বিক্রমপুরের ইতিহাস শুধু একটি পরগনার ইতিহাস নহে, ইহা বঙ্গেরই ইতিহাস...
Wednesday, July 08, 2009
সারা বিশ্বের মানুষ যে কোনো বাঁধের বিরুদ্ধে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
কোনো বাঁধই মানুষের বৃহত্তর কল্যাণে আসেনি। যে কারণে সারা বিশ্বের মানুষ আজ যে কোনো বাঁধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কথা বলছে। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্রের আয়োজেন ‘টিপাইমুখ বাঁধ ও দেশের স্বার্থে করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এ কথা বলেছেন। এতে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আহমেদ কামাল, অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, ইঞ্জিনিয়ার শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, হায়দার আকবর খান রনো, বাসদ আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান, টিপু বিশ্বাস, অধ্যাপক পিয়াস করিম, প্রবন্ধকার জোনায়েদ সাকি, প্রকৌশলী ম ইনামুল হক প্রমুখ। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বারাক উপত্যকা বিপদে আছে। টিপাইমুখে বাঁধ দেয়া হলে কুশিয়ারা, সুরমা, মেঘনাসহ বিভিন্ন নদীর ওপর এর প্রভাব পড়বে। ১৯৮৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ সে দেশের বাঁধগুলোকে কার্যকর না করার কথা ভাবছে। দেশের জনগণ ফারাক্কা থেকে শিক্ষা নিয়ে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। জনগণের মতামত রাজনৈতিকভাবে প্রতিফলনের দায়িত্ব সরকারের। টিপাইমুখ বাঁধ হলে এর প্রভাব পড়বে জীববৈচিত্র্যে। বাংলাদেশে ৫৭টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টি এসেছে প্রতিবেশী ভারত থেকে। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। যে কোনো মূল্যে ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। প্রবন্ধকার জোনায়েদ সাকি বলেন, দুনিয়াব্যাপী বড় বাঁধের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতিবাদ, বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বাঁধ নির্মাণে বেশিরভাগ অর্থায়নকারী বিশ্বব্যাংক এডিবিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আওয়াজ উঠেছে। তারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ওয়ার্ল্ড কমিশন অন ড্যাম নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে। টিপাইমুখ বাঁধের ফলে মনিপুরের আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের শত বছরের পুরোনো বাপ-দাদার ভিটে থেকে উচ্ছেদ হবে। নদীকেন্দ্রিক তাদের জীবন ও সংস্কৃতির ওপর তা হবে মারাত্মক আঘাত। আর টিপাইমুখের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তাও মনিপুরবাসীর জন্য নয়। মনিপুরবাসীর চাহিদা যেখানে ১৫০ মেগাওয়াট সেখানে, ওই বাঁধের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা হতে যাচ্ছে ১৫০০ মেগাওয়াট। ফলে এ বিদ্যুৎ চলে যাবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বোম্বে ও দিল্লির ঝলমলে বাতির নগরীগুলোর জৌলুস বাড়াতে। অন্যদিকে ৫০ হাজারের বেশি মনিপুরবাসীর জীবন পড়বে ঘোর অমানিশার মুখে।
মুন্সীগঞ্জে গৃহবধূ নির্যাতন
মুন্সীগঞ্জের রমজানবেগ এলাকায় এক গৃহবধূকে নির্যাতন চালিয়েছে তার স্বামী। আহত গৃহবধূ রুমা বেগম হাসপাতালে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হলেও সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গৃহবধূ অচেতন অবস্থায় ছিল। জানা গেছে, পৌরসভার রমজানবেগ এলাকার আবদুল খালেক ভূঁইয়ার মেয়ে রুমা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের ময়নাল হক ভূঁইয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ২ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণ দেয়া হয়। সম্প্রতি শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও ৫ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে স্ত্রী রুমা আক্তার অপারগতা প্রকাশ করলে রোববার রাতে স্বামী ময়নাল হক তাকে প্রহার করে। এতে রুমা আক্তার সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে গতকাল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার স্বজনরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
Tuesday, July 07, 2009
ফুঁসে উঠেছে কীর্তিনাশা পদ্মা
ভাঙছে নদী, বাড়ছে মানুষের আহাজারি। ফুঁসে উঠেছে পদ্মা। কীর্তিনাশার রুদ্রমূর্তি নদী তীরবর্তী মানুষের জন্য এখন আতংক। শেষ সম্বল ভিটেমাটিটুকু রক্ষার প্রাণান্ত চেষ্টায় মরিয়া নদীসিকস্তি বাসিন্দারা। কিন্তু তাদের এই প্রয়াস ব্যর্থ হচ্ছে ফুলে ফেঁপে ওঠা রাক্ষুসী পদ্মার ভয়ংকর গ্রাসের কাছে। সর্বহারা উদ্বাস্তুদের মতো খোলা আকাশের নিচে বসবাস আর দিনযাপন এখন তাদের ভাগ্যলিখন। সোমবার সরেজমিন এমনই অসহায়ত্বের চিত্র দেখা গেছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাঙনকবলিত ভাগ্যকুল ও বাঘড়া এলাকায়। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পরিবারের লোকজন যখন ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র নেয়ার কাজে ব্যস্ত, তার পাশেই পদ্মার তীরে রোদ-বৃষ্টির মাঝে খোলা আকাশের নিচে ছাউনিবিহীন পঞ্চাশোর্ধ্ব মমতাজ বেগম রান্নার কাজে নিয়োজিত। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভাগ্যকুলের বাসিন্দা মমতাজ বেগম বললেন, জমিজমা সবই গেছে। এখন ১০ শতাংশের শেষ ভিটেমাটি। তাও পদ্মা কেড়ে নিল।
একই গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব উন্নত নেছা জীবিকার অবলম্বন গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি রক্ষায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, সবই তো গেল এখন অন্যের বাড়িতে ঠিকানা খুঁজতাছি। সমবয়সী ননী গোপাল জানান, জšে§র পর এরকম ভাঙন আর দেখিনি। বাপ-দাদার রেখে যাওয়া চার একর জমি, ২৫ শতাংশের বাড়িÑ সবই কেড়ে নিয়েছে পদ্মা।
উপজেলার ভাঙনকবলিত ভাগ্যকুল ও বাঘড়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী জানান, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে শত শত বসতভিটাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। প্রতি মুহূর্তেই পদ্মার প্রবল ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। এরই মধ্যে পদ্মা কেড়ে নিয়েছে উপজেলার কবুতরখোলা থেকে বাঘড়াবাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকার ৩ হাজার একর বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে নদী তীরবর্তী উত্তর কামারগাঁও, ভাগ্যকুল, পূর্ব বাঘড়া, বাঘড়া, কেদারপুর, মাগডাল, মান্দ্রা, কবুতরখোলা গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে জেলার ঐতিহ্যবাহী ভাগ্যকুল ও বাঘড়া বাজারের ৭ শতাধিক দোকানপাট। হুমকির মুখে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘড়া বাসুদেব মন্দির, স্বরূপ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, কামারগাঁও রাধা গোবিন্দ মন্দির, ৯টি মসজিদ, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঢাকা-দোহার সড়কসহ দুই সহস াধিক বাড়িঘর।
ভাগ্যকুল ও বাঘড়া বাজার রক্ষায় সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গ্রামবাসী নানা পন্থায় বাঁশের বেড়া বেঁধে ভাঙন ঠেকাতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাগ্যকুল ও বাঘড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাবিত ৫০ লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলার পরিবর্তে ১০ লাখ টাকার গজারি প্রোটেকশন প্রকল্প কোন কাজেই আসছে না।
অবিরাম বর্ষণ ও উজান নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার ভাগ্যকুল পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ২ মিটার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীরভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ আমলের দেশের অন্যতম প্রখ্যাত নৌবন্দর ঐতিহ্যবাহী ভাগ্যকুলের মানুষের ভাগ্য এখন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। তাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে রাক্ষুসী পদ্মা।
লৌহজং থেকে যুগান্তর প্রতিনিধি শেখ সাইদুর রহমান টুটুল জানান, পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করার পর এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই পদ্মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে পদ্মা গ্রাস করেছে লৌহজংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। বসতভিটা, ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা ভাঙনের গর্জন নিয়ে পদ্মা ধেয়ে আসছে মাওয়া-কবুতরখোলার দিকে। ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের মানচিত্র। সম্প্রতি মাওয়া-ভাগ্যকুল, কবুতরখোলা, বাগড়া এলাকায় প্রায় ৭ কিমি. এলাকাজুড়ে ভাঙনের খেলা চলছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই মাওয়া-কবুতরখোলা-ভাগ্যকুল প্রকল্প বাঁধ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী মান্দ্রা, কবুতরখোলা, কামারগাঁও, মাঘঢার, মাওয়াকান্দিপাড়া, যশলদিয়া গ্রামের দেড় সহস াধিক পরিবারে চরম আতংক দেখা দেয়। গত ১৫ বছরে লৌহজং উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রাম পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছেÑ ধাইদা, তেউটিয়া, লৌহজং, গাওদিয়া ইউনিয়নের আংশিক ও কনকসার ইউনিয়নের আংশিক, কুমারভোগ ইউনিয়নের আংশিক। এসব ইউনিয়নের ৭টি সম্পূর্ণ এবং সদর ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম চলে গেছে নদীগর্ভে। এসব এলাকার হাজার হাজার পরিবার সহায়-সম্বলহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
গাওদিয়ায় ছাত্তার মিয়া (৭০) সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, পরপর চারবার ভাঙনের পর এবার এসে উঠেছি গাওদিয়া গ্রামে। এই ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।
পদ্মা পাড়ের শত শত বাসিন্দা ভাঙনের কবলে পড়ে সহায়-সম্বলহীন হয়েছে। বর্তমানে কনকসারের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অংশ ইতিমধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। অপর অংশটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। অপরদিকে লৌহজং থানা ভবন, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস হুমকির মুখে রয়েছে। ডহরী, কলমা, সামুরবাড়ি এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নদীভাঙন রোধে এখনও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তীরবর্তী বাসিন্দারা নানা পন্থায় এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একই গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব উন্নত নেছা জীবিকার অবলম্বন গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি রক্ষায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, সবই তো গেল এখন অন্যের বাড়িতে ঠিকানা খুঁজতাছি। সমবয়সী ননী গোপাল জানান, জšে§র পর এরকম ভাঙন আর দেখিনি। বাপ-দাদার রেখে যাওয়া চার একর জমি, ২৫ শতাংশের বাড়িÑ সবই কেড়ে নিয়েছে পদ্মা।
উপজেলার ভাঙনকবলিত ভাগ্যকুল ও বাঘড়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী জানান, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে শত শত বসতভিটাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। প্রতি মুহূর্তেই পদ্মার প্রবল ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। এরই মধ্যে পদ্মা কেড়ে নিয়েছে উপজেলার কবুতরখোলা থেকে বাঘড়াবাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকার ৩ হাজার একর বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে নদী তীরবর্তী উত্তর কামারগাঁও, ভাগ্যকুল, পূর্ব বাঘড়া, বাঘড়া, কেদারপুর, মাগডাল, মান্দ্রা, কবুতরখোলা গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে জেলার ঐতিহ্যবাহী ভাগ্যকুল ও বাঘড়া বাজারের ৭ শতাধিক দোকানপাট। হুমকির মুখে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘড়া বাসুদেব মন্দির, স্বরূপ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, কামারগাঁও রাধা গোবিন্দ মন্দির, ৯টি মসজিদ, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঢাকা-দোহার সড়কসহ দুই সহস াধিক বাড়িঘর।
ভাগ্যকুল ও বাঘড়া বাজার রক্ষায় সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গ্রামবাসী নানা পন্থায় বাঁশের বেড়া বেঁধে ভাঙন ঠেকাতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাগ্যকুল ও বাঘড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাবিত ৫০ লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলার পরিবর্তে ১০ লাখ টাকার গজারি প্রোটেকশন প্রকল্প কোন কাজেই আসছে না।
অবিরাম বর্ষণ ও উজান নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার ভাগ্যকুল পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ২ মিটার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীরভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ আমলের দেশের অন্যতম প্রখ্যাত নৌবন্দর ঐতিহ্যবাহী ভাগ্যকুলের মানুষের ভাগ্য এখন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। তাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে রাক্ষুসী পদ্মা।
লৌহজং থেকে যুগান্তর প্রতিনিধি শেখ সাইদুর রহমান টুটুল জানান, পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করার পর এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই পদ্মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে পদ্মা গ্রাস করেছে লৌহজংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। বসতভিটা, ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা ভাঙনের গর্জন নিয়ে পদ্মা ধেয়ে আসছে মাওয়া-কবুতরখোলার দিকে। ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের মানচিত্র। সম্প্রতি মাওয়া-ভাগ্যকুল, কবুতরখোলা, বাগড়া এলাকায় প্রায় ৭ কিমি. এলাকাজুড়ে ভাঙনের খেলা চলছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই মাওয়া-কবুতরখোলা-ভাগ্যকুল প্রকল্প বাঁধ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী মান্দ্রা, কবুতরখোলা, কামারগাঁও, মাঘঢার, মাওয়াকান্দিপাড়া, যশলদিয়া গ্রামের দেড় সহস াধিক পরিবারে চরম আতংক দেখা দেয়। গত ১৫ বছরে লৌহজং উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রাম পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছেÑ ধাইদা, তেউটিয়া, লৌহজং, গাওদিয়া ইউনিয়নের আংশিক ও কনকসার ইউনিয়নের আংশিক, কুমারভোগ ইউনিয়নের আংশিক। এসব ইউনিয়নের ৭টি সম্পূর্ণ এবং সদর ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম চলে গেছে নদীগর্ভে। এসব এলাকার হাজার হাজার পরিবার সহায়-সম্বলহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
গাওদিয়ায় ছাত্তার মিয়া (৭০) সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, পরপর চারবার ভাঙনের পর এবার এসে উঠেছি গাওদিয়া গ্রামে। এই ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।
পদ্মা পাড়ের শত শত বাসিন্দা ভাঙনের কবলে পড়ে সহায়-সম্বলহীন হয়েছে। বর্তমানে কনকসারের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অংশ ইতিমধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। অপর অংশটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। অপরদিকে লৌহজং থানা ভবন, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস হুমকির মুখে রয়েছে। ডহরী, কলমা, সামুরবাড়ি এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নদীভাঙন রোধে এখনও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তীরবর্তী বাসিন্দারা নানা পন্থায় এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পদ্মার ভাগ্যকুল পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি
গত তিনদিনে পদ্মা নদীর ভাগ্যকুল পয়েন্টে ১০ সে.মি. পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলার বাঘরা, ভাগ্যকুল, চারিপাড়া, কামারগাঁও, মাণ্ডা, কবুতরখোলাসহ নদীর তীরবর্তী ৩ কিলোমিটার এলাকায় শুরু হয়েছে ভাঙন। এছাড়া, ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ভাগ্যকুল পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাঘরা স্বরূপ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, ভাগ্যকুল হরেন্দ্র লাল উচ্চ বিদ্যালয়, কামারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৪টি প্রাইমারি স্কুল, ৯টি মসজিদসহ বাঘরা ও ভাগ্যকুল বাজারের ৪ শতাধিক দোকানপাট। ভাঙন প্রতিরোধে গত ২ মাস আগে ৫ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ প্রদান করা হলেও কাজ চলছে ঢিমেতালে। ভাগ্যকুল এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন, সাহায্য চেয়ে স্থানীয় এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
Subscribe to:
Posts (Atom)
