন খড়ি দিয়ে কোনোমতে রান্না চলছে। একই অবস্খার কথা জানান নয়াপাড়ার গৃহবধূ সুবিতা রানী। মধ্য কোর্টগাঁও বাসিন্দা হামিদা খাতুন জানান, গ্যাসের জন্য প্রহর গুনতে হয়। সময় সময় গ্যাস যখন আসে, তখনই রান্না সেরে নিতে হয়। নতুবা বাইরের পাউরুটি, পরোটা বা বিþুকট খেয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে দিন কাটাতে হয়।
শহরের খালইস্ট, মাঠপাড়া, ইসলামপুর, দেওভোগ, শিলমন্দি, কাটাখালী, রনছ, মালপাড়া, গোয়ালপাড়া, কোর্টগাঁও, গণকপাড়া, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, ইদ্রাকপুর, মানিকপুর, থানা কাউন্সিল, জমিদারপাড়ায়ও একই অবস্খা। এ পরিস্খিতিতে মুক্তারপুরের গ্যাসচালিত শিল্পকারখানর উৎপাদন বìধপ্রায়। এশিয়ান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক শাহ আলম জানান, গ্যাস না থাকায় তার ফ্যাক্টরির উৎপাদন এখন বìধই বলা চলে। এ ছাড়া ক্রাউন, শাহ সিমেন্ট, প্রিমিয়ার ও এমিরাত সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে গ্যাসচালিত জেনারেটর বìধ হয়ে গেছে। তাই এখন ডেসার বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে এখানকার সিমেন্ট কারখানাগুলো চলছে।
স্বাভাবিক অবস্খা থাকতেও শহরের শ্রীপল্লীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘিíত হচ্ছিল। এ পরিস্খিতি নিরসনে এম ইদ্রিস আলী উদ্যোগ নেন। এখানে নতুন পাইপলাইন স্খাপনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও পদ্ধতিগত কারণে বিলম্বিত হচ্ছে।
গ্যাসের পরিস্খিতির কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মোশারফ হোসেন জানান, সমস্যা সমাধানে তিতাস গ্যাসের এমডি’র সাথে তার দফায় দফায় আলোচনা হচ্ছে। পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন পাইপলাইন স্খাপনের ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সব রকম চেষ্টা চলছে।
গ্যাস সংকটে মুন্সীগঞ্জের অর্ধশতাধিক শিল্প-কারখানার উৎপাদন বন্ধ
ব্যবসায়ীরা জানান, মুক্তারপুরে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া গ্যাসচালিত শিল্পকারখানার মধ্যে ক্রাউন, প্রিমিয়ার ও শাহ সিমেন্ট, এমিরাত সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ও মাস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ উল্লেখযোগ্য। তাই বিদ্যুৎই এখন এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনের ভরসা।
সূত্র জানায়, প্রায় ৮ হাজার গ্যাস সংযোগ রয়েছে মুন্সীগঞ্জ শহর ও আশপাশ এলাকায়। এরমধ্যে ৩৭টি শিল্পকারখানা রয়েছে গ্যাসচালিত। এখানে এক কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২০/২৫ শতাংশ সরবরাহ করা হচ্ছে। সূত্র আরো জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়া ও নারায়ণগঞ্জে অনেক বেশি চাহিদা থাকায় মুন্সীগঞ্জের এই অবস্থা।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, মুন্সীগঞ্জের সংযোগ পাইপলাইন সরু হওয়ায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিগগিরই নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার ১২ ইঞ্চি প্যারালাল গ্যাসলাইনের কাজ সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন পাইপ লাইন স্থাপনের ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে।
মুন্সীগঞ্জে হরগঙ্গা কলেজে অনার্স মাস্টার্স কোর্সে পাঠদান ব্যাহত
কলেজে ১১টি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি কোর্স রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রির জন্য অতিরিক্ত দর্শন, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী শিক্ষা, গণিত ও ভুগোল বিভাগ রয়েছে। অনার্স ও মাস্টার্সের বিষয়য়গুলো হচ্ছে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজকল্যাণ, ব্যবস্থাপনা, হিসাব বিজ্ঞান, পদার্থ, রসায়ন, প্রাণী ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান। এসব বিষয়ে ৮৪ জন শিক্ষক রয়েছে।
ইংরেজি বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র নুর ই আলম খান জানায়, তাদের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরা প্রায় সময় উপস্থিত থাকেন না। গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে কলেজে প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে বিভাগের শিক্ষকদের কক্ষে তালা ঝুলছে।
সমাজকল্যাণের ছাত্র কাজল চৌধুরী জানায়, তাদের বিভাগের শিক্ষরা প্রায়ই উপস্থিত থাকেন না। মাঝে মধ্যে তাদের ডিপার্টমেন্টের ৪ শিক্ষক পালা করে ক্লাস করেন। এই সমস্যা বর্তমানে কলেজের সব বিভাগে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের অধ্যক্ষের পদটি ৮ এপ্রিল থেকে শূন্য রয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় কলেজটি শিক্ষকরা ঠিকমত কলেজে আসতেন। উপাধ্যক্ষ মো. শাহজাহান মিয়া দায়িত্বে রয়েছেন। গতকাল শনিবার সরজমিনে কলেজে গিয়ে উপাধ্যক্ষ শাহজাহান মিয়াকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। বিভাগগুলো ঘুরে শিক্ষক শূনতা দেখা যায়। কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুখেন ব্যানার্জি জানান, আমার বিভাগে তো শিক্ষক আছে, তবে অন্য বিভাগের কথা জানেন না। ডিগ্রির পরীক্ষা চলছে, তাই ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।
মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে কাওড়াকান্দি ২নং ঘাট ও মাওয়া ৩নং ঘাট অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রতিটি ঘাটই কর্দমাক্ত হয়ে যানবাহন ওঠানামায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ফলে ফেরি পারাপার হওয়ার পর লোড-আনলোডে বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে। তবে ডাম্ব ফেরি রানীক্ষেত শনিবার দুপুরে সচল হওয়ায় ও বৃষ্টি থেমে রোদ ওঠায় পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। ৪ দিন পর ট্রাক পারাপার শুরু হলেও উভয় পাড়ে যাত্রীবাহী পরিবহনসহ কাঁচামাল, রফতানিমুখী ট্রাকসহ এখনো ৪ শতাধিক যানবাহন আটকে আছে। ছুটির দিন শেষ হওয়ায় রোববার সকাল থেকে এ রুটে যানবাহনের চাপও বেড়েছে। ফলে ঘাটে আটকেপড়া যাত্রী ও শ্রমিকরা বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও টয়লেট সমস্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে পড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে অতিরিক্তি ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে।
Sunday, July 05, 2009
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি’র পাল্টাপাল্টি আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তাব
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ, ইয়াজউদ্দিনের বৈধতার বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি আড়াই বছরেও
২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। এর দুই দিন পর ৩১ অক্টোবর তার অধীনে ১০ উপদেষ্টা শপথ নেন। তাদের শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিনের রাষ্ট্রপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স
পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ ১৪ দল নেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, নুরুল ইসলাম, দিলীপ বড়–য়া, মুন্সি আবদুল লতিফ, মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ও জি এম কাদের তিনটি রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনগুলোতে বলা হয়, সংবিধানের ৫৮/গ অনুচ্ছেদে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের মধ্যে যিনি সর্বশেষ অবসর নিয়েছেন এবং এই অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্য রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেবেন। তবে এমন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পাওয়া না গেলে বা তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ নিতে অসম্মতি জানালে তার পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টার পদে নিয়োগ দেয়া হবে। ৫৮/গ(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি কোনো অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পাওয়া না যায় বা তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে অসম্মতি জানান তবে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্যে যিনি সর্বশেষ অবসর গ্রহণ করেছেন এবং এই অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্য তাকে নিয়োগ দেবেন। তবে এমন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে পাওয়া না গেলে বা তিনি অসম্মতি জানালে তার অব্যবহিত পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ দেবেন। ৫৮/গ(৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতিকে পাওয়া না গেলে বা অসম্মতি জানালে রাষ্ট্রপতি যতদূর সম্ভব সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্য এমন ব্যক্তিকে প্রধান উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেবেন। এই বিধানগুলো কার্যকর করা না গেলে রাষ্ট্রপতি এই সংবিধানের অধীনে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এই বিধানগুলো পর্যায়ক্রমে অনুসরণ না করে নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে তিনি রাষ্ট্রপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয় রিট আবেদনে।
রিট আবেদনে আরো বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। সংবিধান অনুয়ায়ী তার পূর্ববর্তী প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরীকে এই পদ গ্রহণের আহ্বান জানাতে হবে। কিন্তু তাকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগেরও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এছাড়া রিট আবেদনগুলোতে আরো বলা হয়, সংবিধানের ৫৮/খ(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা অপর ১০ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা অপর উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমনকি তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে অপর উপদেষ্টাদের অবহিত পর্যন্ত করা হয়নি। সংবাদ মাধ্যম ও উপদেষ্টাদের বক্তব্যে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ফলে তিনি সংবিধান পরিপন্থীভাবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এফ এম মেজবা উদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ যথাযথভাবে সংবিধান অনুসরণ না করেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের জন্য পর্যায়ক্রমে যে সব ব্যবস্থা অনুসরণ করার বিধান রয়েছে তা অনুসরণ করেননি। এ বিষয়টি এখন সবার কাছেই প্রমাণিত। কিন্তু রিট তিনটি এখনো বিচারাধীন থাকায় আদালতের মাধ্যমে এ বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। এই রিট তিনটির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত। তাই আদালতের মাধ্যমে এই রিটের নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। এ কারণে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত রিট আবেদনটির নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
