খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে কাওড়াকান্দি ২নং ঘাট ও মাওয়া ৩নং ঘাট অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রতিটি ঘাটই কর্দমাক্ত হয়ে যানবাহন ওঠানামায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ফলে ফেরি পারাপার হওয়ার পর লোড-আনলোডে বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে। তবে ডাম্ব ফেরি রানীক্ষেত শনিবার দুপুরে সচল হওয়ায় ও বৃষ্টি থেমে রোদ ওঠায় পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। ৪ দিন পর ট্রাক পারাপার শুরু হলেও উভয় পাড়ে যাত্রীবাহী পরিবহনসহ কাঁচামাল, রফতানিমুখী ট্রাকসহ এখনো ৪ শতাধিক যানবাহন আটকে আছে। ছুটির দিন শেষ হওয়ায় রোববার সকাল থেকে এ রুটে যানবাহনের চাপও বেড়েছে। ফলে ঘাটে আটকেপড়া যাত্রী ও শ্রমিকরা বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও টয়লেট সমস্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে পড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে অতিরিক্তি ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে।
বিক্রমপুরের ইতিহাস শুধু একটি পরগনার ইতিহাস নহে, ইহা বঙ্গেরই ইতিহাস...
Monday, July 06, 2009
মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
Sunday, July 05, 2009
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি’র পাল্টাপাল্টি আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তাব
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ, ইয়াজউদ্দিনের বৈধতার বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি আড়াই বছরেও
২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। এর দুই দিন পর ৩১ অক্টোবর তার অধীনে ১০ উপদেষ্টা শপথ নেন। তাদের শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিনের রাষ্ট্রপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স
পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ ১৪ দল নেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, নুরুল ইসলাম, দিলীপ বড়–য়া, মুন্সি আবদুল লতিফ, মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ও জি এম কাদের তিনটি রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনগুলোতে বলা হয়, সংবিধানের ৫৮/গ অনুচ্ছেদে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের মধ্যে যিনি সর্বশেষ অবসর নিয়েছেন এবং এই অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্য রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেবেন। তবে এমন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পাওয়া না গেলে বা তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ নিতে অসম্মতি জানালে তার পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টার পদে নিয়োগ দেয়া হবে। ৫৮/গ(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি কোনো অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পাওয়া না যায় বা তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে অসম্মতি জানান তবে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্যে যিনি সর্বশেষ অবসর গ্রহণ করেছেন এবং এই অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্য তাকে নিয়োগ দেবেন। তবে এমন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে পাওয়া না গেলে বা তিনি অসম্মতি জানালে তার অব্যবহিত পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ দেবেন। ৫৮/গ(৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতিকে পাওয়া না গেলে বা অসম্মতি জানালে রাষ্ট্রপতি যতদূর সম্ভব সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্য এমন ব্যক্তিকে প্রধান উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেবেন। এই বিধানগুলো কার্যকর করা না গেলে রাষ্ট্রপতি এই সংবিধানের অধীনে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এই বিধানগুলো পর্যায়ক্রমে অনুসরণ না করে নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে তিনি রাষ্ট্রপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয় রিট আবেদনে।
রিট আবেদনে আরো বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। সংবিধান অনুয়ায়ী তার পূর্ববর্তী প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরীকে এই পদ গ্রহণের আহ্বান জানাতে হবে। কিন্তু তাকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগেরও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এছাড়া রিট আবেদনগুলোতে আরো বলা হয়, সংবিধানের ৫৮/খ(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা অপর ১০ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা অপর উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমনকি তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে অপর উপদেষ্টাদের অবহিত পর্যন্ত করা হয়নি। সংবাদ মাধ্যম ও উপদেষ্টাদের বক্তব্যে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ফলে তিনি সংবিধান পরিপন্থীভাবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এফ এম মেজবা উদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ যথাযথভাবে সংবিধান অনুসরণ না করেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের জন্য পর্যায়ক্রমে যে সব ব্যবস্থা অনুসরণ করার বিধান রয়েছে তা অনুসরণ করেননি। এ বিষয়টি এখন সবার কাছেই প্রমাণিত। কিন্তু রিট তিনটি এখনো বিচারাধীন থাকায় আদালতের মাধ্যমে এ বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। এই রিট তিনটির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত। তাই আদালতের মাধ্যমে এই রিটের নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। এ কারণে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত রিট আবেদনটির নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি
গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীতে ৪০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ও টানা বৃষ্টিতে যান পারাপারে মারাত্মক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ও টানা বৃষ্টিতে এ রুটের ৩টি ঘাট প্লাবিত হওয়াসহ সবগুলো ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ও পদ্মা নদীতে ঢেউসহ স্রোত থাকায় বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এরুটে ভারী যানবাহন বিশেষ করে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাওয়ার ২টি ফেরি ঘাট এখনো অচল রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র একটি ঘাট সচল থাকায় যানবাহন লোড আনলোডের ক্ষেত্রে দেড় থেকে দুঘণ্টা সময় লাগছে। এর সঙ্গে ডাম্ব ফেরি রানীক্ষেত ও রানীগঞ্জ বিকল থাকায় যানজট পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। উভয় পাড়ে যাত্রীবাহী পরিবহনসহ প্রায় সাড়ে চার শতাধিক যানবাহন আটকা পড়েছে।
ট্রাক চালকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে কাঁচামালবাহী ট্রাক, রফতানিমুখী ট্রাকসহ সব ট্রাক পারাপার বন্ধ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ সহকারী ম্যানেজার শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন, অতি বৃষ্টি ও পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা জোড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।
ফখরুদ্দীন সরকারের কার্যক্রম তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি হচ্ছে
তিনি বলেন, শিল্পপতিদের কাছ থেকে ওই সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়েছে। যদিও সরকারের ভাষ্যে তখন ১৩০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
এদিকে বুধবার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাংসদ ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীরও বলেছেন, ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে নতুন রাজনৈতক দল গঠনে কারা জড়িত ছিলেন এবং তাদের পেছনে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে- সে বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
মাওয়াঘাটের যাত্রীরা স্বস্তিতে
জেলা পরিষদের খেয়া ঘাট এবং বিআইডব্লিউটিএ’র লঞ্চ ঘাট ইজারাদার লঞ্চের ভাড়া আদায় করে নিত। পরে জনপতি হিসাব করে সামান্য ভাড়া পরিশোধ করা হত। এখন জেলা পরিষদের খেয়া ঘাট ৩ টাকা, বিআইডব্লিউটিএ’র লঞ্চ ঘাট ইজারাদার ২ টাকা করে নিয়মানুযায়ী ভাড়া কাটে। আর লঞ্চের ভাড়া লঞ্চ টিকিট মাস্টার (কেরানী) জনপ্রতি ১২ টাকা করে আদায় করছে। এতে যাত্রীদের যেমন হয়রানি বন্ধ হয়েছে,তেমনি লঞ্চ মালিকরা তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে। এব্যাপারে এমএল নিপ্পন লঞ্চের মালিক এবং লঞ্চ মালিক সমিতির মাওয়া জোনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অনেক খুশি এখন। ইজারাদার সিন্ডিকেটের রাহুগ্রাসের অবসান ঘটলো দীর্ঘ ১৮ বছর পর। জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা আইনের মধ্যে থেকে জনস্বার্থে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের খেয়া ঘাটের টোল আদায় করছে এখন জেলা পরিষদেরই লোকজন।
পদ্মা সেতুতে রেলপথ কেন
আমি যেহেতু মাওয়া হয়ে একবার টুঙ্গিবাড়ীর পথে গিয়েছি, এবং আরিচা বা সাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পথে বহুবার চলাচলের অভিজ্ঞতা আমার আছে, আমার কাছে উক্ত বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারের যুক্তিটা গ্রহণযোগ্য, এমনকি অকাট্য মনে হয়েছে। যতদূর জানি, তাঁর লেখাটি ডেইলি স্টারে প্রকাশের পর, কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েছিল। কর্তৃপক্ষ সম্ভবত যমুনা সেতুর ফাটল প্রসঙ্গে উক্ত ইঞ্জিনিয়ার-অধ্যাপকের মন্তব্য উপেক্ষা করতে পারেননি। সেজন্য পদ্মা সেতু বিষয়ে সর্বশেষ সংবাদে দেখতে পাচ্ছি, সেতুটি দ্বিতল হবে। নিচতলায় থাকবে রেললাইন, উপরের তলায় সড়ক_ হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ কোনোমতেই পদ্মা সেতুর পরিকল্পনায়, রেললাইন বাদ দিতে চান না। যেটা জানতে ইচ্ছা হয় অথচ জানতে পারিনি। সেতুর উভয়দিকে রেললাইন টানতে হলে যে ব্যয় হবে সেই অর্থের জোগান কে দেবে, এ বিষয়ে আদৌ কোনো কথাবার্তা হয়েছে কি-না। এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা বা প্রতিশ্রুতি ছাড়া দ্বিতল সেতু, এবং রেললাইনসহ অনেকটা ঘোড়ার আগে গাড়ির মতো শোনায়।
আমি স্বীকার করছি যে, অসম্পূর্ণ সংবাদের ওপর ভিত্তি করে এ লেখা কারও কোনো কাজে দেবে না। আমি যে প্রশ্নগুলি করেছি, তার উত্তর যদি কোনো সূত্র থেকে পাই, আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ হবো। আমার একান্ত নির্ভরতা সংবাদপত্রের ওপর। চার-পাঁচটি সংবাদপত্র আমি যথেষ্ট মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকি। এ পর্যন্ত দু'দিকে রেল-যোগাযোগ বিশিষ্ট পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গে এই প্রয়োজনীয় তথ্যটি কোথাও পড়েছি বলে আমার মনে পড়ে না। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে কর্তৃপক্ষের অনেক চমকপ্রদ চিন্তার সংবাদ আমরা পাচ্ছি। কিন্তু বড়ই অসম্পূর্ণ সংবাদ।
সবচেয়ে হতাশাজনক হলো, রেলওয়ে সংক্রান্ত যে সকল আশাব্যঞ্জক সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে বিগত বছরগুলোতে, বাস্তবে, বাংলাদেশের রেলওয়ে-ব্যবস্থা এক করুণ অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘকাল যাবৎ। সড়কপথের বিস্তৃতি ঘটেছে এবং বিস্তৃতির মাত্রাও ঈর্ষণীয়। একই সঙ্গে, রেলপথের সংকোচন ও অবহেলার দৃশ্যটি দুঃখজনক বললেও যথেষ্ট বলা হয় না। চূড়ান্ত অবহেলা-অব্যবস্থাপনা-দুর্নীতির শিকার হয়েছে রেলপথ। যতগুলি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সবাই রেলপথকে অবহেলা করেছে। কেন রেলগাড়িতে চড়ব নামে একটি লেখা পড়লাম একটি দৈনিকে। কী পরিমাণ দায়িত্বহীনতা ঘিরে আছে আমাদের রেলপথ ব্যবস্থাপনায়, তার এক ভয়াবহ ছবি এঁকেছেন লেখক। খুলনা থেকে দিনাজপুর যাত্রী, তাঁর অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে। এক সময় আমি ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে রেলগাড়িতে যাতায়াত করেছি। সর্বশেষ চট্টগ্রাম-ঢাকা যাত্রা_ রাতের ট্রেনে, খুবই কষ্টকর ও হতাশাজনক_ সর্বশেষ ঢাকা-রাজশাহী যাত্রা, অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এ থেকে যে সিদ্ধান্ত টানা যায়, আমরা চাইলে রেলপথে ভালো সেবা দিতে পারি। তবে যদি না দিই, আমি কর্মচারী, আমাকে দুষবেন না। আসল দায়িত্ব যাঁর, বা যাঁদের, দুষবেন তাঁদেরকে।
আমাদের গার্মেন্ট শিল্প_ যদিও এটা শিল্পপদবাচ্য কি-না, প্রশ্ন রয়েছে, এবং একজন সাবেক অর্থমন্ত্রীর মতে, মোটেও নয়_ দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রার শতকরা পঁচাত্তর ভাগ যদি এই খাত থেকে আসে, তাহলে এর গুরুত্ব কতখানি, যে কেউ বুঝতে পারবে।
আশুলিয়ায় ক'দিন আগে একটি গার্মেন্ট কারখানা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছে একদল শ্রমিক। এই কারখানাটি সম্বন্ধে বলা হয়েছে, এর শ্রমিকরা নিয়মিত বেতন পায়, এর নারী শ্রমিকেরা বলেছে, তাদের শিশু-সন্তানদের জন্য এখানে ভালো ব্যবস্থা আছে, মালিকদের প্রতি তাদের কোনো নালিশ নেই। এটি একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরি, এখানকার শ্রমিকেরা এই অগি্নসংযোগের সঙ্গে জড়িত ছিল না কেউ। বহিরাগত একদল শ্রমিক, এবং ঝুট-ব্যবসায়ী একদল লোক এবং সেই সঙ্গে সব রকম দুষ্কর্মে হাত পাকিয়েছে, এমন কিছু লোক, এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। ওই কারখানার শ্রমিকেরা সাধ্যমতো বাধা দিয়েছে আক্রমণকারী দলকে, কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেনি। সংবাদপত্রে লিখেছে, পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখেছে, বাধা দেয়নি। আরও লিখেছে, যেসব কারখানা থেকে পুলিশ নিয়মিত টাকা পায়, সেগুলি রক্ষার দায়িত্ব তারা ঠিকই পালন করে।
যারা পুলিশকে নিয়মিত বখরা দেয় না, পুলিশ তাদের চেনে না। গুরুতর অভিযোগ।
বিশেষ করে আশুলিয়া এলাকায় এ ধরনের হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে এলাকার গার্মেন্ট-কারখানাগুলি। বলা হচ্ছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এটা করছে ইচ্ছাকৃতভাবে_ এর সঙ্গে শ্রমিকদের চাওয়া-পাওয়াজনিত ক্ষোভের কোনো সম্পর্ক নেই। এই স্বার্থান্বেষী মহল কারা হতে পারে? কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। তবে আশুলিয়া এলাকায় এত বেশি এ ধরনের অগি্নসংযোগ-ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে যে, এ সম্পর্কে একটা গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সরকার বলছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে ভবিষ্যৎ উচ্ছৃঙ্খলা থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং ইতিমধ্যেই তা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের ক্ষোভের বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত হবে না। ক্ষোভ আছে বলেই ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের উত্তেজিত করা সম্ভব হয়েছে। কারখানার মালিকরা সবাই যে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিচ্ছেন, তা হয়তো নয়।
শ্রমিকেরা যেন তাদের নূ্যনতম পাওনা পায়, সে উদ্দেশ্যে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। কিছুটা ফলপ্রসূ হয়েছিল সে উদ্যোগ। তবে মালিকপক্ষের সকলকে নিয়মনীতির পথে আনতে পারেনি বলেই জেনেছি ওই সরকার। এ সরকার, নির্বাচিত ও জনগণের সরকার, যদি এদিকে মনোযোগ দেয়, সেটা প্রশংসনীয় কাজ হবে। নির্বাচিত নতুন সংসদে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য রয়েছে, এ সংসদ সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গত দাবি-দাওয়ার প্রতি কতটা সংবেদনশীল হবে, সেটা সরকারের গৃহীত কার্যক্রমেই স্পষ্ট হবে। শ্রমিকদের অভুক্ত-অসন্তুষ্ট রেখে গার্মেন্ট শিল্প নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনবে, এটা মালিকপক্ষ নিশ্চয়ই চান না।
বাংলাদেশের দরিদ্র-বঞ্চিত নারীদের শ্রম-ঘামে এ দেশের গার্মেন্ট শিল্প তার বর্তমান অবস্থানে এসে পেঁৗছেছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় নারী এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছে। নারীর ক্ষমতায়নে এ শিল্পের বড় ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সেদিক দিয়ে এই শিল্প যাতে টিকে থাকে, আরও বিকশিত হয়, আরও উন্নত হয়, সেটা দেখা সরকারের কর্তব্য। এই শিল্পের সুবাদে বাংলাদেশের নারী আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে। এর সামাজিক মূল্য অপরিসীম।
আশুলিয়া এলাকা সম্বন্ধে আমার ধারণা, এখানে সমাজবিরোধী ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। এখানে অপরাধের চিত্রটি রীতিমতো উদ্বেগজনক। ইপিজেড ছাড়াও এ এলাকায় বেশ কিছু শিল্প গড়ে উঠেছে টঙ্গী-নয়ারহাট, টঙ্গী-আশুলিয়া সড়কগুলি বরাবর। অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ এই এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো দরকার।
হা-মীম গ্রুপের কারখানায় যে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে, সেজন্য ওই গ্রুপের মালিকপক্ষের প্রতি নেত্রীস্থানীয় অনেক ব্যক্তি সহানুভূতি জানিয়েছেন। আমিও জানাচ্ছি আমার সহানুভূতি। সকল ক্ষয়ক্ষতি জয় করে এই গ্রুপ আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। সকলের শুভেচ্ছা মাথায় নিয়ে তাঁরা নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করবেন, সন্ত্রাসের কাছে পরাজয় স্বীকার করবেন না, এ আমার প্রার্থনা, এ আমার বিশ্বাস।
লেখক : শিক্ষাবিদ
Saturday, July 04, 2009
টেঙ্গরশাহী জামে মসজিদ
ঐতিহ্যবাহী বিক্রমপুরের হাজারো ঐতিহ্য আর অসংখ্য স্থাপনার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অন্তর্গত মিরকাদিম পৌরসভার টেঙ্গর নামক স্থানে টেঙ্গরশাহী মসজিদটি অন্যতম। এটি পাঠান সুলতান কররানীর শাসন আমলের ( ১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দে ) মালেক আব্দুল্লাহ নামক একজন কাজী নির্মাণ করেন। বিক্রমপুরে পাল বংশের শাসনামলে বিক্রমপুর থেকে হিন্দু ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে রাষ্ট্রধর্ম বৌদ্ধ মত প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে পাল বংশ পতনের সঙ্গে সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের নাম-নিশানা বিক্রমপুর থেকে মুছে যায়। এমনিভাবে মুছে যায় যেন কোনো কালেই এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। পাল বংশের পতনের পর সেন রাজবংশ উদ্ভবের সঙ্গে সঙ্গে পুনরাবির্ভাব ঘটেছিল সে সম্পর্কে ‘আইন-ই আকবরী’তে উল্লেখ রয়েছে। সেন বংশীয় রাজাদের সর্বশেষ রাজা বল্লাল সেনের রাজধানী ছিল রামপাল। কোনো এক কিংবদন্তি ঘটনার মধ্য দিয়ে হিন্দু রাজত্বের অবসান ঘটে এবং মুসলিম রাজত্বের আবির্ভাব হয়। সেন বংশের অবসানের পর বিক্রমপুর মূলত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সামন্ত ভূস্বামী ও জমিদাররাই শাসন করতে থাকেন। বিক্রমপুরে পাঠান রাজত্বের অবসান ও বার ভুইয়া, চাঁদ রায়, কেদার রায়ের পরাজয়ের পর এখানে মুঘল রাজত্বের সূচনা হয়। তখন পুরো বিক্রমপুর একটি পরগনায় পরিণত হয়। বর্তমানে এটি মুন্সীগঞ্জ জেলা হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। একটি প্রাচীরবেষ্টিত ভূমিতে এ মসজিদটি অবস্থিত। এ মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৩৬ ফুট ও প্রস্থ ৩৪ ফুট। মসজিদের পূর্বে চারটি, পশ্চিমে চারটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে দুটি করে মোট ১২টি খিলানের ওপর মসজিদটি নির্মিত। মসজিদের দেয়াল ৫ ফুট পুরু, চতুর্দিকে বেষ্টিত একটি মজবুত স্থাপনা। বর্গাকৃতি এই মসজিদের প্রতিটি বাহু ৩১ ফুট। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের মূল আকর্ষণ গম্বুজেই অনেকটা নিহিত রয়েছে। এটির সর্বোচ্চ শিখরে একটি কারুকার্যম-িত শিখর দ- বিদ্যমান। গম্বুজের উপরের গোলার্ধে ও নিচের অংশে চিনামাটির মধ্যযুগের কারুকাজ এখনো চোখে পড়ে। মসজিদের ভেতরে বর্গাকৃতি অবকাঠামোতে এক একটি খিলানের ৮ ফুট উপর থেকে গম্বুজের স্থাপনাশৈলী পর্যায়ক্রমে গম্বুজের কেন্দ্রবিন্দুতে মিলিত হয়েছে। অপরূপ কারুকার্যম-িত মসজিদের ভেতরেও মধ্যযুগীয় ত্রিভুজাকৃতির সৌন্দর্যের শোভা লক্ষ্যণীয়। পূর্ব দিকে মসজিদের একটি প্রবেশ পথ রয়েছে। দুপাশে দুটি করে জানালা এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে আরো মোট দুটি জানালা রয়েছে। মসজিদের ভেতরের পশ্চিম দিকে মধ্যভাগে একটি বড় মিম্বর এবং দুপাশে অনুরূপ দুটি ছোট মিম্বর রয়েছে। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে জানালার দুপ্রান্তে দুটি করে মোট চারটি চূড়ঙ্গী রয়েছে। এগুলোতে মসজিদের সংরক্ষিত কোরআন, কিতাব ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এ জামে মসজিদটি সুদীর্ঘকাল থেকে স্থানীয় মুসল্লিদের একমাত্র নামাজ আদায়ের পীঠস্থান। এ মসজিদে একটি মিনার রয়েছে তার উচ্চতা ৬০ ফুট। প্রতিদিন অসংখ্য লোক এখানে নামাজ আদায় করেন। তাছাড়া এ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি দেখার জন্য বহু লোকের সমাগম ঘটে। অভিযোগ আছে যে, মসজিদের শিলালিপিটি জোর করে পশ্চিম পাড়ার লোকজন নিয়ে যায়। তাই মূল মসজিদের গায়ে আরবি শিলালিপি দেখা যায় না। পরবর্তী সময়ে এখানে একটি বাংলা শিলালিপি স্থাপন করা হয়েছে। বাংলা শিলালিপিটি এরূপÑ ‘টেঙ্গর শাহী মসজিদ। স্থাপিত ৮৭৫ বাংলা, রিকাবী বাজার মুন্সিগঞ্জ।’ বাংলা শিলালিপির সঙ্গে আরবি শিলালিপির তেমন কোনো মিল নেই। মোয়াজ্জেম শামীম হুজুর জানান, অর্থ সংকটে মসজিদের অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। মসজিদটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে তিনি জানালেন। ৪৩৬ বছরের পুরনো এ মুসলিম নিদর্শন। টেঙ্গর শাহী মসজিদটি শুধু মুন্সীগঞ্জের ইতিহাসই বহন করে না, সারা বাংলাদেশের মুসলমানদের ইতিহাস বহন করে চলেছে।