মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘরার গরিবর গ্রামে সালিশ বৈঠক শেষে শনিবার দুপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ১ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। বেলা ১টার দিকে বাঘরা গরিবর গ্রামের দেলু, হেলাল ও মোরশেদ গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষ রহমত আলীর বাড়িতে এই হামলা চালায়। এতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত রহমত আলীকে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেলে তিনি মারা যান। জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য ওই সালিশি বৈঠক বসে।
বিক্রমপুরের ইতিহাস শুধু একটি পরগনার ইতিহাস নহে, ইহা বঙ্গেরই ইতিহাস...
Monday, July 27, 2009
সংগ্রামী জীবনশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
এ ম এ আ জি জ মি য়া
বাংলা সাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) এক বিস্ময়কর প্রতিভা, অনন্য কথাশিল্পী। শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের জীবনযাত্রা ও লড়াই-সংগ্রাম তিনি সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং নিপুণ শিল্পীর ন্যায় কলমের অাঁচড়ে তা জীবন্ত করে তুলেছেন। সেখানে তাঁর মানবপ্রেম, সামাজিক অঙ্গীকারবোধ এবং শ্রেণী দৃষ্টি ভঙ্গি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। লেখক জীবনের শুরুতে তার মধ্যে ফ্রয়েডীয় রেখাপাত দেখা গেলেও অচিরেই তিনি তা কাটিয়ে ওঠেন। নিছক শিল্পের জন্য শিল্প নয়, তিনি বিশ্বাসী ছিলেন মানুষের জন্য শিল্প বা জীবনের জন্য শিল্প অভিধায়। এক্ষেত্রে মানুষ বলতে তিনি মেহনতী গণমানুষকে বুঝিয়েছেন। তার এ মানসগঠনে ছাত্রজীবনে বিজ্ঞান অধ্যয়ন এবং পরে দেশী-বিদেশেী সাহিত্য ও দর্শন পাঠ বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। এজন্য কল্লোল যুগের (১৯২৩-১৯৩০) হয়েও তিনি কল্লোলীয় তরঙ্গে আন্দোলিত হননি, স্পন্দিত হননি পূর্ব-দিগন্তের প্রখর রবিরশ্মি দ্বারা। প্রথমদিকে তিনি প্রগতি লেখক সংঘের আন্দোলনে সম্পৃক্ত না হলেও চলি্লশের দশকে প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের কর্মকান্ডে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েন। তিনি যোগ দেন কম্যুনিস্ট পার্টিতে। তখন লেখালেখির পাশাপাশি পার্টির সমাজবদলের কর্মকান্ডই তার জীবনের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। আর এজন্য তাকে বরণ করে নিতে হয়েছিল চরম দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবন। গণমানুষের জীবনের শরিক হয়ে একজন কলমপেশা শ্রমিকের ন্যায় তিনি সারাটি জীবন অর্থকষ্টে কাটিয়েছেন; তবুও কোনো মোহ বা প্রলোভনের পঙ্কিল পথে পা বাড়াননি। ব্যতিক্রম মানিক জীবনের বৈশিষ্ট্য এখানেই। আর এজন্যই বাংলা সাহিত্যে মানিক, মানিক রতন হয়ে রয়েছেন। শত বছরের মানিক মারাও গেছেন অর্ধশত বছরের বেশি হয়ে গেল। কিন্তু আজও তার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ছে অবিশ্রান্ত ধারায়। তিনি জন্মেছিলেন ১৯০৮ সালের ১৯ মে সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে এবং মারা যান ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায়। তার সাড়ে ৪৮ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন ৩২ বছর। তার মধ্যে কিশোর বয়সে ৪ বছর নীরব কাব্যচর্চা (১৯২৪-১৯২৮), কলেজ জীবনে ৪ বছর শৌখিন সাহিত্যচর্চা (১৯২৮-১৯৩২) এবং অবশিষ্ট ২৪ বছর তিনি নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যচর্চা (১৯৩২-১৯৫৬) করেছেন। এ সময়কালে তিনি বাংলা সাহিত্যে যে অবদান রেখে গেছেন গুণ, মান ও সংখ্যায় তা অভাবনীয় ও বিস্ময়কর। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৮৩। তার মধ্যে উপন্যাস-৪০ (অসম্পূর্ণ-৩), গল্পগ্রন্থ-২২, প্রবন্ধ সংকলন-৩, নাটক-১, কাব্যগ্রন্থ-১ এবং অন্যান্য-১৬।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি ছিল বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ)-এর মালপদিয়া গ্রামে। তার পূর্বপুরুষরা ছিলেন সিমুলিয়া গ্রামের অধিবাসী। তার পিতার নাম হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা নীরদাদেবী। তার মাও ছিলেন বিক্রমপুরের গাওদিয়া গ্রামের মেয়ে। তাই মানিকের শেকড় গ্রথিত ছিল প্রাচীন বাংলার ইতিহাসখ্যাত শত ঐতিহ্যমণ্ডিত বিক্রমপুরে এবং এখানকার মাটি থেকেই তার জীবনরস সিঞ্চিত হয়েছে; আত্মপ্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তা ফুলে ফলে সুশোভিত হয়েছে। অাঁতুর ঘরে কালো গায়ের রং-এর মধ্যেও তার ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ পেয়েছিল। তাই তার নামকরণ হয়েছিল ‘কালো মানিক’। কিন্তু পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল প্রবোধ কুমার। ডাক নাম মানিক হলেও লেখক নাম মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ বছর বয়সে কলেজে পড়াকালে বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লিখে ফেলেন ‘অতসী মামী’ গল্পটি। তা ১৩৩৫ সালের পৌষ সংখ্যা ‘বিচিত্রা’য় প্রকাশিত হলে সকলে চমকে ওঠেন। লেখালেখির জগতে মানিকের এই যে অগ্রযাত্রা প্রাণস্পন্দন থেমে না যাওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। যেসব পত্রপত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে বিচিত্রা, বঙ্গশ্রী, পূর্বাশা, ভারতবর্ষ, পরিচয়, যুগান্তর, প্রভাতী, আনন্দবাজার, স্বাধীনতা, বসুমতী, ছোটদের রংমশাল, অভিদারা, অনন্যা, এলোমেলো, এখন, আগামী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ (উপন্যাস) ‘জননী’ এবং গল্পগ্রন্থ ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’। তার অসম্পূর্ণ উপন্যাস ‘মাটি ঘেঁষা মানুষ’ সম্পূর্ণ করেন সুধীর রঞ্জন মুখোপাধ্যায়। কিশোর উপন্যাস ‘মশাল’ কে সম্পূর্ণ করেছেন তা জানা যায়নি। তবে কিশোর উপন্যাস ‘মাটির কাছে কিশোর কবি’ সম্পূর্ণ করেছেন খগেন্দ্রনাথ মিত্র। তার লেখা দুটি উপন্যাসের ভূমিকা অসম্পূর্ণ ছিল, সম্পূর্ণ নয় অগ্রন্থিত রচনার তালিকা। কিছু লেখা হয়তো এখনও অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে।
চাকুরিজীবী পিতার কর্মস্থান পরিবর্তিত হওয়ায় তিনিও বিভিন্ন স্থানে লেখাপড়া করেছেন। ফলে লেখাপড়ায় অনেকটা বিঘ্ন ঘটলেও নানান অঞ্চলের মানুষের সাথে মেলামেশা করে যে বাস্তবজ্ঞান অর্জন করেছিলেন সে সব অভিজ্ঞতা তার পরবর্তীকালের লেখক জীবনে সহায়ক হয়েছিল। ছোটবেলা থেকে তিনি মেধাবী ছিলেন এবং পরীক্ষায় ভাল ফল করেছেন। ১৯২৪ সালে মা মারা গেলে তিনি অনেকটা শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন এবং সম্ভবত এ সময়ে নীরবে কাব্যচর্চা শুরু করেন। ১৯২৬ সালে মেদেনীপুর স্কুল থেকে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। নৈর্বাচনিক ও আবশ্যিক গণিতে লাভ করেন লেটার মার্ক। ১৯২৮ সালে বাঁকুরা ওয়েস লিয়ন মিশন কলেজ থেকে তিনি আইএসসি পাস করেন প্রথম বিভাগে। তিনি ভর্তি হলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিত বিষয়ে বিএসসি সম্মান শ্রেণীতে। কিন্তু এ সময়ে তিনি ধরাবাঁধা লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে দেশ-বিদেশের সাহিত্য পাঠে মনোনিবেশ করেন। ফলে পরপর দু’বছর বিএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। এ জন্য নিকট ছাত্ররাও তার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে পড়েছিলেন। ইতোমধ্যে তার লেখালেখিও শুরু হয়ে গিয়েছিল পুরোদমে। জীবনধারণের জন্য চাকুরি করেন নবারুন (১৯৩৪) ও বঙ্গশ্রী (১৯৩৭-১৯৩৯) পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে। কিন্তু মৃগী রোগাক্রান্ত মানিককে ডা. বিধানচন্দ্র রায় বিয়ে করার পরামর্শ দিলেন। ১৯৩৮ সালের ১১ মে বিক্রমপুরের পঞ্চসার গ্রামের সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যা কমলা দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শরীরও অনেকটা সুস্থ হয়ে এলো। ইতোমধ্যে তার লেখক খ্যাতি দেশময় ছড়িয়ে পড়েছে। পেশা হিসেবে লেখালেখিকেই বেছে নিয়েছেন। আর্থিক অসচ্ছলতা ঘোচাতে ১৯৩৯ সালে তিনি একবার প্রেসব্যবসা শুরু করেছিলেন। উদ্দেশ্য সেখান থেকেই বই ও একটি পত্রিকা প্রকাশ করবেন। কিন্তু এক বছর না যেতেই প্রেস ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। লেখালেখির অর্থে সংসার চলে না। অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ পিতাও স্বেচ্ছায় আশ্রয় নিয়েছেন। পিতার সেবাযত্নেও এতটুকু অবহেলা তিনি করেননি। ১৯৪৩ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় কিছুকাল তিনি ওয়ার ফ্রন্টের প্রভিন্সিয়াল অর্গানাইজার এবং বেঙ্গল দফতরে পাবলিসিটি এসিস্যান্ট হিসেবে চাকরি করেছেন। আকাশ বাণী কলকাতা কেন্দ্রে যুদ্ধ বিষয়ক প্রচার ও নানাবিধ বেতার অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন। কিন্তু সে সময় ফরমায়েসি কাজে তার পোষায়নি। তিনি স্বেচ্ছায় কেটে পড়েছেন। লেখালেখি করে অধিক অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেছেন। তার লেখায় যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, দুর্ভিক্ষ, কালোবাজারী, মুনাফালোভীর চিত্র ফুটে ওঠে। তাছাড়া ফ্যাসিবাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সামপ্রদায়িকতার বিষবাষ্পে ভূলুণ্ঠিত মানবতা বিশেষ করে কৃষক-শ্রমিক মেহনতী মানুষের জীবন সংগ্রাম মূর্তমান হয়ে ওঠে। তার সাহিত্যখ্যাতিও দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
১৯৪২ সালের ৮ মার্চ ঢাকাতে ফ্যাসিবিরোধী সমাবেশে যোগদানের জন্য তরুণ লেখক ও কম্যুনিস্টকর্মী সৌমেন চন্দ (১৯২০-১৯৪৮) মিছিল নিয়ে আসার পথে ফরোয়ার্ড ব্লকের গু াদের হাতে রাজপথে নৃশংসভাবে নিহত হয়। সে প্রেক্ষাপটে কলকাতায় গঠিত হয়েছিল ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পীগোষ্ঠী। প্রথম দিকে প্রগতি লেখক সংঘের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা না থাকলেও পরবর্তীকালে এ সব সংগঠনের সঙ্গে নিজকে সম্পৃক্ত করে নেন। বুখারিনের বস্তুবাদ ও লিয়েনতিয়েনের মার্কসীয় অর্থনীতি পাঠ করে মার্কসীয় দর্শনের প্রতি তিনি আস্থাশীল হয়ে ওঠেন। ১৯৪৪ সালে তিনি কম্যুনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। মার্কসীয় দর্শনের বইপত্র পড়ে তিনি সম্পূর্ণ বদলে যান। ‘সাহিত্য করার আগে’ শীর্ষক লেখায় তিনি বলেছেন, মার্কসবাদ যতটুকু বুঝেছি তাতেই আমার কাছে ধরা পড়ে গিয়েছে যে, আমার সৃষ্টিতে কত মিথ্যা বিভ্রান্তি আর আবর্জনা আমি আমদানী করেছি জীবন ও সাহিত্যকে একান্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ভালবেসে ও জীবন ও সাহিত্যকে এগিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও। ১৯৪৪ সালের ১৪-১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তার সভাপতিম লীর অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হন। সে বছর ২৫-২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত পূর্ববঙ্গ প্রগতি লেখক ও শিল্পী সম্মেলনে তিনি যোগদান করেন। ১৯৪৫ সালের ৩-৮ মার্চ ভারতীয় প্রগতি লেখক সংঘের অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে ভয়াবহ দাঙ্গা প্রতিরোধে তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে এগিয়ে যান এবং বহু সভা সমাবেশে যোগদান করেন। ১৯৪৯ সালের ২২ এপ্রিল প্রগতি লেখক সংঘের চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলনে পুলিশী হানার মধ্যেও তিনি ডেলিগেট অধিবেশনে যোগদান করেন। ২২ নভেম্বর ট্রাম বাড়িতে অনুষ্ঠিত প্রগতি লেখক সংঘের শান্তি সম্মেলনে তিনি সভাপতিত্ব করেন। সভাপতিত্ব করেছিলেন ১৯৫৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রগতি লেখক সংঘের পঞ্চম বার্ষিকী সম্মেলনে। লেখার চাপ ছাড়াও পার্টি এবং অন্যান্য সাগংঠনিক কাজে বেশি বেশি পরিশ্রম করার ফলে তার শরীর ভাঙতে শুরু করে। পার্টির পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে তিনি কখনও স্বস্তিবোধ করেননি। নিজ দায়িত্বেই তিনি বাসায় ফিরে এসেছেন। তারপর ১৯৫৬ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। অসহায় পারিবারিক পরিবেশে দুই দিন থাকার পর ২ ডিসেম্বর রাত ১০টায় নীলরতন সরকার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। না সেখানে আর তাকে বেশি সময় কাটাতে হয়নি। ৩ ডিসেম্বর ভোর চারটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সময় পেলেন না কাকা বাবুর (কমরেড মুজাফফর আহমদ) জীবনী লেখার।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে সাহিত্য চর্চার বয়স হল ৩০ বছর। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘তিরশ বছর বয়সের আগে কারো লেখা উচিত নয়। আমি সেই বয়সে লিখবো। এর মধ্যে তৈরি হয়ে নিতে হবে সব দিক দিয়ে। কেবল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় নয়। নিশ্চিত মনে যাতে সাহিত্যচর্চা করতে পারি তার বাস্তব ব্যবস্থাগুলো ঠিক করে ফেলবো।’ কিন্তু সে সুযোগ তিনি পাননি। অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে ত্রিশ বছরের বহু পূর্বেই তিনি লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কিশোর বয়সে কবিতা ও গল্প লিখেছেন। কিন্তু ঔপন্যাসিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন তার ‘উপন্যাসের ধারা’_ লেখায় ‘… সাধ করলে কবি হয়তো আমি হতে পারি; কিন্তু ঔপন্যাসিক হওয়াটাই আমার পক্ষে হবে উচিত ও স্বাভাবিক।’ তার স্বপ্ন সত্যে পরিণত হয়েছে ঔপন্যাসিক হিসেবে তিনি সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। বিজ্ঞানের ছাত্র মানিকের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি উপন্যাস রচনায় সহায়ক ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, উপন্যাস লেখার জন্য দরকার খানিকটা বৈজ্ঞানিক বিচারবোধ, বিজ্ঞানচর্চা না করলেও সম্পূর্ণভাবে নিজের অজ্ঞাতসারে হলেও ঔপন্যাসিক খানিকটা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবেন, তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই।
মানবতাবাদী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সামপ্রদায়িকতা, ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে অন্তর থেকে ঘৃণা করেছেন। অসুস্থ শরীরে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি সামপ্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তিনি ডায়েরিতে লিখেছেন, ‘দাঙ্গার কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। … বিকালে এ অঞ্চলে শান্তিসভা হবে শুনলাম। খুশি হয়ে নিজে রাজি হলাম যতটা পারি সাহায্য করতে। যাকে দেখছি তাকে বলছি মিটমাটের জন্য সভায় যেতে। মসজিদের কাছে আনোয়ারশা রোডের একদল মুসলিম স্বীকার করলেন মিটমাট দরকার_ কয়েকজন উত্তেজিতভাবে বললেন মেরে পুড়িয়ে এখন মিটমাটের কথা কেন? অন্যরা তাদের থামালেন। ফাঁড়ি পেরিয়ে পুলের নিচে যেতে এল বিরোধিতা_ হিন্দুদের কাছ থেকে। কিসের মিটমাট মুসলমানরা এই করেছে ঐ করেছে। ব্যাটা কম্যুনিস্ট বলে আমায় মারে আর কি। প্রায় দেড়শ লোক মিলে ধরেছিল।’ ভারত ভাগের পর ১৯৫০ সালেও কলকাতায় সামপ্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। এ ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল খুবই স্পষ্ট। তিনি ডায়েরিতে লিখেছেন, সামপ্রদায়িকতার উপরটাই লোকে দেখছে। পিছনে কি গভীর ও ব্যাপক ষড়যন্ত্র, চোখে পড়ে না। যে উদ্দেশ্যে ভারত বিভাগ, সেই উদ্দেশ্যেই ভারত পাকিস্তানের বিবাদ বাড়িয়ে চলা বৃটিশ আমেরিকান সামপ্রাজ্যবাদ দুই রাষ্ট্রের ঘাড়ে চেপে থাকতে পারে। সামপ্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশ ভাগ ছিল তার অসহ্য। তার লেখায় তা সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে : ‘কানাই বলে মাঠে একটা ফ্লাগ উড়াই? আমি বলি ব্লাক ফ্লাগ উড়াও। কানাইয়ের ভাই বলাই বলে ঠিক। উদ্বাস্তুরা কি স্বাধীনতা পেয়েছে? সাত আট বছরের ছেলে। ফ্লাগ কিছু কিছু উড়েছে_ কিন্তু চার দিক ঝিমানো।’
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাদাসিধে জীবনযাপন সম্পর্কে অনেকেই লিখেছেন। রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী তার ‘একটি গল্পের জন্মকথা’য় লিখেছেন, ‘ছোট একটা পুরাতন একতলা দালান। সামনের দিকে অল্প পরিসর একটা কোঠা মানিক বাবুর লেখার ঘর। মাদুর বিছানো সাধারণ একটা তক্তপোষ ঘরের এক পাশে। মান্দাতার আমলের হতশ্রী লেখার টেবিল একটা_ তার একটিমাত্র বসার চেয়ারের অবস্থাও একই রকমের। গোটা তিনেক বইয়ের আলমারী পিছনটাতে। বইয়ের সংখ্যা সামান্য। বাঁধাই ‘প্রবাসী’, ‘ভারতবর্ষে’র সংখ্যাই বেশি।
বাজার থেকে ফিরে এলেন মানিক বাবু অল্প কিছুক্ষণ বাদে। গায়ে আধময়লা গেঞ্জি, পরনে লুঙ্গি। এক হাতে আট-নয় বছরের মেয়ের হাত ধরেছেন আর এক হাতে বাজারের চটের থলে। লম্বা প্রায় ছয় ফুট, বলিষ্ঠ কালো কুঁদানো শরীর, চাষাভূষাদের মতন। খোঁচা খোঁচা দাড়ি-গোঁফে মুখম ল আবৃত্ত তবে কুশ্রীতা নেই কোথাও প্রাণোচ্ছল সাজিবতায় ভরপুর। কালো ফ্রেমের চশমা ভেদকরা এক জোড়া নিবিষ্ট চোখ। অনাবৃত বাহুযুগলের পেশিতে যৌবনোচিত দৃঢ়তা। বেশভূষা, চেহারা সবটাই মিলিয়ে আবার নতুন করে যেন দেখলাম মানিক বাবুকে। খারাপ লাগেনি তবুও বাজারের থলেটাকে বাংলাদেশের প্রথম সারির একজন কথাশিল্পীর হাতে কেমন যেন বেমানান মনে হয়েছিল। … তার অনাড়ম্বর জীবনযাত্রার পরিচয় পেয়ে প্রকৃতই অন্তরঙ্গতা অনুভব করেছিলাম সেদিন।’
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সারা জীবন অর্থকষ্টে ভুগেছেন। অনেক সময় অসুখ হলে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের সুচিকিৎসারও ব্যবস্থা করতে পারেননি। কোনো কোনো সময় পার্টি, কবি-সাহিত্যিক বন্ধু বা শুভানুধ্যায়ীরা সহায়তার হাত প্রসারিত করেছেন। তারপরও এককালীন কিছু টাকা পেলে পুরোটাই পার্টি ফান্ডে জমা করে দিতেন। পৈতৃক বাড়ি বিক্রির টাকা তিনি পারিবারিক সদস্যদের অজ্ঞাতেই পার্টিকে দিয়েছিলেন। পার্টির প্রতি তিনি এতটাই অনুরক্ত ছিলেন। অন্যদিকে যে কোনভাবে টাকাপয়সা আয় করা তার রুচিবোধের বাইরে ছিল। রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর সঙ্গে আলাপকালে তার এ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে : ‘এখন সংসার চালাতে হয় শুধু এই দিয়েই। আর তো পেশা নেই কোন। তাছাড়া সব কাগজে লিখিনে এখন আর, কারণ তাতে লেখক সম্বন্ধে পাঠকের ধারণা নিচু হয়ে যায়_ সম্ভাবনা থাকে ভুল বুঝবার। তা যদি লিখতাম তা হলে অনেক টাকা রোজগার করতে পারতাম। অভাব থাকতো না কোন, দেখলেন তো কত সাহিত্যিক বাড়ি করলেন, গাড়ি করলেন_ আমি গরিবই রয়ে গেলাম সারা জীবন। অনেক সময় তিনি পয়সার অভাবে ওষুধ কিনে খেতে পারেননি। এমনকি একটি অসহায় অবস্থা নিজ ডায়েরিতে উলি্লখিত হয়েছে। ক’দিন থেকে শরীর খুব খারাপ, … কি যে দুর্বল বলা যায় না, বিছানা থেকে উঠবারও শক্তি নেই_ এদিকে ঘরে পয়সা নেই। জোর করে তো বেরোলাম ফিরবো কিনা না জেনে।’ তারপর সর্বশেষ যখন আর্থিক অসহায়ত্বের কারণে দুই দিন নিজ বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে থাকবার পর হাসপাতালে ভর্তির সংবাদ পেয়ে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এমন অবস্থায় টেলিফোন না করার কারণ জিজ্ঞাসা করায় মানিক পত্নী অস্ফুট স্বরে হেসেই উত্তর দিয়েছিলেন, ‘তাতে যে পাঁচআনা পয়সা লাগে ভাই।’
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন শ্রেণী-সংগ্রামে বিশ্বাসী লেখক। তার অনেক লেখায় তা পরিলক্ষিত হয়। শ্রেণী-সংগ্রামের বিজয়ে প্রত্যয়ী মানিক বন্দোপাধ্যায় তার ‘নেতা’ গল্পে লিখেছেন, ‘… আমরা কোন দাবি ছাড়বো না। আমরা কি শুধু রুজির জন্য লড়ি? আমাদের দাবির পিছনে_’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করেছেন অনেকেই। তবে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্য সমালোচক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘মানিক প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক জীবনকে জানতেন এবং তাদের সামাজিক অবস্থা সম্বন্ধে প্রচ্ছন্ন জ্ঞান রাখতেন। এই বাস্তবতাকে তিনি তার কথাসাহিত্যে উপস্থিত করেছেন। তিনি তা কেবল বাস্তবতাকে উপস্থিত করার প্রয়োজনে উপস্থিত করেননি করেছেন বাস্তবতাকে বদলাবার প্রয়োজনেও।’
মুন্সীগঞ্জে বাস খাদে পড়ে একজন নিহত
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগর উপজেলার উমপাড়া নামকস্থানে শুক্রবার সকালে বাস খাদে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩০ যাত্রী। নিহতের নাম- জালাল ব্যাপারী (৪৫)। তার বাড়ি মাদারীপুরের গাছবাড়িয়ায়। আহতদের ঢাকা ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর ঘটনাস্থল থেকে জানান, সার্বিক পরিবহনের বাসটি ৪০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে মাদারীপুর যাচ্ছিল। হঠাৎ সামনের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন যাত্রীদের উদ্ধার করে। তিনি জানান, চালক পলাতক রয়েছে।পদ্মার পানি আজ কমতে পারে : নদী ভাঙন বৃদ্ধি
এ বছরও থেমে নেই পদ্মার ভাঙন। ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্রমেই বিলীন হচ্ছে প্রাচীন জনপদ বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতোমধ্যে জেলার তিনটি উপজেলা টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও শ্রীনগরের শতাধিক গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বদলে গেছে গোটা জেলার মানচিত্র। এদিকে টঙ্গিবাড়ী হাসাইল বানারী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩ কোটি টাকার নামমাত্র বাঁধটি নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। একই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করেছে। তবে এ বাঁধেরও টিকে থাকার গ্যারান্টি নেই। এ ছাড়া শ্রীনগরেও এ বোর্ডের লাখ লাখ টাকার প্রকল্প বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পদ্মার প্রবল স্রোতে কোনো কিছুই যেন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প শুধু কিছু মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়। কিন্তু নদীভাঙনের শিকার হাজার হাজার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন কাটালেও তাদের ভাগ্যের বদল হচ্ছে না। এটাই তাদের নিয়তি।
এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বাঁধ নির্মাণে টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল-বানারী এলাকায় নদীভাঙন কিছুটা স্তিমিত হলেও শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল, উত্তর কামারগাঁও, পূর্ব বাঘরা, বাঘরা, কেদারপুর, মাগডাল, মান্দ্রা, কবুতরখোলা গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর নদীভাঙনের মুখে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে ভাগ্যকুল ও বাঘরা বাজারের সাত শতাধিক দোকানঘর-সহস্রাধিক বাড়িঘর। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চবিদ্যালয়, বাঘরা বাসুদেব মন্দির, স্বরূপ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, কামারগাঁও রাধা গোবিন্দ মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঢাকা-দোহারের দুই কিলোমিটার সড়ক ভাঙনের মুখে। ভাগ্যকুল ও বাঘরা বাজার রক্ষায় সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ পেলেও ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো রক্ষায় কোনো ব্যবস্খা করা হয়নি।
লৌহজং উপজেলায় গত এক সপ্তাহে পদ্মা গ্রাস করেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। লৌহজং থানা, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস ভাঙনের মুখে রয়েছে। ডহুরী, কলমা, সামুরবাড়ি এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্খানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্খা না নেয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা নানা পন্থায় ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ১৫ বছরে এ উপজেলার ৩৮টি গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছেন্ধ ধাইদা, তেওটিয়া, লৌহজং, গাওদিয়া, কনকসার ও কুমারভোগ।
মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ নয়া দিগন্তকে জানান শ্রীনগরের নদীতীরবর্তী কবুতরখোলা-ভাগ্যকুল-বাঘরা এলাকায় ৪৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রয়েছে। শিগগিরই তা একনেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আশা করি এ বাঁধ নির্মাণ হলে পদ্মার ভাঙন থেকে এলাকার জনগণকে রক্ষা করা আরো সহজ হবে।
মুন্সীগঞ্জে রাক্ষুসি পদ্মা এখন রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মুন্সীগঞ্জে রাক্ষুসি পদ্মা এখন রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে লৌহজং, শ্রীনগর ও টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙ্গঙের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী ২০টি গ্রামের দুই সহস্রাধিক পরিবারে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বসতভিটা, ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি স্থাপনা ভাঙনের গর্জন নিয়ে ধেয়ে আসছে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোর দিকে। লৌহজংয়ের কনকসার এলাকার শত বছরের ব্রাহ্মনগাওঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে এবং অপর অংশটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। এছাড়া আরো হুমকির মুখে পড়েছে লৌহজং থানা ভবন, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল বাজার, দিঘিরপাড় বাজারসহ শতশত ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।
স্থানীয় প্রশাসন নদী ভাঙনরোধে এখনও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তীরবর্তী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা বাঁশের বেড়াসহ নানা পন্থায় ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা অবিলম্বে ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারের আশু পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
কিংবদন্তির রাজধানী বিক্রমপুর
দু’হাজার বছর আগের বাংলা। রাজা বিক্রমাদিত্যের হাত ধরে প্রাচীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুরের জন্ম। সেটা যিশুর জন্মের প্রায় শতাব্দী আগের কথা। এরপরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাল রাজারা বসেন সিংহাসনে। প্রায় হাজার বছর আগে এ অঞ্চল জ্ঞান-বিজ্ঞানে ছিল অনন্য। শীলরক্ষিত এবং মহাপণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর জন্ম নেন। এক হাজার বছর আগে দুর্ভেদ্য হিমালয় পাড়ি দিয়ে অতীশ দীপঙ্কর জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন তিব্বতে, দূরপ্রাচ্যে বৌদ্ধধর্মের প্রসার শুরু হয়। তার জন্মস্থান বজ্রযোগিনী গ্রামটি আজ অজপাড়াগাঁ। তবে চৈনিক সরকারের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত সৌধ এবং নির্মীয়মাণ বিশ্ববিদ্যালয় এই মহামানবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। পালবংশের পর রাজা আদিশুরের হাত ধরে ফিরে আসে হিন্দু শাসন।
রাজা আদিশুর তার মহারানীকে সন্দেহবশত ঘন জঙ্গলে নির্বাসনে পাঠান। কিংবদন্তি বলে, সেখানেই গর্ভবতী রানী এক পুত্রসন্তান বল্লাল সেনের জন্ম দেন। বল্লাল সেন এই গহিন অরণ্যে ঢাকাপড়া ঈশ্বরীর মূর্তি পেয়ে জঙ্গলে ঢাকা ঈশ্বরী বা ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। অরণ্যের মাঝে ছোট্ট একটি গ্রাম হয় মন্দির ঘিরে, জন্ম নেয় ঢাকা।
যা হোক, রাজা বল্লাল সেন সেন রাজত্ব শুরু করেন। তার সম্পর্কে কিংবদন্তির সংখ্যা এত বেশি যে, অনেক পণ্ডিতের ধারণা, সেন বংশে একাধিক রাজা বল্লাল সেন ছিলেন। স্থানীয়রা সবকিছুতেই বল্লাল সেনের কাজ খুঁজে পান। যেমন বল্লাল সেনের দিঘি। বল্লাল সেন প্রজাদের দুর্দশা লাঘবে দিঘি প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। মাতৃভক্ত বল্লাল সেনের জননী এক রাতে যতটুকু হাঁটবেন, ততটা জায়গাজুড়ে দিঘি হবে। রাজা ভেবেছেন অন্তপুরবাসিনী বৃদ্ধা আর কতটাই-বা হাঁটবেন! কিন্তু তাকে হতভম্ভ করে দিল রাজমাতার হাঁটা। বুদ্ধি করে বল্লাল সেন মায়ের পায়ে সিঁদুরের দাগ দিয়ে রক্ত বুঝিয়ে থামালেন। কিন্তু মায়ের সঙ্গে মিথ্যাচার ঘোর অধর্ম। তাই রাজার দিঘিতে পানি আসে না।
রাজা নিজেকে আত্মোৎসর্গ করার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু বন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী রামপাল রাজাকে বাঁচাতে দিঘির স্থানে নিজেকে সঁপে দিলেন। তৈরি হলো বল্লাল সেনের দিঘি (অথবা রামপালের দিঘি)। রামপালের আত্মদানের ফল যা-ই হোক না কেন, আজ দিঘিটিতে পানি নেই কিন্তু বিশাল এলাকাজুড়ে নিচু অঞ্চল আর এলাকায় প্রচলিত কিংবদন্তি আজও বল্লাল সেন আর রামপালের বন্ধুত্ব অটুট রেখেছে।
সেন বংশের শেষ রাজার নামও বলল্গাল সেন। প্রজাদের ওপর তার নিপীড়নের কথা শুনে সদলবলে আরব থেকে এদেশে আসেন বাবা আদম নামের এক ধর্মনেতা। প্রতিষ্ঠা করেন এ অঞ্চলের প্রথম মসজিদ। এজন্য বাবা আদমকে যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়াতে হয় বল্লাল সেনের সঙ্গে। বল্লাল সেন যুদ্ধে যাওয়ার আগে প্রাসাদের সব রমণীকে বলে গেলেন, তিনি যুদ্ধে হেরে গেলে পোশাকের নিচে লুকানো পায়রা উড়ে আসবে। আর সম্মান রক্ষার্থে তারা যেন সবাই আগুনে আত্মাহুতি দেন। যুদ্ধে মুসলিম যোদ্ধারা পরাজিত হন; কিন্তু বাবা আদমকে কোনো অস্ত্র দিয়েই ঘায়েল করা যাচ্ছে না। তিনি বললেন, মহান আলল্গাহর ইচ্ছায় আমি প্রতিপক্ষের তলোয়ারে মারা যাব না। তিনি নিজ তরবারি বল্লাল সেনের হাতে তুলে দেন। এই তলোয়ারের আঘাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে হঠাৎ অসাবধানে পায়রাটি পোশাকের ভেতরে থেকে পালিয়ে বল্লাল সেনের প্রাসাদে চলে আসে। ফলে বল্লাল সেনের পুরো পরিবার ভুল বুঝে আগুনে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করে। শোকে পাগল বল্লাল সেনও একই অগি্নকুণ্ডে লাফিয়ে পড়ে সেন বংশের অবসান ঘটান। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন সিপাহিপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত বাবা আদমের মসজিদ বাংলায় প্রথম মসজিদ। মসজিদের পাশেই বাবা আদমের মাজার।
হাজার বছর আগের ভ্রমণ শেষে ফিরে আসি আজকের ঢাকা শহরের বাস্তব জগতে। সত্যি সত্যি বাংলার প্রাচীন রাজধানীতে যেতে চান? ঢাকার স্টেডিয়াম/গুলিস্তান বা পোস্তগোলা থেকে বাসে করে যাবেন মুন্সীগঞ্জের দিকে। সুখবাসপুর বা সুবাসপুরে নেমে পড়বেন। এখানে ঘণ্টা হিসাবে রিকশা নিতেন পারেন। সিপাহিপাড়ার দিকে যেতে পথে পড়বে কিংবদন্তির দিঘি রাজা হরিশ চন্দ্রের দিঘি। এরপর বল্লাল সেনের দিঘি, বাবা আদমের মসজিদ এবং মাজার। এরপর চলে যান বজ্রযোগিনী গ্রামে। অতীশ দীপঙ্করের বাস্তুভিটায়। পুরো এলাকাতেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সেন রাজবংশ এবং পরে বার ভূঁইয়াদের সময়কালের অনেক স্মৃতিচিহ্ন। খুব সহজেই ঘুরে আসুন প্রাচীন বাংলার গৌরবের নগরের পথে-প্রান্তরে।
হ সাঈদ সৌম্য
ফখরুদ্দীন আহমদকে তলবের চিন্তাভাবনা
মিজান মালিকবিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে সংসদীয় কমিটির সামনে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানা গেছে। ৯০ দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদকাল অসাংবিধানিকভাবে প্রায় ২ বছর ধরে রাখা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আমেরিকায় সম্পদ অর্জন ও সেদেশের স্থায়ী আবাসিক কার্ডের তথ্য গোপনের অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলব করা হতে পারে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্রমতে, আমেরিকায় ড. ফখরুদ্দীনের নামে দুটি বাড়ি ও পৃথক দুটি ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে সংসদীয় কমিটি। সেসব তথ্য এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। কমিটি জানতে পেরেছে, ড. ফখরুদ্দীন আহমদ আমেরিকার স্থায়ী আবাসিক কার্ডধারী। তার এসএসএন নম্বর (সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর) ১৪৮৫২৮৯৯২। এ কার্ডের আওতায় তিনি আমেরিকায় নাগরিকের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন বলে জানা যায়। তার বাড়ি দুটি আমেরিকার ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডে। ১০৮০৮ ব্রিক ইয়ার্ড কোর্ট ফটোম্যাক মেরিল্যান্ডে ২০৮৫৪ নং হোল্ডিংয়ের কেনা বাড়ির মূল্য ১৫ লাখ ৪ হাজার ৬১০ ইউএস ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১০ কোটি ৫৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। ৭৬০৭ নিউ মার্কেট ড্রাইভে কেনা বাড়ির মূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭১০ ইউএস ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫ কোটি ২৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এছাড়া তার নামে সেদেশের ওয়াস্যুভিয়া ব্যাংকে ২০৯৪৮৯৫৩৬১২৪ নং সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং ৪৪০২৫৮৩২৫ নং সিডি অ্যাকাউন্টে আরও প্রায় কোটি টাকার সঞ্চয় রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে কমিটি। সূত্রমতে, কমিটি জানতে পেরেছে, আমেরিকায় সম্পদ অর্জনের তথ্য এবং স্থায়ী আবাসিক কার্ড গ্রহণের তথ্যটি গোপন করেছেন ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ফখরুদ্দীন আহমদ বিদেশে অর্থ-বৈভব করেছেন কিভাবে তা তিনি বাংলাদেশকে জানাননি। এছাড়া তিনি আমেরিকার স্থায়ী আবাসিক কার্ড অর্জনের বিষয়টিও গোপন করে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন।
এসব বিষয়ে অভিযোগ আসায় তার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। সূত্রমতে, ড. ফখরুদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে সংবিধান লংঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে। সাংবিধানিকভাবে ৯০ দিন বা ৩ মাসের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিয়ে জাতিকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিয়ে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রায় ২ বছর ক্ষমতায় ছিল। এ সময়ে তিনি তার সরকারের সামনে এবং পেছনের ক্ষমতাধর লোকজনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভালো-মন্দ সব কাজের দায়-দায়িত্ব প্রধান উপদেষ্টার। দুদক চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তদানীন্তন সচিব দেলোয়ার হোসেনের স্বাক্ষরে দেশের ৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয়ার বিষয়ে সংসদীয় কমিটি জানতে চাইলে তিনি (দেলোয়ার হোসেন) কমিটিকে বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে সে সময় দুদকের কাজ পরিচালিত হতো।
সূত্র জানায়, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও দুদক সচিব দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্যের সূত্র ধরে তাদের আনীত অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও ফখরুদ্দীন আহমদকে সংসদীয় কমিটির সামনে তলব করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। একই সঙ্গে তিনি কিভাবে কখন দেশের বাইরে থেকে এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হলেন, কে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে সেসব বিষয়েও তার কাছ থেকে জানা হবে। তার ঘনিষ্ঠদের অনেকে মনে করেন, ফখরুদ্দীন আহমদ আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে কারও কাছেই কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। অবশ্য তার স্থায়ী আবাসিক কার্ড বা এসএসএন কার্ডপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। কেউ কেউ মনে করেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি থাকাকালীন ফখরুদ্দীন আহমদ আমেরিকায় বাড়ি-গাড়ি করেছেন।
এদিকে সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য ড. ফখরুদ্দীন আহমদের বিষয়ে তথ্যপ্রাপ্তির প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন, অন্য দেশের স্থায়ী রেসিডেন্ট হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হতে পারেন না। এটি আইনবহির্ভূত। এছাড়া তার দেশের বাইরে সম্পদের বিষয় এনবিআরকে জানানোও নৈতিকতার পর্যায়ে পড়ে বলে জানান তিনি।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ৩১ মে সরকারি বাড়ি তš§য় ছেড়ে দেন। এরপর তিনি ২ মাসের জন্য আমেরিকায় পাড়ি জমান। সেখানে রয়েছে তার পুরো পরিবার। তিনি সহসাই দেশে ফিরছেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশে আসেন। তখন জোট সরকারের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছে ড. ফখরুদ্দীনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করার জন্য প্রস্তাব করেন। কথামতো কাজ। গভর্নর হিসেবে একদিনেই তার নিয়োগ হয়ে যায় বলে জানা যায়। সাইফুর রহমান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করেন, ফখরুদ্দীন আহমদ বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে ভালোভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর জোট সরকারের সময় তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ২০০৫ সালে তাকে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় তৎকালীন সরকার। এ প্রতিষ্ঠানটি এনজিও খাতে ঋণ সহায়তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। জোট সরকারের সময় সুবিধাভোগী ফখরুদ্দীন আহমদ প্রধান উপদেষ্টা হন কাকতালীয়ভাবে। তার ঘনিষ্ঠরা জানান, প্রস্তাবটি ছিল ড. মোহাম্মদ ইউনূসের জন্য। কিন্তু তিনি নিজে রাজি না হয়ে বন্ধু ফখরুদ্দীনের নাম প্রস্তাব করলে ওয়ান-ইলেভেনের নায়করা রাজি হয়ে যান।
সূত্রমতে, সংসদীয় কমিটি পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পেলে ড. ফখরুদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ করতে পারে। এছাড়া বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কারানির্যাতিত নেতারা ফখরুদ্দীন আহমদসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেকের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও এসব প্রস্তুতির সঙ্গে সরকারের কোন ধরনের যোগাযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা থেমে নেই। তারা শুধু ফখরুদ্দীন আহমদই নন, রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালনায় যুক্ত অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা করবেন বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন।
পপুলার লাইফের মুন্সীগঞ্জ জেলার বার্ষিক সম্মেলন
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুন্সীগঞ্জ জেলার বার্ষিক সম্মেলন ২০০৮ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে আটজন বীমা গ্রাহকের নমিনিদের কাছে মৃত্যুদাবির চেক হস্তান্তর করা হয়
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুন্সীগঞ্জ জেলার বার্ষিক সম্মেলন ২০০৮ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে আটজন বীমা গ্রাহকের নমিনিদের কাছে মৃত্যুদাবির চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ কালাম, কনসালট্যান্ট মো. আনিস উদ্দিন মিয়া। বিজ্ঞপ্তি
পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে মুন্সীগঞ্জে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন
মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকুল পয়েন্ট গত ৪ দিনে পদ্মা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলার বাঘরা, ভাগ্যকুল, চারিপাড়া, কামারগাও, মান্ডা ও কবুতরখোলাসহ নদীর তীরর্বতী ৩ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এছাড়া ঝুকির মধ্যে রয়েছে ভাগ্যকুল পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাঘরা স্বরূপ উচ্চ বিদ্যালয়, হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয়, কামারগাও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯ টি মসজিদসহ বাঘরা ও ভাগ্যকুল বাজারের ৪ শতাধিক দোকানপাট। এদিকে ভাঙ্গনরোধে ২ মাস আগে ৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ হলেও সেই কাজ চলছে ঢিমেতালে বলে জানান এলাকাবাসী।
Subscribe to:
Posts (Atom)