Monday, July 06, 2009

গ্যাসসহ বিভিন্ন দাবিতে মুন্সীগঞ্জে মানববন্ধন

মুন্সীগঞ্জ, জুলাই ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) - গ্যাস সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে।

সকাল ১১ টার দিকে শহরের পুরনো কাছারী এলাকা থেকে প্রেসক্লাব চত্বর পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে এ মানববন্ধনে রাজনীতিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর মুন্সীগঞ্জ শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার বহন করেন।

গ্যাস সংকট নিরসন ছাড়া অন্য দাবিগুলো হল- নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া-মুক্তারপুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ, পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত মিটার ভাড়া বাতিল, শহরের জলবদ্ধতা নিরসন এবং দ্রুত রাস্তা-ঘাট মেরামত।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে থানা প্রাঙ্গণে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন ও মুন্সীগঞ্জ শাখা ক্যাব এর সভাপতি জাহাঙ্গীর সরকার।

++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সঙ্কট
শিল্পকারখানা বìধ : বাসাবাড়িতে রান্না বিঘিíত
আবুসাঈদ সোহান মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে গ্যাসচালিত শিল্পকারখানা বìধ হয়ে গেছে। অনেক বাসাবাড়ির রান্না বিঘিíত হচ্ছে। খড়ি দিয়ে কিছু পরিবার রান্না করলেও অনেকে বাইরে থেকে খাবার এনে জীবনধারণ করছেন। গ্যাস সঙ্কটের ব্যাপারে তিতাস গ্যাস আঞ্চলিক ব্যবস্খাপক অজিত চন্দ্র দেব জানান, মুন্সীগঞ্জ সংযোগ পাইপলাইন সরু থাকায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম হওয়ায় এ অবস্খার সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিগগিরই এর সমাধানে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার ১২ ইঞ্চি প্যারালাল গ্যাস লাইনের কাজ শেষ হবে বলে তিনি জানান।
প্রায় আট হাজার সংযোগ রয়েছে মুন্সীগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায়। এর মধ্যে ৩৭টি শিল্পকারখানা গ্যাসচালিত। প্রায় এক কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২০-২৫ শতাংশ সরবরাহ হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন এবং নারায়ণগঞ্জ হয়ে ধলেশ্বরী নদীর তলদেশ দিয়ে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস আসে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়ায় এবং নারায়ণগঞ্জে চাহিদা অনেক বেশি থাকায় মুন্সীগঞ্জের এ অবস্খা বলে তিনি জানান।
শহরের শ্রীপল্লী বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, কিছু দিন ধরেই গ্যাসের সঙ্কট চলছে। তবে রাতে কিছু গ্যাস পাওয়া যেত। রাতের রান্না করা খাবারে সারা দিন চলত। কিন্তু এখন গ্যাস একবারেই আসছে না। তাই চুলা কিনে এখন খড়ি দিয়ে কোনোমতে রান্না চলছে। একই অবস্খার কথা জানান নয়াপাড়ার গৃহবধূ সুবিতা রানী। মধ্য কোর্টগাঁও বাসিন্দা হামিদা খাতুন জানান, গ্যাসের জন্য প্রহর গুনতে হয়। সময় সময় গ্যাস যখন আসে, তখনই রান্না সেরে নিতে হয়। নতুবা বাইরের পাউরুটি, পরোটা বা বিþুকট খেয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে দিন কাটাতে হয়।
শহরের খালইস্ট, মাঠপাড়া, ইসলামপুর, দেওভোগ, শিলমন্দি, কাটাখালী, রনছ, মালপাড়া, গোয়ালপাড়া, কোর্টগাঁও, গণকপাড়া, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, ইদ্রাকপুর, মানিকপুর, থানা কাউন্সিল, জমিদারপাড়ায়ও একই অবস্খা। এ পরিস্খিতিতে মুক্তারপুরের গ্যাসচালিত শিল্পকারখানর উৎপাদন বìধপ্রায়। এশিয়ান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক শাহ আলম জানান, গ্যাস না থাকায় তার ফ্যাক্টরির উৎপাদন এখন বìধই বলা চলে। এ ছাড়া ক্রাউন, শাহ সিমেন্ট, প্রিমিয়ার ও এমিরাত সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে গ্যাসচালিত জেনারেটর বìধ হয়ে গেছে। তাই এখন ডেসার বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে এখানকার সিমেন্ট কারখানাগুলো চলছে।
স্বাভাবিক অবস্খা থাকতেও শহরের শ্রীপল্লীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘিíত হচ্ছিল। এ পরিস্খিতি নিরসনে এম ইদ্রিস আলী উদ্যোগ নেন। এখানে নতুন পাইপলাইন স্খাপনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও পদ্ধতিগত কারণে বিলম্বিত হচ্ছে।
গ্যাসের পরিস্খিতির কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মোশারফ হোসেন জানান, সমস্যা সমাধানে তিতাস গ্যাসের এমডি’র সাথে তার দফায় দফায় আলোচনা হচ্ছে। পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন পাইপলাইন স্খাপনের ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সব রকম চেষ্টা চলছে।

গ্যাস সংকটে মুন্সীগঞ্জের অর্ধশতাধিক শিল্প-কারখানার উৎপাদন বন্ধ

গ্যাস সংকট মুন্সীগঞ্জের অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও রান্না করা যাচ্ছে না। ফলে বিপাকে পড়েছে শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও গৃহিনীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, মুক্তারপুরে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া গ্যাসচালিত শিল্পকারখানার মধ্যে ক্রাউন, প্রিমিয়ার ও শাহ সিমেন্ট, এমিরাত সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ও মাস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ উল্লেখযোগ্য। তাই বিদ্যুৎই এখন এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনের ভরসা।

সূত্র জানায়, প্রায় ৮ হাজার গ্যাস সংযোগ রয়েছে মুন্সীগঞ্জ শহর ও আশপাশ এলাকায়। এরমধ্যে ৩৭টি শিল্পকারখানা রয়েছে গ্যাসচালিত। এখানে এক কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২০/২৫ শতাংশ সরবরাহ করা হচ্ছে। সূত্র আরো জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়া ও নারায়ণগঞ্জে অনেক বেশি চাহিদা থাকায় মুন্সীগঞ্জের এই অবস্থা।

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, মুন্সীগঞ্জের সংযোগ পাইপলাইন সরু হওয়ায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিগগিরই নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার ১২ ইঞ্চি প্যারালাল গ্যাসলাইনের কাজ সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন পাইপ লাইন স্থাপনের ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে।

মুন্সীগঞ্জে হরগঙ্গা কলেজে অনার্স মাস্টার্স কোর্সে পাঠদান ব্যাহত

মুন্সীগঞ্জে সরকারি হরগঙ্গা কলেজে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে অনার্স ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘি্নত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকরা তাদের খেয়াল খুশিমত ক্লাস করান। প্রায় সময়ই বিভাগগুলোতে ক্লাস হচ্ছে না। কলেজে বহিরাগতদের উৎপাত বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিন বহিরাগতদের সঙ্গে কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে মারামারি হচ্ছে। ফলে দিন দিন হারিয়ে ফেলতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী কলেজটি তার সুনাম।

কলেজে ১১টি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি কোর্স রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রির জন্য অতিরিক্ত দর্শন, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী শিক্ষা, গণিত ও ভুগোল বিভাগ রয়েছে। অনার্স ও মাস্টার্সের বিষয়য়গুলো হচ্ছে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজকল্যাণ, ব্যবস্থাপনা, হিসাব বিজ্ঞান, পদার্থ, রসায়ন, প্রাণী ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান। এসব বিষয়ে ৮৪ জন শিক্ষক রয়েছে।

ইংরেজি বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র নুর ই আলম খান জানায়, তাদের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরা প্রায় সময় উপস্থিত থাকেন না। গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে কলেজে প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে বিভাগের শিক্ষকদের কক্ষে তালা ঝুলছে।

সমাজকল্যাণের ছাত্র কাজল চৌধুরী জানায়, তাদের বিভাগের শিক্ষরা প্রায়ই উপস্থিত থাকেন না। মাঝে মধ্যে তাদের ডিপার্টমেন্টের ৪ শিক্ষক পালা করে ক্লাস করেন। এই সমস্যা বর্তমানে কলেজের সব বিভাগে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের অধ্যক্ষের পদটি ৮ এপ্রিল থেকে শূন্য রয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় কলেজটি শিক্ষকরা ঠিকমত কলেজে আসতেন। উপাধ্যক্ষ মো. শাহজাহান মিয়া দায়িত্বে রয়েছেন। গতকাল শনিবার সরজমিনে কলেজে গিয়ে উপাধ্যক্ষ শাহজাহান মিয়াকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। বিভাগগুলো ঘুরে শিক্ষক শূনতা দেখা যায়। কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুখেন ব্যানার্জি জানান, আমার বিভাগে তো শিক্ষক আছে, তবে অন্য বিভাগের কথা জানেন না। ডিগ্রির পরীক্ষা চলছে, তাই ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।

মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

উজান থেকে নেমে আসা পানি ও বৃষ্টিতে পদ্মা নদীর ভাগ্যকুল পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিতে প্লাবিত হয়ে কাওড়াকান্দির ২নং ফেরিঘাটসহ প্রচ- স্রোতে মাওয়া ৩নং ফেরিঘাট অচল হয়ে পড়েছে। বাকি ঘাটগুলো হাইল্যান্ডে স্থানান্তর করে সচল রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে কাওড়াকান্দি ২নং ঘাট ও মাওয়া ৩নং ঘাট অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রতিটি ঘাটই কর্দমাক্ত হয়ে যানবাহন ওঠানামায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ফলে ফেরি পারাপার হওয়ার পর লোড-আনলোডে বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে। তবে ডাম্ব ফেরি রানীক্ষেত শনিবার দুপুরে সচল হওয়ায় ও বৃষ্টি থেমে রোদ ওঠায় পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। ৪ দিন পর ট্রাক পারাপার শুরু হলেও উভয় পাড়ে যাত্রীবাহী পরিবহনসহ কাঁচামাল, রফতানিমুখী ট্রাকসহ এখনো ৪ শতাধিক যানবাহন আটকে আছে। ছুটির দিন শেষ হওয়ায় রোববার সকাল থেকে এ রুটে যানবাহনের চাপও বেড়েছে। ফলে ঘাটে আটকেপড়া যাত্রী ও শ্রমিকরা বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও টয়লেট সমস্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে পড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে অতিরিক্তি ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে।

Sunday, July 05, 2009

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি’র পাল্টাপাল্টি আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তাব

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব অনুমোদন জমা দেয়া হয়েছে। আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহার জমা দেয়া ৫১ সদস্যের কমিটি মনঃপুত না হওয়ায় শামসুল ইসলাম গ্রুপ পাল্টা কমিটি অনুমোদনের জন্য জমা দিয়েছে। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের দ্বন্দ্ব এখন নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলাম গ্রুপের জমা দেয়া কমিটিকে পকেট কমিটি হিসেবে দাবি করেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশ। এই কমিটিতে রয়েছে এম শামসুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তার ছেলে সাইফুল ইসলাম, শহর বিএনপি’র সভাপতি যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিকদার, তার বোন রহিমা বেগম সিকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মীর সরফত আলী সপু ও তার ভাই মীর নেওয়াজ আলীর নাম। পরিবারের সদস্যদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় দারুণ ইমেজ সঙ্কটে পড়েছেন শামসুল ইসলাম। ওদিকে আহ্বায়ক সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার কমিটিতেও অনেক সিনিয়র নেতার স্থান হয়নি। এ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক রহিমা বেগম সিকদার ও যুগ্ম আহ্বায়ক মীর সরাফত আলী সপু স্বাক্ষরিত পাল্টা কমিটিকে আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহাসহ ৯ যুগ্ম আহ্বায়কের নাম অপরিবর্তিত রেখে ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি জমা দেয়া হয় গত ২৬শে জুন। তবে ৫১ সদস্যের উভয় কমিটিতে ২৩ জনের নামের মিল রয়েছে। এম শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান সিকদার এবং মিজানুর রহমান সিনহা ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হাই গ্রুপের সৃষ্ট দ্বন্দ্বের প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার লড়াই নিয়ে এ পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠিত হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা জানান।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ, ইয়াজউদ্দিনের বৈধতার বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি আড়াই বছরেও

অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের বৈধতার বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে উচ্চ আদালতে। দীর্ঘ আড়াই বছর পার হলেও বিষয়টির এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তবে এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকায় এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত এ সংক্রান্ত রিট আবেদনটির নিষ্পত্তি হওয়া দরকার বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। ২০০৬ সালের ২৬ নভেম্বর ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিলসহ সমমনা রাজনৈতিক দলের (১৪ দলীয় জোট) ১০ প্রতিনিধি হাইকোর্টে এ বিষয়ে রিট আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদেশ দেয়ার আগ মুহূর্তে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন রিটগুলোর সব কার্যক্রম স্থগিত করেন। এ নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এর পর আর এই রিটের কোনো শুনানি হয়নি।
২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। এর দুই দিন পর ৩১ অক্টোবর তার অধীনে ১০ উপদেষ্টা শপথ নেন। তাদের শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিনের রাষ্ট্রপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স
পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ ১৪ দল নেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, নুরুল ইসলাম, দিলীপ বড়–য়া, মুন্সি আবদুল লতিফ, মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ও জি এম কাদের তিনটি রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনগুলোতে বলা হয়, সংবিধানের ৫৮/গ অনুচ্ছেদে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের মধ্যে যিনি সর্বশেষ অবসর নিয়েছেন এবং এই অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্য রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেবেন। তবে এমন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পাওয়া না গেলে বা তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ নিতে অসম্মতি জানালে তার পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টার পদে নিয়োগ দেয়া হবে। ৫৮/গ(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি কোনো অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পাওয়া না যায় বা তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে অসম্মতি জানান তবে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্যে যিনি সর্বশেষ অবসর গ্রহণ করেছেন এবং এই অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্য তাকে নিয়োগ দেবেন। তবে এমন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে পাওয়া না গেলে বা তিনি অসম্মতি জানালে তার অব্যবহিত পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ দেবেন। ৫৮/গ(৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতিকে পাওয়া না গেলে বা অসম্মতি জানালে রাষ্ট্রপতি যতদূর সম্ভব সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্য এমন ব্যক্তিকে প্রধান উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেবেন। এই বিধানগুলো কার্যকর করা না গেলে রাষ্ট্রপতি এই সংবিধানের অধীনে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এই বিধানগুলো পর্যায়ক্রমে অনুসরণ না করে নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে তিনি রাষ্ট্রপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয় রিট আবেদনে।
রিট আবেদনে আরো বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। সংবিধান অনুয়ায়ী তার পূর্ববর্তী প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরীকে এই পদ গ্রহণের আহ্বান জানাতে হবে। কিন্তু তাকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগেরও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এছাড়া রিট আবেদনগুলোতে আরো বলা হয়, সংবিধানের ৫৮/খ(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা অপর ১০ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা অপর উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমনকি তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে অপর উপদেষ্টাদের অবহিত পর্যন্ত করা হয়নি। সংবাদ মাধ্যম ও উপদেষ্টাদের বক্তব্যে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ফলে তিনি সংবিধান পরিপন্থীভাবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এফ এম মেজবা উদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ যথাযথভাবে সংবিধান অনুসরণ না করেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের জন্য পর্যায়ক্রমে যে সব ব্যবস্থা অনুসরণ করার বিধান রয়েছে তা অনুসরণ করেননি। এ বিষয়টি এখন সবার কাছেই প্রমাণিত। কিন্তু রিট তিনটি এখনো বিচারাধীন থাকায় আদালতের মাধ্যমে এ বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। এই রিট তিনটির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত। তাই আদালতের মাধ্যমে এই রিটের নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। এ কারণে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত রিট আবেদনটির নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।

পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি

মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে ভারী যান বন্ধ
গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীতে ৪০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ও টানা বৃষ্টিতে যান পারাপারে মারাত্মক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ও টানা বৃষ্টিতে এ রুটের ৩টি ঘাট প্লাবিত হওয়াসহ সবগুলো ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ও পদ্মা নদীতে ঢেউসহ স্রোত থাকায় বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এরুটে ভারী যানবাহন বিশেষ করে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাওয়ার ২টি ফেরি ঘাট এখনো অচল রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র একটি ঘাট সচল থাকায় যানবাহন লোড আনলোডের ক্ষেত্রে দেড় থেকে দুঘণ্টা সময় লাগছে। এর সঙ্গে ডাম্ব ফেরি রানীক্ষেত ও রানীগঞ্জ বিকল থাকায় যানজট পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। উভয় পাড়ে যাত্রীবাহী পরিবহনসহ প্রায় সাড়ে চার শতাধিক যানবাহন আটকা পড়েছে।

ট্রাক চালকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে কাঁচামালবাহী ট্রাক, রফতানিমুখী ট্রাকসহ সব ট্রাক পারাপার বন্ধ রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ সহকারী ম্যানেজার শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন, অতি বৃষ্টি ও পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা জোড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

ফখরুদ্দীন সরকারের কার্যক্রম তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি হচ্ছে

ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের সকল অবৈধ কার্যক্রম তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার বিষয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। মাইনাস টু ফর্মুলা, শীর্ষনেত্রীদের খাবারে বিষ, নতুন রাজনৈতিক দল গঠন ও অর্থ সরবরাহ, রাজনৈতিক নেতাদের ওপর নির্যাতন, শিল্পপতিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং অতি উৎসাহী গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে। আগামীকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন উপদেষ্টার দুর্নীতি তদন্তের বিষয়ে সংসদীয় উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার চাচ্ছে বিগত সরকারের সময়ে সংঘটিত ঘটনাসমূহের সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে। তিনি বলেন, ওই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাদের ওপর নির্যাতন হয়েছে- যা আগে কখনও ঘটেনি। কেউ যদি এ বিষয়ে কমিশন গঠনের দাবি করে তাহলে সরকার হয়তো মতামত নিয়ে তা করতে পারে। সরকারের অপর একজন নীতিনির্ধারক বলেন, ফখরুদ্দীনের সময়ে সরকারের ছত্রছায়ায় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের জš§ হয়েছিল। তাদের পেছনে তারা কত টাকা ব্যয় করেছে, কোন কোন উৎস থেকে তা সরবরাহ করা হয়েছে তা চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এর সঙ্গে কোন কোন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন তাও চিহ্নিত হচ্ছে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিল্পপতিদের কাছ থেকে ওই সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়েছে। যদিও সরকারের ভাষ্যে তখন ১৩০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।

এদিকে বুধবার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাংসদ ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীরও বলেছেন, ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে নতুন রাজনৈতক দল গঠনে কারা জড়িত ছিলেন এবং তাদের পেছনে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে- সে বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

মাওয়াঘাটের যাত্রীরা স্বস্তিতে

১৮ বছর পর মাওয়াঘাটের চিত্র পাল্টেছে। লঞ্চের ভাড়া এখন লঞ্চ কর্তৃপক্ষই স্বাভাবিকভাবে আদায় করছে। তাই ব্যস্ততম এই ঘাটে যাত্রী হয়রানি অনেক হ্রাস পেয়েছে। গত বুধবার থেকে এই ভিন্ন চিত্র বিরাজ করছে এখানে। এর আগে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌ রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলো যাত্রী বহন করলেও লঞ্চে ভাড়া আদায় করতে পারছিল না। টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াও যাত্রী হয়রানির ঘটনা ছিল নিত্য দিনের।

জেলা পরিষদের খেয়া ঘাট এবং বিআইডব্লিউটিএ’র লঞ্চ ঘাট ইজারাদার লঞ্চের ভাড়া আদায় করে নিত। পরে জনপতি হিসাব করে সামান্য ভাড়া পরিশোধ করা হত। এখন জেলা পরিষদের খেয়া ঘাট ৩ টাকা, বিআইডব্লিউটিএ’র লঞ্চ ঘাট ইজারাদার ২ টাকা করে নিয়মানুযায়ী ভাড়া কাটে। আর লঞ্চের ভাড়া লঞ্চ টিকিট মাস্টার (কেরানী) জনপ্রতি ১২ টাকা করে আদায় করছে। এতে যাত্রীদের যেমন হয়রানি বন্ধ হয়েছে,তেমনি লঞ্চ মালিকরা তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে। এব্যাপারে এমএল নিপ্পন লঞ্চের মালিক এবং লঞ্চ মালিক সমিতির মাওয়া জোনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অনেক খুশি এখন। ইজারাদার সিন্ডিকেটের রাহুগ্রাসের অবসান ঘটলো দীর্ঘ ১৮ বছর পর। জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা আইনের মধ্যে থেকে জনস্বার্থে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের খেয়া ঘাটের টোল আদায় করছে এখন জেলা পরিষদেরই লোকজন।