বিক্রমপুরের ইতিহাস শুধু একটি পরগনার ইতিহাস নহে, ইহা বঙ্গেরই ইতিহাস...
Monday, July 27, 2009
মুন্সীগঞ্জ ফুটবল লীগে সমাবেশ জয়ী
‘ভালোটাই টিকে থাকবে’ আশাবাদী একজন মানুষ আব্দুল কাদের
বাংলা নাটকের স্বর্ণযুগ বলতে আসলে কোন সময়টাকে বোঝায় এখনই তা বলা কঠিন। তবুও একটা সময় ছিল যখন ঘরে ঘরে টেলিভিশন ছিল না, গ্রামেগঞ্জে বিদ্যুৎ ছিল না, তবুও মফস্বলের মানুষ ব্যাটারি জোগাড় করে, একটা সাদাকালো টেলিভিশনের সামনে মাদুর পেতে জটলা করে বসে দেখত বাংলা নাটক। মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা যখন বাকের ভাই আর বদি ভাইকে ঘিরে চলতো তুমুল আড্ডা আর আলোচনা। আলোচিত সেই বদি ভাই বর্তমান, অতীত আর ভবিষ্যতের নাটক ও ব্যাক্তিগত জীবনের কথা বলেছেন জলছবির কাছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল্লাহ্ নূহ
নাটকে আপনার বর্তমান ব্যস্ততা দিয়েই শুরু করি…
আব্দুল কাদের : আসলে ব্যস্ততার ব্যাপারটা ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। কম-বেশি ব্যাপারটা আমি হিসাবে ধরি না। আমার তিরিশটা নাটক যদি এক মাসে যায় এবং সেগুলো একটাও মনে রাখার মতো না হয় তবে কোনো ভালো কিছু হলো বলে আমি মনে করি না। আবার মাসে যদি মাত্র একটা নাটক যায় এবং সেটি হিট হয় তবে আমি মনে করি ওই একটি কাজই আমি হিসাবের মধ্যে ধরি। সংখ্যা নয়, আমি মানে বিশ্বাস করি।
এখন নাটকের ব্যাপারটা আমার কাছে কেমন যেন এলোমেলো মনে হয়। অসংখ্য নাটক হচ্ছে। এর মধ্যে পজেটিভ নাটক যে হচ্ছে না, তা নয়। কিন্তু একশটার মধ্যে সেই সংখ্যা দশটা হয়। তবে সেই দশটা কখন হয় তা অনেকে জানে না। তবে আমি ভালো নাটক করার মানসিকতা রাখি, করছি এবং সামনে আরও করব।
আপনি বলছিলেন যে, নাটকে আসার সময়টা জানতে চায় সবাই। কিন্তু এই বিষয়টিই আমি যদি একটু ভিন্নভাবে জানতে চাই যে, নাটকে আসার গল্পটা যদি বলেন?
আব্দুল কাদের : স্কুলজীবনে নাটক করেছি। সেটা অনেকেই করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই আমার আসলে নাটক করা শুরু। এবং আমরা নাটক আসলে পেশাগতভাবেই শুরু করেছিলাম। আমরা নাট্যচক্র করেছি। আমি মহসীন হলের নাট্যসম্পাদক ছিলাম। সব হল মিলে আমরা নাট্যচক্র করি এবং স্বাধীনতাউত্তর খুব ভালো নাটক করি। সেলিম আল দ্বীন, আল মনসুর তখন লিখতেন। তারপর থিয়েটারে জয়েন করি। আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, রামেন্দু মজুমদার তাদের সঙ্গে কাজ শুরু করি। এবং আমি একেবারে ছোট চরিত্র ভূমিকা থেকে শুরু করেছি। সেখান থেকে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে নিজের উত্তরণ ঘটিয়েছি। পরিচালক আব্দুল্লাহ্ আল মামুনের চোখে পড়ি। তখন এমন হয়েছে যে, আমাকে হিসাবে রেখে নাটকের স্ক্রিপ্ট করা হতো। সেভাবে আমি মঞ্চে কাজ করতে করতে এসেছি। আমি শিখে এসেছি। আর নাটকের শিক্ষা তো মঞ্চেই হয়।
আমার নাটকে আসার গল্প বলতে এটাই যে, অন্তরের তীব্র আকাক্সক্ষা। নাটকের প্রতি আকর্ষণ, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ। নাটক তো শুধু বিনোদন নয়, নাটক সমাজের দর্পণ। নাটকের মাধ্যমে সমাজে মেসেজ পৌঁছে দেয়া হয়।
এখানে একটা কথা এসেছে যে, আপনাকে ধরে নাটকের স্ক্রিপ্ট লেখা হতো। এ ব্যাপারটা আসলে কেন? অর্থাৎ ঠিক কোন চরিত্রটায় আপনাকে বিবেচনা করা হতো?
আব্দুল কাদের : আমার মনে হয় একটা জিনিস নাট্যকাররা আমার মধ্যে খুঁজে পান। সেটা হলো যে, আমি নাটকে কখনো অভিনয় করি না। আমি চরিত্রটাকে চিত্রায়ণ করি। এই যেমন এখন আপনার সঙ্গে কথা বলছি, এটাও একটা চরিত্র। এখানে আমি যদি অভিনয় করি বাস্তবতা বাদ দিয়ে, সেটা মেকি হয়ে যাবে। এভাবে আমি সব সময় রাস্তায় চলতে চলতে সমাজের বিভিন্ন চরিত্র অবলোকন করি। বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি, বিভিন্ন রকম মানুষের সঙ্গে মিশছি। সব চরিত্র লক্ষ্য করি এবং সময়মতো কাজে লাগিয়ে দিই।
এবারে একটু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আসি। পরিবারের সদস্য কয়জন?
আব্দুল কাদের : আমার স্ত্রী খায়রুন কাদের। তিনি গৃহিণী, বিউটিশিয়ান ও অভিনেত্রী । আমার এক পুত্র, এক কন্যা। পুত্রের নাম শফিউল আজম, কন্যার নাম মেহেরুন নাহার। পুত্র-কন্যা দুজনেই নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত।
আপনার পরিবারের সদস্যরা আপনার নাটকগুলোর চরিত্র নিয়ে কি মন্তব্য করে?
আব্দুল কাদের : ওরা খুব মজা পায়। বসে বসে দেখে আর হাসে। কারণ আমার তো দুইটা ভূমিকা। একটা হচ্ছে অফিসে আমার একটা রোল। এখানে একজন এক্সিকিউটিভ আমি। গম্ভীর হয়ে থাকতে হয়। আর অভিনয়ে আরেকরকম। এটা আসলেই মজার ব্যাপার।
এখানে অফিসের অর্থাৎ আপনার চাকরিজীবনের প্রসঙ্গ এলো। সেটা নিয়ে একটু কথা বলি, বাটাতেও তো অনেক বড় দায়িত্ব পালন করছেন, এ সম্পর্কে যদি কিছু বলেন…
আব্দুল কাদের : বাটাতে আমি যোগ দিই ১৯৭৯ সালে। তারপর ধাপে ধাপে আমি ওপরে উঠি। রিটেইল জোন ম্যানেজার, রিটেইল ম্যানেজার এভাবে মার্কেটিং ম্যানেজার, তারপর এখন কনসালট্যান্ট বিজনেস ডেভেলপমেন্ট। এমনকি আমার অবসর হয়ে গেছে ৩০ মার্চ ২০০৯তে। তারপরও ওরা আমাকে অনেক সম্মান দিয়ে রেখেছে। আমি একদিনও অবসর নিতে পারিনি। যেদিন রিটায়ারমেন্ট হয়েছে তারপর দিন থেকেই আবার অফিস করছি।
বাংলাদেশে এই কোম্পানিটাকে যে অনেকটা আমিই গড়ে তুলেছি। বাটা বাজার, বাটা শপÑ এগুলো সব আমার লিডারশিপে করা। সব মিলিয়ে আমি আমার অফিসিয়াল কাজটিকে খুব এনজয় করি। এবং আমি চাই আমার কোম্পানি আরও ভালো করুক।
আগে কোনটা হয়েছিল? চাকরি না নাটক?
আব্দুল কাদের : আমি ১৯৭৩ সাল থেকে নাটক করি। ১৯৭৬ সালে বিটপিতে জয়েন করি। ১৯৭৯ তে বাটাতে আসি। কাজেই সবার আগে আমি নাটক শুরু করি। কিন্তু আমি দুটোই চালিয়ে গেছি এবং যাচ্ছি। এ ব্যাপারে অনেকেই অনেক সময় প্রশ্ন করে যে, আপনি সময় পান কখন?
এখানে আমি আসলে যেটা করি তা হলো, আমি অনেক পরিকল্পনা করে কাজ করি। যেটা আমার পরিকল্পনার ছকের মধ্যে পড়ে না সেটা আমি করি না। যেমন শুটিংয়ের কাজ করি শুক্র-শনিবারে। আর অন্য সময় যদি বিশেষ দরকার হয় তবে আমি ছুটি নিই কোম্পানি থেকে। কোম্পানি আমাকে সেই সহযোগিতা করে।
আবার পরিচালক ও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা আমাকে খুব সহযোগিতা করে। তারা জানে যে, আমার সময় কম। তাই তারা আমার শটগুলো আগে নিয়ে সহযোগিতা করে।
আপনাকে তো বাটা ছাড়ছে না। বাটার জন্য তাহলে আপনারও নিশ্চয় বিশেষ পরিকল্পনা আছে?
আব্দুল কাদের : বাটার জন্য আমি যেটা করছি যে, ব্যবসার সমৃদ্ধিতে কাজ করা, আরও বাটা বাজার এবং বড় বড় বাটার দোকান করা, তারপর হাশ পাপিস। বাংলাদেশে বিশেষভাবে মার্কেটিং করছি আমরা। এমনিতে বাটার দোকানে বিক্রি করতামই আমরা, এখন হাশ পাপিসের আলাদা এক্সক্লুসিভ শোরুম করছি। গুলশানে একটা করেছি, বসুন্ধরা মলে একটা করেছি এবং ২০১১ সালের মধ্যে ২০টা হাশ পাপিস স্টোর করার পরিকল্পনা করেছি। আমরা বড় আকারের দোকান করব। বসুন্ধরা মলে যেমন করেছি ৭তলায় ১২ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে। যমুনা মলে চেষ্টা করছি। এভাবে বড় আকারের দোকান করার চেষ্টা করছি। যাতে ভালো ইমেজটা ধরে রাখা যায়। ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করছি। এগুলো প্রফেশনাল মার্কেটিং এপ্রোচ।
হাশ পাপিস তো ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ড?
আব্দুল কাদের : হ্যাঁ, এটা আমেরিকান কোম্পানি। বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে তারা মার্কেটিং করে। বাংলাদেশে আমরা লাইসেন্সপ্রাপ্ত।
আবার একটু নাটকে আসি। নাটক নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আব্দুল কাদের : ভালো নাটক করার মানসিকতা তো আছেই। তবে আমার একটা পরিকল্পনা আছে। এমন একটা সিরিয়াল করতে চাই যেটা মানুষকে খুব আনন্দ দেবে। কারণ আনন্দ দেয়াটা খুব কঠিন কাজ। আমি অনেক নাটকেই দেখেছি আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করা হয় কিন্তু হয় না। কারণ এটা একটা বিশেষায়িত ব্যাপার, যা সবাই পারে না। সে জায়গাটায় আমার যে অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি আছে তার মাধ্যমে আমি জানি যে, আমার নিজস্ব উদ্যোগে নিজের প্রোডাকশনে আমাকেই করতে হবে। এ রকম একটা পরিকল্পনা আমার আছে।
এ যাবৎ আপনার অভিনীত চরিত্রগুলোর মধ্যে আপনার কাছে কোন চরিত্রটা সেরা বলে মনে হয়?
আব্দুল কাদের : আমি চোখ বন্ধ করে বলতে পারি, টেলিভিশনে ‘কোথাও কেউ নেই’-এর বদি ভাই। এ ছাড়াও আমি অনেক ভালো নাটক করেছি। যেমন, আব্দুল্লাহ আল মামুনের অনেক নাটক, হুমায়ূন আহমেদের, ফেরদৌস হাসান, ডিএ তায়েব, ইমদাদুল হক মিলন ও আরও অনেক নাট্যকারের নাটক করেছি। কিন্তু ওই নাটকটা মানুষের মনে দাগ কেটে গেছে আরকি।
মঞ্চেও আমি অনেক নাটকই করেছি কিন্তু মেরাজ ফকিরের মা নাটকটা আমার কাছে মনে হয়েছে বেশি ইম্প্যাক্ট ফেলেছে। চলচ্চিত্র আমি বেশি করিনি। কিন্তু রং নাম্বার নামে একটা সিনেমায় অভিনয় করেছি। সেখানে আমার চরিত্রটা ছিল ‘বড় ভাই’-এর। কিছু বড় ভাই থাকে না যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে। কখনো বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যায় না। সবার সহযোগিতায় এগিয়ে যায় এবং সহযোগিতা করতে গিয়ে নানারকম মজার ঝামেলা সৃষ্টি করে ফেলে। সেটা ছিল একটা মজার চরিত্র। এ রকম অনেক ভালো কাজ করেছি।
এমন কিছু মুখ থাকে যা দেখলেই মনের মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি চলে আসে, এমন কিছু মুখ থাকে যেগুলো এমনিতেই যেন মনের মধ্যে খুশি ছড়িয়ে দেয়, আনন্দ লাগে। দর্শক আপনার মধ্যে সে রকম একটি মুখ দেখে। আপনি সেই জায়গাটিতে কাজও করছেন। আপনার কি মনে হয় এ রকম মুখ আমাদের মিডিয়াতে যথেষ্ট আছে?
আব্দুল কাদের : এটা একটা দারুণ ব্যাপার। আমাদের মাঝে কিছু কিছু এ রকম আছেন। তবে আমাদের অভিনয়ের মধ্যে একটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যে, হাসির নাটক মানেই জোর করে হাসানোর চেষ্টা নয়। খুব একটা রঙিন পোশাক পরে ফেললাম, কিছুটা চিৎকার করে অভিনয় করলাম, একটু লাফালাফি করলাম এতে লোক হাসে না। একটু নিয়ন্ত্রিত অভিনয় করতে হবে।
আমি জানি এ রকম ভালো প্রতিভা আমাদের মধ্যে আছে এবং আমি তাদের দিয়ে কাজ করাতে পারব। আমার প্রতি তাদের শ্রদ্ধাও আছে যথেষ্ট।
আপনি বর্তমান নাটকে অস্থির সময়ের কথা বলছিলেন, আপনাদের সময়ের সঙ্গে এখনকার সময়ের পার্থক্যটা কী?
আব্দুল কাদের : এখন প্রচুর নাটক হচ্ছে। এর মধ্যে ভালো নাটকও কিন্তু হচ্ছে। যেহেতু অনেক নাটক হচ্ছে সেহেতু যেগুলো খুব ভালো সেগুলো অনেকেই মিস করছে। এখানে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোও বিজ্ঞাপন প্রচার করছে বেশি। করতে হচ্ছে। আমাকে যদি এর সমাধানের কথা বলেন তবে বলব যে, এত নাটক হওয়া উচিত না। নাটক করা উচিত স্ক্রিপ্ট দেখে বাছাই করে। একজন অভিনেতা-অভিনেত্রী কত অভিনয় করবে? সকালে একটা চরিত্রে অভিনয় করছে, রাতে আরেকটা চরিত্রে অভিনয় করছে। একদিনে দুটা চরিত্রে অভিনয় করা সম্ভব না। ক্লান্তির একটা ব্যাপার আছে। এর পরের ব্যাপারটি হলো, ভালো স্ক্রিপ্ট। এমনকি অতীতের হিট করা ভালো নাট্যকারেরা এখন সিনে নাই। তাদেরকে ব্যবহার করতে হবে। আগে দেখতাম প্রোডিউসাররা গিয়ে একটা ভালো নাট্যকারের কাছে বসত ভালো স্ক্রিপ্টের জন্য। তাদের অনুরোধে নাট্যকাররা লিখতেন সুন্দর করে। কিন্তু এখন যেন কিছুটা এলোমেলো। এখন যেহেতু সংখ্যা বেড়েছে, সেহেতু মান একটু মার খাচ্ছে। সমাধানটা একপর্যায়ে এমনিতেই বের হয়ে আসবে। ভালোটাই টিকে থাকবে।
ইয়াজ উদ্দিনকে মামলায় জড়ানোর কোনো পথ পাচ্ছে না বিএনপি
পদ্মা বহুমুখী সেতুর সঙ্গে রেলের গুরুত্ব
এস.এম গোলাম মুস্তফা
দেশ ও জাতির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু ও সমন্বিত সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা, কিন্তু পদ্মা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রাজধানীসহ মূল ভূখণ্ড হতে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ফলে এ অঞ্চলে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ আধুনিক যোগাযোগের আশানুরূপ উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি, যেমন রেললাইনসহ উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। অথচ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর (মংলা) এবং সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থল বন্দর। তাই এই অঞ্চলের সাথে রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ঢাকা-মাওয়া-খুলনা এবং বরিশাল মহাসড়কের উন্নয়ন যদি ব্যাপকভাবে করা হয় এবং পদ্মা নদীর উপর রেললাইনসহ বহুমুখী সেতু নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকাসহ মূল
মুন্সীগঞ্জে সালিশি বৈঠকে হামলা : নিহত ১
সংগ্রামী জীবনশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
এ ম এ আ জি জ মি য়া
বাংলা সাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) এক বিস্ময়কর প্রতিভা, অনন্য কথাশিল্পী। শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের জীবনযাত্রা ও লড়াই-সংগ্রাম তিনি সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং নিপুণ শিল্পীর ন্যায় কলমের অাঁচড়ে তা জীবন্ত করে তুলেছেন। সেখানে তাঁর মানবপ্রেম, সামাজিক অঙ্গীকারবোধ এবং শ্রেণী দৃষ্টি ভঙ্গি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। লেখক জীবনের শুরুতে তার মধ্যে ফ্রয়েডীয় রেখাপাত দেখা গেলেও অচিরেই তিনি তা কাটিয়ে ওঠেন। নিছক শিল্পের জন্য শিল্প নয়, তিনি বিশ্বাসী ছিলেন মানুষের জন্য শিল্প বা জীবনের জন্য শিল্প অভিধায়। এক্ষেত্রে মানুষ বলতে তিনি মেহনতী গণমানুষকে বুঝিয়েছেন। তার এ মানসগঠনে ছাত্রজীবনে বিজ্ঞান অধ্যয়ন এবং পরে দেশী-বিদেশেী সাহিত্য ও দর্শন পাঠ বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। এজন্য কল্লোল যুগের (১৯২৩-১৯৩০) হয়েও তিনি কল্লোলীয় তরঙ্গে আন্দোলিত হননি, স্পন্দিত হননি পূর্ব-দিগন্তের প্রখর রবিরশ্মি দ্বারা। প্রথমদিকে তিনি প্রগতি লেখক সংঘের আন্দোলনে সম্পৃক্ত না হলেও চলি্লশের দশকে প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের কর্মকান্ডে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েন। তিনি যোগ দেন কম্যুনিস্ট পার্টিতে। তখন লেখালেখির পাশাপাশি পার্টির সমাজবদলের কর্মকান্ডই তার জীবনের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। আর এজন্য তাকে বরণ করে নিতে হয়েছিল চরম দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবন। গণমানুষের জীবনের শরিক হয়ে একজন কলমপেশা শ্রমিকের ন্যায় তিনি সারাটি জীবন অর্থকষ্টে কাটিয়েছেন; তবুও কোনো মোহ বা প্রলোভনের পঙ্কিল পথে পা বাড়াননি। ব্যতিক্রম মানিক জীবনের বৈশিষ্ট্য এখানেই। আর এজন্যই বাংলা সাহিত্যে মানিক, মানিক রতন হয়ে রয়েছেন। শত বছরের মানিক মারাও গেছেন অর্ধশত বছরের বেশি হয়ে গেল। কিন্তু আজও তার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ছে অবিশ্রান্ত ধারায়। তিনি জন্মেছিলেন ১৯০৮ সালের ১৯ মে সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে এবং মারা যান ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায়। তার সাড়ে ৪৮ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন ৩২ বছর। তার মধ্যে কিশোর বয়সে ৪ বছর নীরব কাব্যচর্চা (১৯২৪-১৯২৮), কলেজ জীবনে ৪ বছর শৌখিন সাহিত্যচর্চা (১৯২৮-১৯৩২) এবং অবশিষ্ট ২৪ বছর তিনি নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যচর্চা (১৯৩২-১৯৫৬) করেছেন। এ সময়কালে তিনি বাংলা সাহিত্যে যে অবদান রেখে গেছেন গুণ, মান ও সংখ্যায় তা অভাবনীয় ও বিস্ময়কর। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৮৩। তার মধ্যে উপন্যাস-৪০ (অসম্পূর্ণ-৩), গল্পগ্রন্থ-২২, প্রবন্ধ সংকলন-৩, নাটক-১, কাব্যগ্রন্থ-১ এবং অন্যান্য-১৬।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি ছিল বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ)-এর মালপদিয়া গ্রামে। তার পূর্বপুরুষরা ছিলেন সিমুলিয়া গ্রামের অধিবাসী। তার পিতার নাম হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা নীরদাদেবী। তার মাও ছিলেন বিক্রমপুরের গাওদিয়া গ্রামের মেয়ে। তাই মানিকের শেকড় গ্রথিত ছিল প্রাচীন বাংলার ইতিহাসখ্যাত শত ঐতিহ্যমণ্ডিত বিক্রমপুরে এবং এখানকার মাটি থেকেই তার জীবনরস সিঞ্চিত হয়েছে; আত্মপ্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তা ফুলে ফলে সুশোভিত হয়েছে। অাঁতুর ঘরে কালো গায়ের রং-এর মধ্যেও তার ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ পেয়েছিল। তাই তার নামকরণ হয়েছিল ‘কালো মানিক’। কিন্তু পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল প্রবোধ কুমার। ডাক নাম মানিক হলেও লেখক নাম মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ বছর বয়সে কলেজে পড়াকালে বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লিখে ফেলেন ‘অতসী মামী’ গল্পটি। তা ১৩৩৫ সালের পৌষ সংখ্যা ‘বিচিত্রা’য় প্রকাশিত হলে সকলে চমকে ওঠেন। লেখালেখির জগতে মানিকের এই যে অগ্রযাত্রা প্রাণস্পন্দন থেমে না যাওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। যেসব পত্রপত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে বিচিত্রা, বঙ্গশ্রী, পূর্বাশা, ভারতবর্ষ, পরিচয়, যুগান্তর, প্রভাতী, আনন্দবাজার, স্বাধীনতা, বসুমতী, ছোটদের রংমশাল, অভিদারা, অনন্যা, এলোমেলো, এখন, আগামী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ (উপন্যাস) ‘জননী’ এবং গল্পগ্রন্থ ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’। তার অসম্পূর্ণ উপন্যাস ‘মাটি ঘেঁষা মানুষ’ সম্পূর্ণ করেন সুধীর রঞ্জন মুখোপাধ্যায়। কিশোর উপন্যাস ‘মশাল’ কে সম্পূর্ণ করেছেন তা জানা যায়নি। তবে কিশোর উপন্যাস ‘মাটির কাছে কিশোর কবি’ সম্পূর্ণ করেছেন খগেন্দ্রনাথ মিত্র। তার লেখা দুটি উপন্যাসের ভূমিকা অসম্পূর্ণ ছিল, সম্পূর্ণ নয় অগ্রন্থিত রচনার তালিকা। কিছু লেখা হয়তো এখনও অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে।
চাকুরিজীবী পিতার কর্মস্থান পরিবর্তিত হওয়ায় তিনিও বিভিন্ন স্থানে লেখাপড়া করেছেন। ফলে লেখাপড়ায় অনেকটা বিঘ্ন ঘটলেও নানান অঞ্চলের মানুষের সাথে মেলামেশা করে যে বাস্তবজ্ঞান অর্জন করেছিলেন সে সব অভিজ্ঞতা তার পরবর্তীকালের লেখক জীবনে সহায়ক হয়েছিল। ছোটবেলা থেকে তিনি মেধাবী ছিলেন এবং পরীক্ষায় ভাল ফল করেছেন। ১৯২৪ সালে মা মারা গেলে তিনি অনেকটা শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন এবং সম্ভবত এ সময়ে নীরবে কাব্যচর্চা শুরু করেন। ১৯২৬ সালে মেদেনীপুর স্কুল থেকে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। নৈর্বাচনিক ও আবশ্যিক গণিতে লাভ করেন লেটার মার্ক। ১৯২৮ সালে বাঁকুরা ওয়েস লিয়ন মিশন কলেজ থেকে তিনি আইএসসি পাস করেন প্রথম বিভাগে। তিনি ভর্তি হলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিত বিষয়ে বিএসসি সম্মান শ্রেণীতে। কিন্তু এ সময়ে তিনি ধরাবাঁধা লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে দেশ-বিদেশের সাহিত্য পাঠে মনোনিবেশ করেন। ফলে পরপর দু’বছর বিএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। এ জন্য নিকট ছাত্ররাও তার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে পড়েছিলেন। ইতোমধ্যে তার লেখালেখিও শুরু হয়ে গিয়েছিল পুরোদমে। জীবনধারণের জন্য চাকুরি করেন নবারুন (১৯৩৪) ও বঙ্গশ্রী (১৯৩৭-১৯৩৯) পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে। কিন্তু মৃগী রোগাক্রান্ত মানিককে ডা. বিধানচন্দ্র রায় বিয়ে করার পরামর্শ দিলেন। ১৯৩৮ সালের ১১ মে বিক্রমপুরের পঞ্চসার গ্রামের সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যা কমলা দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শরীরও অনেকটা সুস্থ হয়ে এলো। ইতোমধ্যে তার লেখক খ্যাতি দেশময় ছড়িয়ে পড়েছে। পেশা হিসেবে লেখালেখিকেই বেছে নিয়েছেন। আর্থিক অসচ্ছলতা ঘোচাতে ১৯৩৯ সালে তিনি একবার প্রেসব্যবসা শুরু করেছিলেন। উদ্দেশ্য সেখান থেকেই বই ও একটি পত্রিকা প্রকাশ করবেন। কিন্তু এক বছর না যেতেই প্রেস ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। লেখালেখির অর্থে সংসার চলে না। অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ পিতাও স্বেচ্ছায় আশ্রয় নিয়েছেন। পিতার সেবাযত্নেও এতটুকু অবহেলা তিনি করেননি। ১৯৪৩ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় কিছুকাল তিনি ওয়ার ফ্রন্টের প্রভিন্সিয়াল অর্গানাইজার এবং বেঙ্গল দফতরে পাবলিসিটি এসিস্যান্ট হিসেবে চাকরি করেছেন। আকাশ বাণী কলকাতা কেন্দ্রে যুদ্ধ বিষয়ক প্রচার ও নানাবিধ বেতার অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন। কিন্তু সে সময় ফরমায়েসি কাজে তার পোষায়নি। তিনি স্বেচ্ছায় কেটে পড়েছেন। লেখালেখি করে অধিক অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেছেন। তার লেখায় যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, দুর্ভিক্ষ, কালোবাজারী, মুনাফালোভীর চিত্র ফুটে ওঠে। তাছাড়া ফ্যাসিবাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সামপ্রদায়িকতার বিষবাষ্পে ভূলুণ্ঠিত মানবতা বিশেষ করে কৃষক-শ্রমিক মেহনতী মানুষের জীবন সংগ্রাম মূর্তমান হয়ে ওঠে। তার সাহিত্যখ্যাতিও দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
১৯৪২ সালের ৮ মার্চ ঢাকাতে ফ্যাসিবিরোধী সমাবেশে যোগদানের জন্য তরুণ লেখক ও কম্যুনিস্টকর্মী সৌমেন চন্দ (১৯২০-১৯৪৮) মিছিল নিয়ে আসার পথে ফরোয়ার্ড ব্লকের গু াদের হাতে রাজপথে নৃশংসভাবে নিহত হয়। সে প্রেক্ষাপটে কলকাতায় গঠিত হয়েছিল ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পীগোষ্ঠী। প্রথম দিকে প্রগতি লেখক সংঘের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা না থাকলেও পরবর্তীকালে এ সব সংগঠনের সঙ্গে নিজকে সম্পৃক্ত করে নেন। বুখারিনের বস্তুবাদ ও লিয়েনতিয়েনের মার্কসীয় অর্থনীতি পাঠ করে মার্কসীয় দর্শনের প্রতি তিনি আস্থাশীল হয়ে ওঠেন। ১৯৪৪ সালে তিনি কম্যুনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। মার্কসীয় দর্শনের বইপত্র পড়ে তিনি সম্পূর্ণ বদলে যান। ‘সাহিত্য করার আগে’ শীর্ষক লেখায় তিনি বলেছেন, মার্কসবাদ যতটুকু বুঝেছি তাতেই আমার কাছে ধরা পড়ে গিয়েছে যে, আমার সৃষ্টিতে কত মিথ্যা বিভ্রান্তি আর আবর্জনা আমি আমদানী করেছি জীবন ও সাহিত্যকে একান্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ভালবেসে ও জীবন ও সাহিত্যকে এগিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও। ১৯৪৪ সালের ১৪-১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তার সভাপতিম লীর অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হন। সে বছর ২৫-২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত পূর্ববঙ্গ প্রগতি লেখক ও শিল্পী সম্মেলনে তিনি যোগদান করেন। ১৯৪৫ সালের ৩-৮ মার্চ ভারতীয় প্রগতি লেখক সংঘের অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে ভয়াবহ দাঙ্গা প্রতিরোধে তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে এগিয়ে যান এবং বহু সভা সমাবেশে যোগদান করেন। ১৯৪৯ সালের ২২ এপ্রিল প্রগতি লেখক সংঘের চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলনে পুলিশী হানার মধ্যেও তিনি ডেলিগেট অধিবেশনে যোগদান করেন। ২২ নভেম্বর ট্রাম বাড়িতে অনুষ্ঠিত প্রগতি লেখক সংঘের শান্তি সম্মেলনে তিনি সভাপতিত্ব করেন। সভাপতিত্ব করেছিলেন ১৯৫৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রগতি লেখক সংঘের পঞ্চম বার্ষিকী সম্মেলনে। লেখার চাপ ছাড়াও পার্টি এবং অন্যান্য সাগংঠনিক কাজে বেশি বেশি পরিশ্রম করার ফলে তার শরীর ভাঙতে শুরু করে। পার্টির পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে তিনি কখনও স্বস্তিবোধ করেননি। নিজ দায়িত্বেই তিনি বাসায় ফিরে এসেছেন। তারপর ১৯৫৬ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। অসহায় পারিবারিক পরিবেশে দুই দিন থাকার পর ২ ডিসেম্বর রাত ১০টায় নীলরতন সরকার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। না সেখানে আর তাকে বেশি সময় কাটাতে হয়নি। ৩ ডিসেম্বর ভোর চারটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সময় পেলেন না কাকা বাবুর (কমরেড মুজাফফর আহমদ) জীবনী লেখার।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে সাহিত্য চর্চার বয়স হল ৩০ বছর। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘তিরশ বছর বয়সের আগে কারো লেখা উচিত নয়। আমি সেই বয়সে লিখবো। এর মধ্যে তৈরি হয়ে নিতে হবে সব দিক দিয়ে। কেবল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় নয়। নিশ্চিত মনে যাতে সাহিত্যচর্চা করতে পারি তার বাস্তব ব্যবস্থাগুলো ঠিক করে ফেলবো।’ কিন্তু সে সুযোগ তিনি পাননি। অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে ত্রিশ বছরের বহু পূর্বেই তিনি লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কিশোর বয়সে কবিতা ও গল্প লিখেছেন। কিন্তু ঔপন্যাসিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন তার ‘উপন্যাসের ধারা’_ লেখায় ‘… সাধ করলে কবি হয়তো আমি হতে পারি; কিন্তু ঔপন্যাসিক হওয়াটাই আমার পক্ষে হবে উচিত ও স্বাভাবিক।’ তার স্বপ্ন সত্যে পরিণত হয়েছে ঔপন্যাসিক হিসেবে তিনি সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। বিজ্ঞানের ছাত্র মানিকের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি উপন্যাস রচনায় সহায়ক ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, উপন্যাস লেখার জন্য দরকার খানিকটা বৈজ্ঞানিক বিচারবোধ, বিজ্ঞানচর্চা না করলেও সম্পূর্ণভাবে নিজের অজ্ঞাতসারে হলেও ঔপন্যাসিক খানিকটা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবেন, তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই।
মানবতাবাদী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সামপ্রদায়িকতা, ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে অন্তর থেকে ঘৃণা করেছেন। অসুস্থ শরীরে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি সামপ্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তিনি ডায়েরিতে লিখেছেন, ‘দাঙ্গার কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। … বিকালে এ অঞ্চলে শান্তিসভা হবে শুনলাম। খুশি হয়ে নিজে রাজি হলাম যতটা পারি সাহায্য করতে। যাকে দেখছি তাকে বলছি মিটমাটের জন্য সভায় যেতে। মসজিদের কাছে আনোয়ারশা রোডের একদল মুসলিম স্বীকার করলেন মিটমাট দরকার_ কয়েকজন উত্তেজিতভাবে বললেন মেরে পুড়িয়ে এখন মিটমাটের কথা কেন? অন্যরা তাদের থামালেন। ফাঁড়ি পেরিয়ে পুলের নিচে যেতে এল বিরোধিতা_ হিন্দুদের কাছ থেকে। কিসের মিটমাট মুসলমানরা এই করেছে ঐ করেছে। ব্যাটা কম্যুনিস্ট বলে আমায় মারে আর কি। প্রায় দেড়শ লোক মিলে ধরেছিল।’ ভারত ভাগের পর ১৯৫০ সালেও কলকাতায় সামপ্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। এ ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল খুবই স্পষ্ট। তিনি ডায়েরিতে লিখেছেন, সামপ্রদায়িকতার উপরটাই লোকে দেখছে। পিছনে কি গভীর ও ব্যাপক ষড়যন্ত্র, চোখে পড়ে না। যে উদ্দেশ্যে ভারত বিভাগ, সেই উদ্দেশ্যেই ভারত পাকিস্তানের বিবাদ বাড়িয়ে চলা বৃটিশ আমেরিকান সামপ্রাজ্যবাদ দুই রাষ্ট্রের ঘাড়ে চেপে থাকতে পারে। সামপ্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশ ভাগ ছিল তার অসহ্য। তার লেখায় তা সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে : ‘কানাই বলে মাঠে একটা ফ্লাগ উড়াই? আমি বলি ব্লাক ফ্লাগ উড়াও। কানাইয়ের ভাই বলাই বলে ঠিক। উদ্বাস্তুরা কি স্বাধীনতা পেয়েছে? সাত আট বছরের ছেলে। ফ্লাগ কিছু কিছু উড়েছে_ কিন্তু চার দিক ঝিমানো।’
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাদাসিধে জীবনযাপন সম্পর্কে অনেকেই লিখেছেন। রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী তার ‘একটি গল্পের জন্মকথা’য় লিখেছেন, ‘ছোট একটা পুরাতন একতলা দালান। সামনের দিকে অল্প পরিসর একটা কোঠা মানিক বাবুর লেখার ঘর। মাদুর বিছানো সাধারণ একটা তক্তপোষ ঘরের এক পাশে। মান্দাতার আমলের হতশ্রী লেখার টেবিল একটা_ তার একটিমাত্র বসার চেয়ারের অবস্থাও একই রকমের। গোটা তিনেক বইয়ের আলমারী পিছনটাতে। বইয়ের সংখ্যা সামান্য। বাঁধাই ‘প্রবাসী’, ‘ভারতবর্ষে’র সংখ্যাই বেশি।
বাজার থেকে ফিরে এলেন মানিক বাবু অল্প কিছুক্ষণ বাদে। গায়ে আধময়লা গেঞ্জি, পরনে লুঙ্গি। এক হাতে আট-নয় বছরের মেয়ের হাত ধরেছেন আর এক হাতে বাজারের চটের থলে। লম্বা প্রায় ছয় ফুট, বলিষ্ঠ কালো কুঁদানো শরীর, চাষাভূষাদের মতন। খোঁচা খোঁচা দাড়ি-গোঁফে মুখম ল আবৃত্ত তবে কুশ্রীতা নেই কোথাও প্রাণোচ্ছল সাজিবতায় ভরপুর। কালো ফ্রেমের চশমা ভেদকরা এক জোড়া নিবিষ্ট চোখ। অনাবৃত বাহুযুগলের পেশিতে যৌবনোচিত দৃঢ়তা। বেশভূষা, চেহারা সবটাই মিলিয়ে আবার নতুন করে যেন দেখলাম মানিক বাবুকে। খারাপ লাগেনি তবুও বাজারের থলেটাকে বাংলাদেশের প্রথম সারির একজন কথাশিল্পীর হাতে কেমন যেন বেমানান মনে হয়েছিল। … তার অনাড়ম্বর জীবনযাত্রার পরিচয় পেয়ে প্রকৃতই অন্তরঙ্গতা অনুভব করেছিলাম সেদিন।’
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সারা জীবন অর্থকষ্টে ভুগেছেন। অনেক সময় অসুখ হলে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের সুচিকিৎসারও ব্যবস্থা করতে পারেননি। কোনো কোনো সময় পার্টি, কবি-সাহিত্যিক বন্ধু বা শুভানুধ্যায়ীরা সহায়তার হাত প্রসারিত করেছেন। তারপরও এককালীন কিছু টাকা পেলে পুরোটাই পার্টি ফান্ডে জমা করে দিতেন। পৈতৃক বাড়ি বিক্রির টাকা তিনি পারিবারিক সদস্যদের অজ্ঞাতেই পার্টিকে দিয়েছিলেন। পার্টির প্রতি তিনি এতটাই অনুরক্ত ছিলেন। অন্যদিকে যে কোনভাবে টাকাপয়সা আয় করা তার রুচিবোধের বাইরে ছিল। রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর সঙ্গে আলাপকালে তার এ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে : ‘এখন সংসার চালাতে হয় শুধু এই দিয়েই। আর তো পেশা নেই কোন। তাছাড়া সব কাগজে লিখিনে এখন আর, কারণ তাতে লেখক সম্বন্ধে পাঠকের ধারণা নিচু হয়ে যায়_ সম্ভাবনা থাকে ভুল বুঝবার। তা যদি লিখতাম তা হলে অনেক টাকা রোজগার করতে পারতাম। অভাব থাকতো না কোন, দেখলেন তো কত সাহিত্যিক বাড়ি করলেন, গাড়ি করলেন_ আমি গরিবই রয়ে গেলাম সারা জীবন। অনেক সময় তিনি পয়সার অভাবে ওষুধ কিনে খেতে পারেননি। এমনকি একটি অসহায় অবস্থা নিজ ডায়েরিতে উলি্লখিত হয়েছে। ক’দিন থেকে শরীর খুব খারাপ, … কি যে দুর্বল বলা যায় না, বিছানা থেকে উঠবারও শক্তি নেই_ এদিকে ঘরে পয়সা নেই। জোর করে তো বেরোলাম ফিরবো কিনা না জেনে।’ তারপর সর্বশেষ যখন আর্থিক অসহায়ত্বের কারণে দুই দিন নিজ বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে থাকবার পর হাসপাতালে ভর্তির সংবাদ পেয়ে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এমন অবস্থায় টেলিফোন না করার কারণ জিজ্ঞাসা করায় মানিক পত্নী অস্ফুট স্বরে হেসেই উত্তর দিয়েছিলেন, ‘তাতে যে পাঁচআনা পয়সা লাগে ভাই।’
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন শ্রেণী-সংগ্রামে বিশ্বাসী লেখক। তার অনেক লেখায় তা পরিলক্ষিত হয়। শ্রেণী-সংগ্রামের বিজয়ে প্রত্যয়ী মানিক বন্দোপাধ্যায় তার ‘নেতা’ গল্পে লিখেছেন, ‘… আমরা কোন দাবি ছাড়বো না। আমরা কি শুধু রুজির জন্য লড়ি? আমাদের দাবির পিছনে_’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করেছেন অনেকেই। তবে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্য সমালোচক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘মানিক প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক জীবনকে জানতেন এবং তাদের সামাজিক অবস্থা সম্বন্ধে প্রচ্ছন্ন জ্ঞান রাখতেন। এই বাস্তবতাকে তিনি তার কথাসাহিত্যে উপস্থিত করেছেন। তিনি তা কেবল বাস্তবতাকে উপস্থিত করার প্রয়োজনে উপস্থিত করেননি করেছেন বাস্তবতাকে বদলাবার প্রয়োজনেও।’
মুন্সীগঞ্জে বাস খাদে পড়ে একজন নিহত
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগর উপজেলার উমপাড়া নামকস্থানে শুক্রবার সকালে বাস খাদে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩০ যাত্রী। নিহতের নাম- জালাল ব্যাপারী (৪৫)। তার বাড়ি মাদারীপুরের গাছবাড়িয়ায়। আহতদের ঢাকা ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর ঘটনাস্থল থেকে জানান, সার্বিক পরিবহনের বাসটি ৪০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে মাদারীপুর যাচ্ছিল। হঠাৎ সামনের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন যাত্রীদের উদ্ধার করে। তিনি জানান, চালক পলাতক রয়েছে।পদ্মার পানি আজ কমতে পারে : নদী ভাঙন বৃদ্ধি
এ বছরও থেমে নেই পদ্মার ভাঙন। ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্রমেই বিলীন হচ্ছে প্রাচীন জনপদ বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতোমধ্যে জেলার তিনটি উপজেলা টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও শ্রীনগরের শতাধিক গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বদলে গেছে গোটা জেলার মানচিত্র। এদিকে টঙ্গিবাড়ী হাসাইল বানারী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩ কোটি টাকার নামমাত্র বাঁধটি নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। একই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করেছে। তবে এ বাঁধেরও টিকে থাকার গ্যারান্টি নেই। এ ছাড়া শ্রীনগরেও এ বোর্ডের লাখ লাখ টাকার প্রকল্প বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পদ্মার প্রবল স্রোতে কোনো কিছুই যেন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প শুধু কিছু মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়। কিন্তু নদীভাঙনের শিকার হাজার হাজার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন কাটালেও তাদের ভাগ্যের বদল হচ্ছে না। এটাই তাদের নিয়তি।
এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বাঁধ নির্মাণে টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল-বানারী এলাকায় নদীভাঙন কিছুটা স্তিমিত হলেও শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল, উত্তর কামারগাঁও, পূর্ব বাঘরা, বাঘরা, কেদারপুর, মাগডাল, মান্দ্রা, কবুতরখোলা গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর নদীভাঙনের মুখে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে ভাগ্যকুল ও বাঘরা বাজারের সাত শতাধিক দোকানঘর-সহস্রাধিক বাড়িঘর। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চবিদ্যালয়, বাঘরা বাসুদেব মন্দির, স্বরূপ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, কামারগাঁও রাধা গোবিন্দ মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঢাকা-দোহারের দুই কিলোমিটার সড়ক ভাঙনের মুখে। ভাগ্যকুল ও বাঘরা বাজার রক্ষায় সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ পেলেও ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো রক্ষায় কোনো ব্যবস্খা করা হয়নি।
লৌহজং উপজেলায় গত এক সপ্তাহে পদ্মা গ্রাস করেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। লৌহজং থানা, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস ভাঙনের মুখে রয়েছে। ডহুরী, কলমা, সামুরবাড়ি এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্খানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্খা না নেয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা নানা পন্থায় ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ১৫ বছরে এ উপজেলার ৩৮টি গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছেন্ধ ধাইদা, তেওটিয়া, লৌহজং, গাওদিয়া, কনকসার ও কুমারভোগ।
মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ নয়া দিগন্তকে জানান শ্রীনগরের নদীতীরবর্তী কবুতরখোলা-ভাগ্যকুল-বাঘরা এলাকায় ৪৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রয়েছে। শিগগিরই তা একনেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আশা করি এ বাঁধ নির্মাণ হলে পদ্মার ভাঙন থেকে এলাকার জনগণকে রক্ষা করা আরো সহজ হবে।
মুন্সীগঞ্জে রাক্ষুসি পদ্মা এখন রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মুন্সীগঞ্জে রাক্ষুসি পদ্মা এখন রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে লৌহজং, শ্রীনগর ও টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙ্গঙের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী ২০টি গ্রামের দুই সহস্রাধিক পরিবারে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বসতভিটা, ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি স্থাপনা ভাঙনের গর্জন নিয়ে ধেয়ে আসছে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোর দিকে। লৌহজংয়ের কনকসার এলাকার শত বছরের ব্রাহ্মনগাওঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে এবং অপর অংশটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। এছাড়া আরো হুমকির মুখে পড়েছে লৌহজং থানা ভবন, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল বাজার, দিঘিরপাড় বাজারসহ শতশত ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।
স্থানীয় প্রশাসন নদী ভাঙনরোধে এখনও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তীরবর্তী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা বাঁশের বেড়াসহ নানা পন্থায় ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা অবিলম্বে ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারের আশু পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।