Wednesday, July 08, 2009

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী সালেহা হোসেনের ইন্তেকাল


বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেমের স্ত্রী সালেহা হোসেনের ইন্তেকালের খবর পেয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলীয় নেতৃবৃন্দ গতকাল তার বাসভবনে যান
সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী বেগম সালেহা হোসেন (৬২) গতকাল বিকেল পৌনে ৬টায় গুলশানের নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বিএনপি চেয়াপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বেগম জিয়া রাত ৯টা ১৫ মিনিটে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের গুলশানের বাসভবনে যান। বেগম জিয়া সেখানে ৩০ মিনিট অবস্খান করে মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্তবনা দেন। তিনি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে বলেন, আপনি একজন রাজনীতিক হিসেবে জীবনে বহুজনকে সান্তবনা দিয়েছেন। এখন নিজের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের সান্তবনা দিন।
বেগম সালেহা হোসেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি একজন সুসাহিত্যিক ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৩। আজ বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমার জানাজা শেষে বনানী কবরস্খানে তাকে দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় বেগম জিয়া বলেন, মরহুমা সালেহা হোসেন শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন। তিনি মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
অপর এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনও গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
গতকাল গুলশানের বাসভবনে গিয়ে মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান বিএনপি স্খায়ী কমিটি সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব সেলিমা রহমান, ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদিন ফারুক, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, বিজেপি মহাসচিব শামিম আল মামুন, জাগপা সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, বিএনপি সহপ্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন খান মোহন, চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, ব্যবসায়ী নেতা ফজলুর রহমান, বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, আশির দশকের ছাত্রনেতা সরওয়ার আজম খান, শাজাহান মিয়া সম্রাট, অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব, আলী আকবর চুন্নু, আলী আহম্মদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর বহু নেতাকর্মী। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ থেকে হাজার হাজার লোক খবর পেয়ে মরহুমার বাসভবনে ছুটে আসেন।
বিএনপি নেতা মশিউর রহমানের চাচার ইন্তেকালে শোক : ঝিনাইদহ জেলার বিএনপি’র আহ্বায়ক মশিউর রহমানের চাচা ইনতাজ আলী বিশ্বাসের ইন্তেকালে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি মরহুমের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
জাসাস নেতার পিতার মৃত্যুতে শোক : জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্খা জাসাস ঢাকা মহানগর নেতা জাকির হোসেন রোকনের পিতা মুকুল হোসেনের মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি ৬ মাসে ৩ বার ভারপ্রাপ্ত…

মুন্সীগঞ্জে ছয় মাসে তিনজন সিভিল সার্জন অবসরে যাওয়ায় এক ডাক্তারকে তিনবার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হতে হয়েছে। এতে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার সবক’টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। জেলার ১৫ লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ডাক্তাররা তাদের কর্মস্থলে থাকছেন গড়হাজির। এমনকি সিভিল সার্জন না থাকায় ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঠিক সময়ে তাদের বেতন উত্তোলন করতে পারছেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিভিল সার্জন মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সিভিল সার্জন ডা. এনায়েত করিম ৩০ ডিসেম্বর ২০০৮-এ অবসরগ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ইএনটি কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রশীদ। ২১ ফেব্রুয়ারি ডা. সাজেদুল ইসলাম সিভিল সার্জন হিসেবে মুন্সীগঞ্জে যোগ দেন। তিনি ২৮ মে অবসরে চলে গেলে আবার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হন ডা. আবদুর রশীদ। ২২ জুন ডা. সুদীপ কুমার বোস সিভিল সার্জন যোগ দেয়ার আটদিন পর এলপিয়ারে চলে যান। ৩০ জুন বিকাল থেকে ডা. আবদুুর রশীদ ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
সিভিল সার্জনের পিএ মো. মিজান জানান, তিনি (সিভিল সার্জন) ঘনঘন চলে যাওয়ায় সঠিক সময়ে বেতন তোলা যায় না। এতে কর্মচারীদের অসুবিধা হয়।

সারা বিশ্বের মানুষ যে কোনো বাঁধের বিরুদ্ধে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

কোনো বাঁধই মানুষের বৃহত্তর কল্যাণে আসেনি। যে কারণে সারা বিশ্বের মানুষ আজ যে কোনো বাঁধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কথা বলছে। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্রের আয়োজেন ‘টিপাইমুখ বাঁধ ও দেশের স্বার্থে করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এ কথা বলেছেন। এতে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আহমেদ কামাল, অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, ইঞ্জিনিয়ার শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, হায়দার আকবর খান রনো, বাসদ আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান, টিপু বিশ্বাস, অধ্যাপক পিয়াস করিম, প্রবন্ধকার জোনায়েদ সাকি, প্রকৌশলী ম ইনামুল হক প্রমুখ। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বারাক উপত্যকা বিপদে আছে। টিপাইমুখে বাঁধ দেয়া হলে কুশিয়ারা, সুরমা, মেঘনাসহ বিভিন্ন নদীর ওপর এর প্রভাব পড়বে। ১৯৮৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ সে দেশের বাঁধগুলোকে কার্যকর না করার কথা ভাবছে। দেশের জনগণ ফারাক্কা থেকে শিক্ষা নিয়ে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। জনগণের মতামত রাজনৈতিকভাবে প্রতিফলনের দায়িত্ব সরকারের। টিপাইমুখ বাঁধ হলে এর প্রভাব পড়বে জীববৈচিত্র্যে। বাংলাদেশে ৫৭টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টি এসেছে প্রতিবেশী ভারত থেকে। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। যে কোনো মূল্যে ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। প্রবন্ধকার জোনায়েদ সাকি বলেন, দুনিয়াব্যাপী বড় বাঁধের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতিবাদ, বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বাঁধ নির্মাণে বেশিরভাগ অর্থায়নকারী বিশ্বব্যাংক এডিবিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আওয়াজ উঠেছে। তারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ওয়ার্ল্ড কমিশন অন ড্যাম নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে। টিপাইমুখ বাঁধের ফলে মনিপুরের আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের শত বছরের পুরোনো বাপ-দাদার ভিটে থেকে উচ্ছেদ হবে। নদীকেন্দ্রিক তাদের জীবন ও সংস্কৃতির ওপর তা হবে মারাত্মক আঘাত। আর টিপাইমুখের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তাও মনিপুরবাসীর জন্য নয়। মনিপুরবাসীর চাহিদা যেখানে ১৫০ মেগাওয়াট সেখানে, ওই বাঁধের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা হতে যাচ্ছে ১৫০০ মেগাওয়াট। ফলে এ বিদ্যুৎ চলে যাবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বোম্বে ও দিল্লির ঝলমলে বাতির নগরীগুলোর জৌলুস বাড়াতে। অন্যদিকে ৫০ হাজারের বেশি মনিপুরবাসীর জীবন পড়বে ঘোর অমানিশার মুখে।

মুন্সীগঞ্জে গৃহবধূ নির্যাতন

মুন্সীগঞ্জের রমজানবেগ এলাকায় এক গৃহবধূকে নির্যাতন চালিয়েছে তার স্বামী। আহত গৃহবধূ রুমা বেগম হাসপাতালে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হলেও সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গৃহবধূ অচেতন অবস্থায় ছিল। জানা গেছে, পৌরসভার রমজানবেগ এলাকার আবদুল খালেক ভূঁইয়ার মেয়ে রুমা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের ময়নাল হক ভূঁইয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ২ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণ দেয়া হয়। সম্প্রতি শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও ৫ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে স্ত্রী রুমা আক্তার অপারগতা প্রকাশ করলে রোববার রাতে স্বামী ময়নাল হক তাকে প্রহার করে। এতে রুমা আক্তার সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে গতকাল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার স্বজনরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।