ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগর উপজেলার উমপাড়া নামকস্থানে শুক্রবার সকালে বাস খাদে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩০ যাত্রী। নিহতের নাম- জালাল ব্যাপারী (৪৫)। তার বাড়ি মাদারীপুরের গাছবাড়িয়ায়। আহতদের ঢাকা ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর ঘটনাস্থল থেকে জানান, সার্বিক পরিবহনের বাসটি ৪০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে মাদারীপুর যাচ্ছিল। হঠাৎ সামনের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন যাত্রীদের উদ্ধার করে। তিনি জানান, চালক পলাতক রয়েছে।বিক্রমপুরের ইতিহাস শুধু একটি পরগনার ইতিহাস নহে, ইহা বঙ্গেরই ইতিহাস...
Monday, July 27, 2009
পদ্মার পানি আজ কমতে পারে : নদী ভাঙন বৃদ্ধি
এ বছরও থেমে নেই পদ্মার ভাঙন। ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্রমেই বিলীন হচ্ছে প্রাচীন জনপদ বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতোমধ্যে জেলার তিনটি উপজেলা টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও শ্রীনগরের শতাধিক গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বদলে গেছে গোটা জেলার মানচিত্র। এদিকে টঙ্গিবাড়ী হাসাইল বানারী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩ কোটি টাকার নামমাত্র বাঁধটি নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। একই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করেছে। তবে এ বাঁধেরও টিকে থাকার গ্যারান্টি নেই। এ ছাড়া শ্রীনগরেও এ বোর্ডের লাখ লাখ টাকার প্রকল্প বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পদ্মার প্রবল স্রোতে কোনো কিছুই যেন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প শুধু কিছু মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়। কিন্তু নদীভাঙনের শিকার হাজার হাজার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন কাটালেও তাদের ভাগ্যের বদল হচ্ছে না। এটাই তাদের নিয়তি।
এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বাঁধ নির্মাণে টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল-বানারী এলাকায় নদীভাঙন কিছুটা স্তিমিত হলেও শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল, উত্তর কামারগাঁও, পূর্ব বাঘরা, বাঘরা, কেদারপুর, মাগডাল, মান্দ্রা, কবুতরখোলা গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর নদীভাঙনের মুখে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে ভাগ্যকুল ও বাঘরা বাজারের সাত শতাধিক দোকানঘর-সহস্রাধিক বাড়িঘর। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চবিদ্যালয়, বাঘরা বাসুদেব মন্দির, স্বরূপ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, কামারগাঁও রাধা গোবিন্দ মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঢাকা-দোহারের দুই কিলোমিটার সড়ক ভাঙনের মুখে। ভাগ্যকুল ও বাঘরা বাজার রক্ষায় সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ পেলেও ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো রক্ষায় কোনো ব্যবস্খা করা হয়নি।
লৌহজং উপজেলায় গত এক সপ্তাহে পদ্মা গ্রাস করেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। লৌহজং থানা, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস ভাঙনের মুখে রয়েছে। ডহুরী, কলমা, সামুরবাড়ি এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্খানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্খা না নেয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা নানা পন্থায় ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ১৫ বছরে এ উপজেলার ৩৮টি গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছেন্ধ ধাইদা, তেওটিয়া, লৌহজং, গাওদিয়া, কনকসার ও কুমারভোগ।
মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ নয়া দিগন্তকে জানান শ্রীনগরের নদীতীরবর্তী কবুতরখোলা-ভাগ্যকুল-বাঘরা এলাকায় ৪৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রয়েছে। শিগগিরই তা একনেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আশা করি এ বাঁধ নির্মাণ হলে পদ্মার ভাঙন থেকে এলাকার জনগণকে রক্ষা করা আরো সহজ হবে।
মুন্সীগঞ্জে রাক্ষুসি পদ্মা এখন রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মুন্সীগঞ্জে রাক্ষুসি পদ্মা এখন রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে লৌহজং, শ্রীনগর ও টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙ্গঙের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী ২০টি গ্রামের দুই সহস্রাধিক পরিবারে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বসতভিটা, ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি স্থাপনা ভাঙনের গর্জন নিয়ে ধেয়ে আসছে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোর দিকে। লৌহজংয়ের কনকসার এলাকার শত বছরের ব্রাহ্মনগাওঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে এবং অপর অংশটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। এছাড়া আরো হুমকির মুখে পড়েছে লৌহজং থানা ভবন, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল বাজার, দিঘিরপাড় বাজারসহ শতশত ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।
স্থানীয় প্রশাসন নদী ভাঙনরোধে এখনও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তীরবর্তী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা বাঁশের বেড়াসহ নানা পন্থায় ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা অবিলম্বে ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারের আশু পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
কিংবদন্তির রাজধানী বিক্রমপুর
দু’হাজার বছর আগের বাংলা। রাজা বিক্রমাদিত্যের হাত ধরে প্রাচীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুরের জন্ম। সেটা যিশুর জন্মের প্রায় শতাব্দী আগের কথা। এরপরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাল রাজারা বসেন সিংহাসনে। প্রায় হাজার বছর আগে এ অঞ্চল জ্ঞান-বিজ্ঞানে ছিল অনন্য। শীলরক্ষিত এবং মহাপণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর জন্ম নেন। এক হাজার বছর আগে দুর্ভেদ্য হিমালয় পাড়ি দিয়ে অতীশ দীপঙ্কর জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন তিব্বতে, দূরপ্রাচ্যে বৌদ্ধধর্মের প্রসার শুরু হয়। তার জন্মস্থান বজ্রযোগিনী গ্রামটি আজ অজপাড়াগাঁ। তবে চৈনিক সরকারের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত সৌধ এবং নির্মীয়মাণ বিশ্ববিদ্যালয় এই মহামানবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। পালবংশের পর রাজা আদিশুরের হাত ধরে ফিরে আসে হিন্দু শাসন।
রাজা আদিশুর তার মহারানীকে সন্দেহবশত ঘন জঙ্গলে নির্বাসনে পাঠান। কিংবদন্তি বলে, সেখানেই গর্ভবতী রানী এক পুত্রসন্তান বল্লাল সেনের জন্ম দেন। বল্লাল সেন এই গহিন অরণ্যে ঢাকাপড়া ঈশ্বরীর মূর্তি পেয়ে জঙ্গলে ঢাকা ঈশ্বরী বা ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। অরণ্যের মাঝে ছোট্ট একটি গ্রাম হয় মন্দির ঘিরে, জন্ম নেয় ঢাকা।
যা হোক, রাজা বল্লাল সেন সেন রাজত্ব শুরু করেন। তার সম্পর্কে কিংবদন্তির সংখ্যা এত বেশি যে, অনেক পণ্ডিতের ধারণা, সেন বংশে একাধিক রাজা বল্লাল সেন ছিলেন। স্থানীয়রা সবকিছুতেই বল্লাল সেনের কাজ খুঁজে পান। যেমন বল্লাল সেনের দিঘি। বল্লাল সেন প্রজাদের দুর্দশা লাঘবে দিঘি প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। মাতৃভক্ত বল্লাল সেনের জননী এক রাতে যতটুকু হাঁটবেন, ততটা জায়গাজুড়ে দিঘি হবে। রাজা ভেবেছেন অন্তপুরবাসিনী বৃদ্ধা আর কতটাই-বা হাঁটবেন! কিন্তু তাকে হতভম্ভ করে দিল রাজমাতার হাঁটা। বুদ্ধি করে বল্লাল সেন মায়ের পায়ে সিঁদুরের দাগ দিয়ে রক্ত বুঝিয়ে থামালেন। কিন্তু মায়ের সঙ্গে মিথ্যাচার ঘোর অধর্ম। তাই রাজার দিঘিতে পানি আসে না।
রাজা নিজেকে আত্মোৎসর্গ করার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু বন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী রামপাল রাজাকে বাঁচাতে দিঘির স্থানে নিজেকে সঁপে দিলেন। তৈরি হলো বল্লাল সেনের দিঘি (অথবা রামপালের দিঘি)। রামপালের আত্মদানের ফল যা-ই হোক না কেন, আজ দিঘিটিতে পানি নেই কিন্তু বিশাল এলাকাজুড়ে নিচু অঞ্চল আর এলাকায় প্রচলিত কিংবদন্তি আজও বল্লাল সেন আর রামপালের বন্ধুত্ব অটুট রেখেছে।
সেন বংশের শেষ রাজার নামও বলল্গাল সেন। প্রজাদের ওপর তার নিপীড়নের কথা শুনে সদলবলে আরব থেকে এদেশে আসেন বাবা আদম নামের এক ধর্মনেতা। প্রতিষ্ঠা করেন এ অঞ্চলের প্রথম মসজিদ। এজন্য বাবা আদমকে যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়াতে হয় বল্লাল সেনের সঙ্গে। বল্লাল সেন যুদ্ধে যাওয়ার আগে প্রাসাদের সব রমণীকে বলে গেলেন, তিনি যুদ্ধে হেরে গেলে পোশাকের নিচে লুকানো পায়রা উড়ে আসবে। আর সম্মান রক্ষার্থে তারা যেন সবাই আগুনে আত্মাহুতি দেন। যুদ্ধে মুসলিম যোদ্ধারা পরাজিত হন; কিন্তু বাবা আদমকে কোনো অস্ত্র দিয়েই ঘায়েল করা যাচ্ছে না। তিনি বললেন, মহান আলল্গাহর ইচ্ছায় আমি প্রতিপক্ষের তলোয়ারে মারা যাব না। তিনি নিজ তরবারি বল্লাল সেনের হাতে তুলে দেন। এই তলোয়ারের আঘাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে হঠাৎ অসাবধানে পায়রাটি পোশাকের ভেতরে থেকে পালিয়ে বল্লাল সেনের প্রাসাদে চলে আসে। ফলে বল্লাল সেনের পুরো পরিবার ভুল বুঝে আগুনে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করে। শোকে পাগল বল্লাল সেনও একই অগি্নকুণ্ডে লাফিয়ে পড়ে সেন বংশের অবসান ঘটান। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন সিপাহিপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত বাবা আদমের মসজিদ বাংলায় প্রথম মসজিদ। মসজিদের পাশেই বাবা আদমের মাজার।
হাজার বছর আগের ভ্রমণ শেষে ফিরে আসি আজকের ঢাকা শহরের বাস্তব জগতে। সত্যি সত্যি বাংলার প্রাচীন রাজধানীতে যেতে চান? ঢাকার স্টেডিয়াম/গুলিস্তান বা পোস্তগোলা থেকে বাসে করে যাবেন মুন্সীগঞ্জের দিকে। সুখবাসপুর বা সুবাসপুরে নেমে পড়বেন। এখানে ঘণ্টা হিসাবে রিকশা নিতেন পারেন। সিপাহিপাড়ার দিকে যেতে পথে পড়বে কিংবদন্তির দিঘি রাজা হরিশ চন্দ্রের দিঘি। এরপর বল্লাল সেনের দিঘি, বাবা আদমের মসজিদ এবং মাজার। এরপর চলে যান বজ্রযোগিনী গ্রামে। অতীশ দীপঙ্করের বাস্তুভিটায়। পুরো এলাকাতেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সেন রাজবংশ এবং পরে বার ভূঁইয়াদের সময়কালের অনেক স্মৃতিচিহ্ন। খুব সহজেই ঘুরে আসুন প্রাচীন বাংলার গৌরবের নগরের পথে-প্রান্তরে।
হ সাঈদ সৌম্য
ফখরুদ্দীন আহমদকে তলবের চিন্তাভাবনা
মিজান মালিকবিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে সংসদীয় কমিটির সামনে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানা গেছে। ৯০ দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদকাল অসাংবিধানিকভাবে প্রায় ২ বছর ধরে রাখা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আমেরিকায় সম্পদ অর্জন ও সেদেশের স্থায়ী আবাসিক কার্ডের তথ্য গোপনের অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলব করা হতে পারে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্রমতে, আমেরিকায় ড. ফখরুদ্দীনের নামে দুটি বাড়ি ও পৃথক দুটি ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে সংসদীয় কমিটি। সেসব তথ্য এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। কমিটি জানতে পেরেছে, ড. ফখরুদ্দীন আহমদ আমেরিকার স্থায়ী আবাসিক কার্ডধারী। তার এসএসএন নম্বর (সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর) ১৪৮৫২৮৯৯২। এ কার্ডের আওতায় তিনি আমেরিকায় নাগরিকের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন বলে জানা যায়। তার বাড়ি দুটি আমেরিকার ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডে। ১০৮০৮ ব্রিক ইয়ার্ড কোর্ট ফটোম্যাক মেরিল্যান্ডে ২০৮৫৪ নং হোল্ডিংয়ের কেনা বাড়ির মূল্য ১৫ লাখ ৪ হাজার ৬১০ ইউএস ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১০ কোটি ৫৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। ৭৬০৭ নিউ মার্কেট ড্রাইভে কেনা বাড়ির মূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭১০ ইউএস ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫ কোটি ২৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এছাড়া তার নামে সেদেশের ওয়াস্যুভিয়া ব্যাংকে ২০৯৪৮৯৫৩৬১২৪ নং সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং ৪৪০২৫৮৩২৫ নং সিডি অ্যাকাউন্টে আরও প্রায় কোটি টাকার সঞ্চয় রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে কমিটি। সূত্রমতে, কমিটি জানতে পেরেছে, আমেরিকায় সম্পদ অর্জনের তথ্য এবং স্থায়ী আবাসিক কার্ড গ্রহণের তথ্যটি গোপন করেছেন ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ফখরুদ্দীন আহমদ বিদেশে অর্থ-বৈভব করেছেন কিভাবে তা তিনি বাংলাদেশকে জানাননি। এছাড়া তিনি আমেরিকার স্থায়ী আবাসিক কার্ড অর্জনের বিষয়টিও গোপন করে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন।
এসব বিষয়ে অভিযোগ আসায় তার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। সূত্রমতে, ড. ফখরুদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে সংবিধান লংঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে। সাংবিধানিকভাবে ৯০ দিন বা ৩ মাসের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিয়ে জাতিকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিয়ে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রায় ২ বছর ক্ষমতায় ছিল। এ সময়ে তিনি তার সরকারের সামনে এবং পেছনের ক্ষমতাধর লোকজনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভালো-মন্দ সব কাজের দায়-দায়িত্ব প্রধান উপদেষ্টার। দুদক চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তদানীন্তন সচিব দেলোয়ার হোসেনের স্বাক্ষরে দেশের ৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয়ার বিষয়ে সংসদীয় কমিটি জানতে চাইলে তিনি (দেলোয়ার হোসেন) কমিটিকে বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে সে সময় দুদকের কাজ পরিচালিত হতো।
সূত্র জানায়, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও দুদক সচিব দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্যের সূত্র ধরে তাদের আনীত অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও ফখরুদ্দীন আহমদকে সংসদীয় কমিটির সামনে তলব করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। একই সঙ্গে তিনি কিভাবে কখন দেশের বাইরে থেকে এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হলেন, কে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে সেসব বিষয়েও তার কাছ থেকে জানা হবে। তার ঘনিষ্ঠদের অনেকে মনে করেন, ফখরুদ্দীন আহমদ আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে কারও কাছেই কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। অবশ্য তার স্থায়ী আবাসিক কার্ড বা এসএসএন কার্ডপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। কেউ কেউ মনে করেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি থাকাকালীন ফখরুদ্দীন আহমদ আমেরিকায় বাড়ি-গাড়ি করেছেন।
এদিকে সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য ড. ফখরুদ্দীন আহমদের বিষয়ে তথ্যপ্রাপ্তির প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন, অন্য দেশের স্থায়ী রেসিডেন্ট হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হতে পারেন না। এটি আইনবহির্ভূত। এছাড়া তার দেশের বাইরে সম্পদের বিষয় এনবিআরকে জানানোও নৈতিকতার পর্যায়ে পড়ে বলে জানান তিনি।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ৩১ মে সরকারি বাড়ি তš§য় ছেড়ে দেন। এরপর তিনি ২ মাসের জন্য আমেরিকায় পাড়ি জমান। সেখানে রয়েছে তার পুরো পরিবার। তিনি সহসাই দেশে ফিরছেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশে আসেন। তখন জোট সরকারের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছে ড. ফখরুদ্দীনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করার জন্য প্রস্তাব করেন। কথামতো কাজ। গভর্নর হিসেবে একদিনেই তার নিয়োগ হয়ে যায় বলে জানা যায়। সাইফুর রহমান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করেন, ফখরুদ্দীন আহমদ বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে ভালোভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর জোট সরকারের সময় তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ২০০৫ সালে তাকে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় তৎকালীন সরকার। এ প্রতিষ্ঠানটি এনজিও খাতে ঋণ সহায়তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। জোট সরকারের সময় সুবিধাভোগী ফখরুদ্দীন আহমদ প্রধান উপদেষ্টা হন কাকতালীয়ভাবে। তার ঘনিষ্ঠরা জানান, প্রস্তাবটি ছিল ড. মোহাম্মদ ইউনূসের জন্য। কিন্তু তিনি নিজে রাজি না হয়ে বন্ধু ফখরুদ্দীনের নাম প্রস্তাব করলে ওয়ান-ইলেভেনের নায়করা রাজি হয়ে যান।
সূত্রমতে, সংসদীয় কমিটি পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পেলে ড. ফখরুদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ করতে পারে। এছাড়া বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কারানির্যাতিত নেতারা ফখরুদ্দীন আহমদসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেকের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও এসব প্রস্তুতির সঙ্গে সরকারের কোন ধরনের যোগাযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা থেমে নেই। তারা শুধু ফখরুদ্দীন আহমদই নন, রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালনায় যুক্ত অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা করবেন বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন।
পপুলার লাইফের মুন্সীগঞ্জ জেলার বার্ষিক সম্মেলন
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুন্সীগঞ্জ জেলার বার্ষিক সম্মেলন ২০০৮ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে আটজন বীমা গ্রাহকের নমিনিদের কাছে মৃত্যুদাবির চেক হস্তান্তর করা হয়
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুন্সীগঞ্জ জেলার বার্ষিক সম্মেলন ২০০৮ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে আটজন বীমা গ্রাহকের নমিনিদের কাছে মৃত্যুদাবির চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ কালাম, কনসালট্যান্ট মো. আনিস উদ্দিন মিয়া। বিজ্ঞপ্তি
পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে মুন্সীগঞ্জে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন
মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকুল পয়েন্ট গত ৪ দিনে পদ্মা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলার বাঘরা, ভাগ্যকুল, চারিপাড়া, কামারগাও, মান্ডা ও কবুতরখোলাসহ নদীর তীরর্বতী ৩ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এছাড়া ঝুকির মধ্যে রয়েছে ভাগ্যকুল পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাঘরা স্বরূপ উচ্চ বিদ্যালয়, হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয়, কামারগাও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯ টি মসজিদসহ বাঘরা ও ভাগ্যকুল বাজারের ৪ শতাধিক দোকানপাট। এদিকে ভাঙ্গনরোধে ২ মাস আগে ৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ হলেও সেই কাজ চলছে ঢিমেতালে বলে জানান এলাকাবাসী।
মুন্সীগঞ্জে এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি দখল করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা
ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ দলের সন্ত্রাসীরা একটি হিন্দু পরিবারের সহায়-সম্বল লুট করেই খ্যান্ত হয়নি, তাদের মারধর করে ভিটেমাটি থেকেও তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার কমলা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। ভিটেমাটি হারিয়ে হিন্দু পরিবারটি প্রাণ বাঁচাতে বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। স্খানীয় পুলিশের কোনো সহায়তা না পেয়ে আইনের আশ্রয় নিতে ঢাকায় ছুটে এসেছেন পরিবারের সদস্যরা।
ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারটি বিচারের দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববìধন করে। এ সময় তারা সাংবাদিকদের কাছেও হামলাকারী ও দখলবাজ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নাম প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছিলেন।
হামলার শিকার সুনিল চন্দ্র দে অভিযোগ করেন, স্খানীয় আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধরে তাদের বাড়ি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল। তাদের পেছনে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই ব্যক্তি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এরই জেরে গত ২৯ জুন রাত সাড়ে ৯টায় হঠাৎ তার বাড়িতে হানা দেয় স্খানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক অমর চাঁন সাহা, তপন পাল, ভাগবত পালসহ ৪০-৫০ জনের একদল সন্ত্রাসী। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে তাকে এবং তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করে। সন্ত্রাসীরা বাসার আলমিরা ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার, টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে। প্রায় এক ঘন্টা ধরে সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালালেও প্রতিবেশীদের কেউই ভয়ে এগিয়ে আসার সাহস পাননি। সন্ত্রাসীরা এক পর্যায়ে তাদের মারধর করে রাতের অìধকারে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। থানায় মামলা করলে এবং কারো কাছে আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। এ অবস্খায় তিনি আইনের আশ্রয় পেতে পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় ছুটে যান। কিন্তু পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো তাদের থানা থেকে বের করে দেয়। গভীর রাতে তারা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। পর দিন তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে আসেন। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির কারণে তিনি এলাকায় যেতে পারছেন না বলে জানান।
যানজট নিয়ন্ত্রণে ১ কনস্টেবল
ঢাকা নারায়ণগঞ্জ মুন্সীগঞ্জ সড়ক
ট্রাফিক পুলিশের জনবল সংকটের কারণে ঢাকানারায়ণগঞ্জমুন্সীগঞ্জ সড়কে যানজটের সমস্যা দিন-দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে মাত্র ১ জন কনস্টেবল দিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণের কাজ চালানো হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন ট্রাফিক পুলিশের ৪ জন সার্জেন্ট অফিসার ও ২০ জন কনস্টেবল। এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কবলে পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যানজটের কারণে কাঁচামালসহ বিভিন্ন মালামাল সঠিক সময়ে গন্থব্যে পৌঁছাতে না পারায় নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের সহস্রাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে গোলআলুসহ প্রায় সব ধরনের সবজির ২০০-৩০০ ট্রাক এ রুট দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন সরবরাহ করছে। কিন্তু যানজটের কারণে সঠিক সময়ে এসব ট্রাক হাটবাজারে যেতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে পাগলার মুন্সী খোলা পর্যন্ত রুটের বিভিন্নস্থানে সড়কের ওপর ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন এলোপাতাড়ি করে রাখা হয়েছে। সড়ক দখল করে ফতুল্লা থানাসংলগ্ন সড়কের ওপর সবজির দোকান বসনো হয়েছে। বিশেষ করে পাগলা মুন্সী খোলা এলাকার সড়কে পাইকারি মার্কেটের ইট, বালু, সিমেন্ট ও রডভর্তি ট্রাকের মালামাল লোড-আনলোড করার সময় প্রচ- যানজটের সৃষ্টি
হয়। অপরদিকে মুক্তারপুর ব্রিজ সড়ক থেকে পঞ্চবটি হয়ে পাগলা মুন্সী খোলা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সহস্রাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাস্তার ওপর রেখে লোড-আনলোড করা হচ্ছেÑ এতে প্রচ-ভাবে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে পাগলা মুন্সী খোলা এবং মুক্তারপুর থেকে পাগলা মুন্সী খোলা পর্যন্ত এই দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে ফতুল্লা থানার পঞ্চবটি এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে মাত্র ১ জন ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেন। যে কারণে এ সড়কের যানজট কখনোই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে জেলা ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর আনিসুজ্জামান বলেন, জনবল কম থাকায় এ সড়কটিতে যানজট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ সড়কের জন্য ৪ জন সার্জেন্ট অফিসার ও ২০ জন কনস্টেবল প্রয়োজন।
জেলা পুলিশ সুপার বিশ্বাস আফজাল হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ ট্রফিক পুলিশের জনবল কম থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। তবে এ সমস্যা রোধ করার জন্য ট্রাফিক পুলিশের জনবল বাড়াতে আবেদন করা হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের জনবল সংকটের কারণে ঢাকানারায়ণগঞ্জমুন্সীগঞ্জ সড়কে যানজটের সমস্যা দিন-দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে মাত্র ১ জন কনস্টেবল দিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণের কাজ চালানো হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন ট্রাফিক পুলিশের ৪ জন সার্জেন্ট অফিসার ও ২০ জন কনস্টেবল। এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কবলে পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যানজটের কারণে কাঁচামালসহ বিভিন্ন মালামাল সঠিক সময়ে গন্থব্যে পৌঁছাতে না পারায় নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের সহস্রাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে গোলআলুসহ প্রায় সব ধরনের সবজির ২০০-৩০০ ট্রাক এ রুট দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন সরবরাহ করছে। কিন্তু যানজটের কারণে সঠিক সময়ে এসব ট্রাক হাটবাজারে যেতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে পাগলার মুন্সী খোলা পর্যন্ত রুটের বিভিন্নস্থানে সড়কের ওপর ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন এলোপাতাড়ি করে রাখা হয়েছে। সড়ক দখল করে ফতুল্লা থানাসংলগ্ন সড়কের ওপর সবজির দোকান বসনো হয়েছে। বিশেষ করে পাগলা মুন্সী খোলা এলাকার সড়কে পাইকারি মার্কেটের ইট, বালু, সিমেন্ট ও রডভর্তি ট্রাকের মালামাল লোড-আনলোড করার সময় প্রচ- যানজটের সৃষ্টি
হয়। অপরদিকে মুক্তারপুর ব্রিজ সড়ক থেকে পঞ্চবটি হয়ে পাগলা মুন্সী খোলা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সহস্রাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাস্তার ওপর রেখে লোড-আনলোড করা হচ্ছেÑ এতে প্রচ-ভাবে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে পাগলা মুন্সী খোলা এবং মুক্তারপুর থেকে পাগলা মুন্সী খোলা পর্যন্ত এই দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে ফতুল্লা থানার পঞ্চবটি এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে মাত্র ১ জন ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেন। যে কারণে এ সড়কের যানজট কখনোই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে জেলা ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর আনিসুজ্জামান বলেন, জনবল কম থাকায় এ সড়কটিতে যানজট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ সড়কের জন্য ৪ জন সার্জেন্ট অফিসার ও ২০ জন কনস্টেবল প্রয়োজন।
জেলা পুলিশ সুপার বিশ্বাস আফজাল হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ ট্রফিক পুলিশের জনবল কম থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। তবে এ সমস্যা রোধ করার জন্য ট্রাফিক পুলিশের জনবল বাড়াতে আবেদন করা হয়েছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)